শিল্প ও সাহিত্য

সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে সাখাওয়াত ফাহাদের ছোট গল্প: ঘর

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯

শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ■ বাংলাদেশ প্রেস

দেশ টা এখন আমার দেশ নয়

নামঃ আজাদ

জন্মস্থানঃ কাশ্মীর, জেরুজালেম, আরাকান, সিরিয়া কিংবা ইয়েমেন।

শ্রেণীঃ নিন্মবিত্ত, নিপীড়িত।

চাইলেই পা ফেলা যায়না সীমানার বাইরে। চাইলে অসময়ে পাওয়া যায়না ভাত-কাপড়, কবিতা-গান-উৎসব। পৃথিবী সমান ইচ্ছে গুলো সীমিত ভূমিতে প্রতিনিয়ত লুট হতে থাকে। সূর্যের আলো বাদে আর সকল প্রকার আলো আমাদের জন্যে নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ সবুজ পাতা, পাখির কিচিরমিচির, ঝিঁঝিঁর ডাক, মুক্ত বাতাস। এখানে দুরন্ত আকাশে স্বাধীন মেঘের উড়াউড়ি দেখে জীবন পার হয়ে যায় ক্ষত-বিক্ষত পাহাড়ের।

প্রতিটি দিনই যেন আমাদের শেষ দিন। প্রতিটি মূহুর্তই যেন শেষ মূহুর্ত। এখানে যেদিন আমরা প্রথম এসেছিলাম তার আগে আমি, আমার পূর্বপুরুষেরা জান্নাতে ছিলাম। সেখানে আমাদের অভাব ছিল দুঃখের। কষ্টের দেখা আমরা মাস ছয়েকে দুই-একবার পেতাম।

কিন্তু এখন নিজের ভাঙ্গা ঘরের পাশে বসে ঐসব অতীত স্মৃতি খাওয়া ছাড়া আমাদের আসলেই আর কোন কাজ নেই। কষ্টের ঘরগুলো যতবার ভাঙ্গে আমি ততবারই নতুন ঘরের ঠিকানায় পা বাড়াই। জীবনহীন যাযাবরের জীবন বোধহয় এমনি হয়।

প্রথম যে বার আমাদের আনন্দবাড়িতে হামলা হলো সেদিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমরা কেবল একটি বিকট চিৎকার করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেই চিৎকার কান্নায় রুপ নেয়ার আগেই আমার দুই গজ সামনে আব্বা জানের দেহ হতে মাথাটা ছিটকে গিয়ে ঘরে ভেতরে পুড়তে থাকে।

প্রথম ও শেষবারের মতো যখন আমি পেছন ফিরে তাকানোর সুযোগ পেয়েছিলাম তখন দেখলাম, আব্বা জানের চোখের কোটরে কোন আগুন নেই। কারণ সেখানে আমাদের আজীবনের কান্না জমা ছিল।


গল্পকার- সাখাওয়াত ফাহাদ