শিল্প ও সাহিত্য

  • আব্দুর রহমান বয়াতী তার গানের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন

    আব্দুর রহমান বয়াতী তার গানের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন

  • নৃত্য-গান-কথনে কংক্রীটের নগরে শরৎ

    নৃত্য-গান-কথনে কংক্রীটের নগরে শরৎ

  • সফলতার আখ্যান, স্বপ্ন আত্মবিশ্বাস ও সফলতা

    সফলতার আখ্যান, স্বপ্ন আত্মবিশ্বাস ও সফলতা

  • ‘বঙ্গবন্ধু বুক গ্যালারি ও মঞ্চ’র যাত্রা শুরু

    ‘বঙ্গবন্ধু বুক গ্যালারি ও মঞ্চ’র যাত্রা শুরু

  • শুরু হচ্ছে ‘ঐতিহ্যের বিনির্মাণ’ শীর্ষক জামদানি উৎসব

    শুরু হচ্ছে ‘ঐতিহ্যের বিনির্মাণ’ শীর্ষক জামদানি উৎসব

জাতীয় জাদুঘরে ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন : শিল্পের শিক্ষাগুরু’

প্রকাশ: ১১ মে ২০১৯

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ছিলেন-বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলনের অগ্রনায়ক। তার হাত ধরেই এ দেশে চারুকলার যাত্রা শুরু এবং তিনি এর প্রথম শিক্ষাগুরু। তিনি শিল্পমানসে ছিলেন নি¤œবর্গীয় ও প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধি। যে জীবন তিনি যাপন করেছেন ও কাছ থেকে দেখেছেন তারই স্বতঃস্ফূর্ত রূপদান এবং মর্মরস আহরণই ছিল তার শিল্পদর্শন। তিনি যেমন-মানবমমতায় তাড়িত হয়ে ক্যানভাস রাঙিয়েছিলেন, তেমনই প্রকৃতি ও জীবনকে ভাসিয়েছিলেন আপন মননতাড়িত রেখায় রেখায়। একদিকে এঁকেছেন স্বদেশ ও সমষ্টির জীবনচিত্র অন্যদিকে গড়েছেন শিল্পের শিক্ষালয়। এভাবেই দেশের চিত্রশিল্পের জনক থেকে হয়েছেন চারুশিল্প চর্চার ভিত্তিভূমি রচনাকারী। সেই কিংবদন্তি শিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের স্মরণে অনুষ্ঠিত হলো ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন: শিল্পের শিক্ষাগুরু’ শীর্ষক সেমিনার।

শনিবার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদের স্বাগত বক্তব্যের মধ্যে শুরু এই সেমিনার। এরপরেই সেমিনারে শুরু হয় ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন : শিল্পের শিক্ষাগুরু’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সহকারী অধ্যাপক শিল্পী দুলাল চন্দ্র গাইন রচিত এই প্রবন্ধটি পাঠ করেন জাদুঘরের জনশিক্ষা বিভাগের কিপার ড. শিহাব শাহরিয়ার। প্রবন্ধের উপরে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ড. ফরিদা জামান, শিল্পসমালোচক অধ্যাপক মঈনুদ্দীন খালিদ এবং শিল্পীপুত্র মইনুল আবেদিন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান।

মূল প্রবন্ধে শিল্পী দুলাল চন্দ্র গাইন বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন একাধারে বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলনের পথিকৃৎ, সফল শিল্পী-শিক্ষক, বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান ধারক, বাহক ও সেবক এবং মানবতার প্রেমিক। শিল্পের টানে একান্ত নিজ প্রচেষ্টায় কলকাতায় গিয়ে সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন এবং ছাত্র অবস্থাতেই তরুণ শিল্পী হিসেবে সারা বাংলায় সুপরিচিত হয়ে ওঠেন। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার মাধ্যমে মানবতাবাদী শিল্পী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। দুর্ভিক্ষ-চিত্রমালা ছাড়াও তার বিখ্যাত চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে-সংগ্রাম, সাঁওতাল রমণী, ঝড়ু, কাক, বিদ্রোহী এবং গ্রামবাংলার উৎসব নিয়ে আঁকা ৬৫ ফুট দীর্ঘ ছবি ‘নবান্ন’ ইত্যাদি। তিনি আরও বলেন, দেশভাগের প্রেক্ষাপটে ১৯৪৮ সালে ঢাকায় একটি শিল্পশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার নেতৃত্ব দান তার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনি চিত্রাঙ্কনের চেয়ে চিত্রশিক্ষা প্রসারের ওপর অনেক বেশি সময় ব্যয় করেছেন। চিত্রশিল্প বিষয়ক শিক্ষার প্রসারে আমৃত্যু প্রচেষ্টার জন্য জনসাধারণ্যে তিনি শিল্পাচার্য অভিধা লাভ করেন। অনুমান করা হয় তার চিত্রকর্মের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি।

