শিল্প ও সাহিত্য

  • আমার কলম

    আমার কলম

  • দুর্জয় বাংলা ফাউন্ডেশনের কবিতা প্রতিযোগিতা

    দুর্জয় বাংলা ফাউন্ডেশনের কবিতা প্রতিযোগিতা

  • ‘আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    ‘আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

  • গুরুতর অসুস্থ কাঙালি সুফিয়া চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

    গুরুতর অসুস্থ কাঙালি সুফিয়া চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

  • ১৩ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উৎসব

    ১৩ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উৎসব

শুক্রবার দেশব্যাপী উদীচী’র প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সময় নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদে

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০১৮

বাংলাদেশ প্রেস

বাংলা ও বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা বর্ষবরণ ও পহেলা বৈশাখ বরণের অনুষ্ঠানের সময় নিয়ন্ত্রণ এবং মুখোশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সে পথ ধরেই দেশের এই ঐতিহ্যবাহী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনটি এবার দেশব্যাপি প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় সারাদেশে একই সঙ্গে এই প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দেশব্যাপী একযোগে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল বুধবার সকালে সংগঠনটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই সংবাদ সম্মেলন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করবেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন। বক্তব্য রাখেন উদীচী’র সাবেক সভাপতি ও সাংস্কৃতিব্যক্তি¦ কামাল লোহানী, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য শংকর সাওজাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ। এছাড়াও এতে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, ইকবালুল হক খানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়-বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সময় সংকোচনের সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় দেশব্যাপী একযোগে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থিত উদীচী’র সাড়ে তিন শতাধিক শাখা সংসদের উদ্যোগে একযোগে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি আয়োজিত হবে।

সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার আহবান জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, দেশব্যাপী এ কর্মসূচিতে উদীচী ছাড়াও দেশের অন্যান্য প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক ভাবধারার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো যোগ দেবেন। আমরা আশা করি, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে কামাল লোহানী অভিযোগ করেন, হেফাজতে ইসলামের প্রেসক্রিপশন মেনে সময় সঙ্কোচনের এ সিদ্ধান্ত ঘোষণার মাধ্যমে সরকার সাম্পদায়িক অপশক্তির হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে।

শংকর সাওজাল বলেন, কোন উৎসবই নিরাপত্তা প্রহরীর ঘেরাটোপে হয় না। নিরাপত্তা দিয়ে শৃঙ্খলিত করা হলে তা মানা হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, যে সংস্কৃতির জন্য আমাদের যুদ্ধ তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে।

লিখিত বক্তব্যে জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান এ দেশে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল, সর্বত্র তথাকথিত ‘মুসলমানীকরণের’ কর্মসূচি নিয়ে তারা রুদ্ধ করতে চেয়েছিল সহ¯্র বছরের বাঙালির আচার, ঐতিহ্য ও গৌরবের সংস্কৃতিকে। এ মাটি থেকে উৎসারিত, মাটিবর্তী মানুষের শ্রম ও ঘামের অতুল নিদর্শন বাঙলা নববর্ষ এবং চৈত্র সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পহেলা বৈশাখের উৎসবকে তারা নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল। ধর্মের দোহাই দিয়ে ‘পহেলা বৈশাখ’সহ নানা সাংস্কৃতিক উৎসব-আচারকে তারা ‘হিন্দুয়ানী’ আখ্যা দিয়েছিল। তারা ভেবেছিল-সাম্প্রদায়িকতার ধুয়া তুলে ব্যাপক মুসলমান জনগোষ্ঠীর সমর্থন পাবে। কিন্তু এ দেশের উদার মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বা অন্য ধর্ম ও আচার অবলম্বী মানুষ ধর্মীয় পরিচয়কে নয় জাতি পরিচয়কেই উর্ধ্বে তুলে ধরেছিল বারবার। ইতিহাস আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে এই বাংলা নামে ব-দ্বীপটিতে বসবাসকারী মানুষগুলো ধর্মে বর্ণে বিভেদকে কখনোই পাত্তা দেয়নি। পরস্পরের পাশে থেকে সুখ দুঃখকে ভাগ করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, সেই পাকিস্তানের সাম্প্রদয়িক বর্বর নীতির ভুত ফিরে আসছে আবার। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে এসেও সেই পুরনো অপশক্তিকে মোকাবেলা করার জন্য আমাদের লড়াই চালাতে হবে সেটা আমরা ভাবতেও পারিনি। কিন্তু এ দেশের শাসনযন্ত্র বারবারই করায়ত্ব হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনাবিরোধী শক্তির হাতে। তাদের হাতেই পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ও ধর্মান্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী। বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি, হাজার বছরের সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোর বিরুদ্ধে বারবার বিষোদ্গার ও অপপ্রচার চালিয়ে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আমাদের সংস্কৃতিশূন্য অমানবিক জাতিতে রূপান্তর করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। সম্প্রতি পহেলা বৈশাখের মতো বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত লৌকিক উৎসবের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। তারা প্রকাশ্যে আমাদের সমৃদ্ধ এ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এমনকি তারা ২০০১ সালে রমনার বটমূলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বর্বর বোমা হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে সংস্কৃতিপ্রিয় মানুষকে। তারা ভেবেছিল এভাবেই প্রাণের উৎসব থেকে বাঙালিকে বিচ্যুত করতে পারবে। কিন্তু সেই হামলার পরে বাঙালি বহুগুণ উৎসাহে বর্ষবরণ উৎসবে মিলিত হয় প্রতিবছর। কোনো রক্তচক্ষু, হত্যা, হামলার ভয় বাঙালিকে উৎসববিমুখ করতে পারেনি। এরপরও পহেলা বৈশাখের এ আয়োজনকে রুদ্ধ করতে থেমে নেই ষড়যন্ত্র। কারণ এ আয়োজন মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর জন্য ‘আতঙ্কের’। কেননা এ উৎসবে নিহিত রয়েছে বাঙালির ঐক্য, সকল সম্প্রদায়ের অভাবিত সম্মিলন এবং সংগ্রামের প্রেরণা।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ বাংলা বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কোটি মানুষ উৎসবে মিলিত হয়। রাজপথ থেকে অলিগলি মেতে উঠে নব আনন্দে। ফলে পহেলা বৈশাখের আয়োজনকে যেকোনোভাবে কালিমালিপ্ত করতে উদ্যত অপশক্তি। সম্প্রতি এ শক্তিটি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা হামলার ভয় দেখিয়ে আবারো বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে রদ করতে চায়। নিরাপত্তার অজুহাতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পহেলা বৈশাখের উৎসবের সময় সঙ্কোচনের নীতি গ্রহণ করেছে। যেখানে মৌলবাদী গোষ্ঠীর হামলার হুমকিকে চ্যালেঞ্জ করে উৎসবকে অবারিত করার উদ্যোগ নেওয়া দরকার ছিল সেখানে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপশক্তির হুমকিতে জড়োসড়ো। তারা বিকেল ৫টা পর্যন্ত পহেলা বৈশাখের উৎসবের সময় বেঁধে দিয়ে প্রকারান্তরে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। যা মোটেই কাম্য নয়। সাধারণ মানুষ যেখানে এ উৎসবে স্বতঃস্ফূর্ত ও নির্ভিক সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অত্যুৎসাহী ভূমিকা এবং সরকারের ‘ভয়’ আমাদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। তাই সরকারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যায় না।

উদীচী’র সাধারণ সম্পাদক অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। পহেলা বৈশাখ ও বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকি দাতাদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি। এছাড়া, বৈশাখ উদযাপনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা বিষয়ক যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তা সার্বিকভাবে উৎসবের বৈচিত্র্যকে খর্ব করবে, তাই এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, উদীচী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সকল অপশক্তি রুখতে হবে। পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণের আয়োজনে জনগণ যেভাবে বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো রাস্তায় নামে তার প্রতি দায়িত্বশীল ও সশ্রদ্ধ হবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন

এখনকার আ’লীগ বঙ্গবন্ধুর নয়: মান্না

এখনকার আ’লীগ বঙ্গবন্ধুর নয়: মান্না

নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ...

ধানের শীষে ভোট দিন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন: মির্জা ফখরুল

ধানের শীষে ভোট দিন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ...

বগুড়া-৫ আসনে বাড়ছে নির্বাচনী সহিংসতা

বগুড়া-৫ আসনে বাড়ছে নির্বাচনী সহিংসতা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে ...

ট্রাফিক আইন অমান্য করায় রাজধানীতে ৪০৫৩টি মামলা

ট্রাফিক আইন অমান্য করায় রাজধানীতে ৪০৫৩টি মামলা

রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৪০৫৩টি মামলা ও ...

কারাগারে বিএনপি নেতা বাচ্চু

কারাগারে বিএনপি নেতা বাচ্চু

বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা দেড়টার দিকে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা ...

জনগণের মধ্যে ভোটাধিকারের সঠিক প্রয়োগ নিয়ে সন্দেহ দিন দিন বাড়ছে: ড. কামাল

জনগণের মধ্যে ভোটাধিকারের সঠিক প্রয়োগ নিয়ে সন্দেহ দিন দিন বাড়ছে: ড. কামাল

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর ভূমিকায় একাদশ ...

ধারাবাহিক ইশতেহারের আয়না: পর্ব - বিএনপি

ধারাবাহিক ইশতেহারের আয়না: পর্ব - বিএনপি

অপেক্ষায় ছিলাম ইশতেহারের। একে অন্যকে দোষারোপের গণ্ডি পেরিয়ে চেয়েছিলাম ইশতেহার ...

‘তিনজন একদিকে থাকলে, একজন নির্বাচন কমিশনারের মতামতের মূল্য নেই’

‘তিনজন একদিকে থাকলে, একজন নির্বাচন কমিশনারের মতামতের মূল্য নেই’

নির্বাচন কমিশন পাঁচজনকে নিয়ে গঠিত। তিনজন একদিকে থাকলে, একজন নির্বাচন ...