আলোচনায় অধ্যাপক মঈনুদ্দীন খালিদ বলেন জয়নুল আবেদিনকে নিয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন। তিনি তথাকথিত জীবনের কাছে হার মানেননি। গ্রামিণ জনগোষ্ঠীর জনজিবনের প্রতি ছিল তার অন্যরকম ভালোলাগা। তিনি ছবি আঁকার আগে ছবির প্রেক্ষাপট ছবির মর্মকথা বুঝতে চেষ্টা করতেন। তার পর তিনি ছবি আঁকতেন। তিনি বলতেন, নদী’র ছবি আঁকার আগে পানির দোলনই আগে বুঝতে হবে। জয়নুল আবেদিনের চিন্তা-ভাবনা, কর্ম আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও ঐশ্বর্যমন্ডিত করেছে।

মইনুল আবেদিন বলেন, তিনি ব্যক্তি হিসেবে অনেক কর্মঠ একজন মানুষ ছিলেন। সারাক্ষণ কাজের ভেতরে ডুবে থাকতেন। শিল্প চর্চার জন্য জীবনের পুরটা সময় ব্যয় করেছেন। দুঃখের বিষয় হলো-বাবার অনেক কাজ এখন নকল পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন জাদুঘরেও নকল ছবি দেখা গেছে। অথচ বাবার ছবি নকল হওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কারও কোন মাথা ব্যথা নেই! এটা  খুব দুঃজনক! এর প্রতিকার হওয়া উচিৎ।

অধ্যাপক ড. ফরিদা জামান বলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন তার শিল্পকর্মের মাধ্যমেই নিজের মতাদর্শ, চিন্তা-শক্তি, ভাবনার ব্যাপ্তি’র অসাধারণ প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তার শিল্পকর্ম যুগ যুগ ধরে নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল কাজে নিরন্তর অনুপ্রেরণা যোগাবে৷ আমাদের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আদর্শ হিসেবে তিনি থাকবেন।

শিল্পী হাশেম খান বলেন, আমার জীবন ধন্য পিতৃতুল্য শিক্ষক জয়নুল আবেদিনের সান্নিধ্য পেয়ে। শিক্ষার্থীরা ছিলো তার ছেলের মতো। তার কথায় ছিল প্রেরণা। আমরা অনুপ্রাণিত হতাম শিল্প চর্চায়। জাতীয় জাদুঘরে তার অসংখ্য চিত্রকর্ম আছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় ও সুস্থ মননসম্পন্ন মানুষ গড়ে তুলতে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জীবনকর্মসহ দেশের অতীত ঐতিহ্য, চিত্রশিল্প গুরুত্ব বহন করে।

পরবর্তী খবর পড়ুন : কক্সবাজারে খাল দখল করে মাছ চাষ!


আরও পড়ুন

হোয়াইট হাউজের কাছে গোলাগুলিতে একজন নিহত, আহত ৫

হোয়াইট হাউজের কাছে গোলাগুলিতে একজন নিহত, আহত ৫

এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দপ্তর ও বাসভবন হোয়াইট হাউজের কাছে ...

দুই লাখ পিস ইয়াবাসহ মিয়ানমারের আট নাগরিক আটক

দুই লাখ পিস ইয়াবাসহ মিয়ানমারের আট নাগরিক আটক

কক্সবাজারের টেকনাফের অদূরে সেন্ট মার্টিন্সের গভীর সমুদ্রে দুই লাখ পিস ...

শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে শুদ্ধি অভিযান

শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে শুদ্ধি অভিযান

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে ...

ফেসবুক ভেঙে দিতে ট্রাম্পের প্রস্তাবে জাকারবার্গের জবাব

ফেসবুক ভেঙে দিতে ট্রাম্পের প্রস্তাবে জাকারবার্গের জবাব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ ...

নয়নের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক-বিয়ে সবই স্বীকার মিন্নির

নয়নের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক-বিয়ে সবই স্বীকার মিন্নির

বরগুনায় আলোচিত রিফাত হত্যায় মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে ...

ঢাকার ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের বিস্তার যে নেপালিদের হাত ধরে

ঢাকার ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের বিস্তার যে নেপালিদের হাত ধরে

ঝকঝকে আলোকচ্ছটায় রমরমা জুয়ার আড্ডায় প্রতিদিন উড়ত কোটি কোটি টাকা। ...

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ইউনিট-২' এর ভর্তি পরীক্ষা শুরু

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ইউনিট-২' এর ভর্তি পরীক্ষা শুরু

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ...

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তিযুদ্ধ শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তিযুদ্ধ শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের (বিজ্ঞান অনুষদ) ...