আন্তর্জাতিক

করোনা নিয়ে এবার ‘ত্রিকোণ’ বাগযুদ্ধ

প্রকাশ: ২২ মে ২০২০ |

আন্তর্জাতিক ■ বাংলাদেশ প্রেস

নভেল করোনভাইরাস নিয়ে চীনকে আড়াল করার অভিযোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ব্যাপকভাবে বিঁধে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সংস্থাকে একেবারে অনুদান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।


চীন-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান করোনা বাদানুবাদের মধ্যে এবার পাল্টা জবাব দিয়ে ট্রাম্পকে বিঁধল রাশিয়া। দেশটি বলছে, আমেরিকা আর তাদের কিছু সঙ্গী দেশ করোনা নিয়ে নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে।



এতদিন ধরে রাশিয়া অনেকটা এ বিষয়ে চুপ থাকলেও এবার চিন-আমেরিকা-রাশিয়া ‘ত্রিকোণ’ বাগযুদ্ধ শুরু হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


করোনা মহামারির শুরু থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে আক্রমণ করে আসছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ভাইরাস সংক্রমণের উৎসস্থল চীন হলেও দেশটি সেসব নিয়ে যাবতীয় তথ্য গোপন করে আসছে বলেই অভিযোগ তার।


একইসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকেও তিনি দুষছেন। তার দাবি, চীনকে মদদ দিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এজন্য কিছুদিন আগে ট্রাম্প এ-ও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সবচেয়ে বেশি অঙ্কের অনুদান দিয়ে আসছে আমেরিকা।


বৃহস্পতিবার তিনি সরাসরি চিঠি লেখেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাসকে। চিঠির বিষয় নিয়ে পরে টুইটও করেন তিনি।


চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, ‘মহামারি সামলাতে আপনি ও আপনার সংস্থা যে ভূমিকা এবং যেভাবে বারবার ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে তার মূল্য গোটা বিশ্বকে দিতে হচ্ছে।’


আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সংস্থার ভূমিকায় কোনও ‘গুরুত্বপূর্ণ বদল’ না এলে গবেষণা ও চিকিৎসার জন্য দেওয়া অনুদান তার দেশ বন্ধ করে দেবে বলেও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।


চীনের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া না এলেও রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন।


বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘ব্যবস্থাপনা হয়তো আরও ভাল করার সুযোগ রয়েছে ঠিকই...এবং আমরা প্রস্তুত রয়েছি, আগের মতোই- সক্রিয় ভূমিকা নিতে। কিন্তু শুধু একটা দেশের রাজনৈতিক-ভূরাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের জন্য পুরনো যা রয়েছে, সব কিছু ভেঙে দেওয়ার পক্ষপাতী আমরা নই।’


সের্গেই রিয়াবকভ বলেন, ‘আমেরিকা ও তার সঙ্গে অন্য কিছু দেশ উঠেপড়ে লেগেছে। করোনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এমন রাজনীতি করার বিপক্ষে আমরা।’


চলমান মহামারি সামলাতে হিমশিম খাওয়া বিশ্বকে এরইমধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মৃত্যু দেখতে হয়েছে। এক যুক্তরাষ্ট্রেই মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৯৩ হাজারের বেশি। দেশটি আরও পদক্ষেপ নিলে অন্তত ৩৬ হাজার মার্কিনির মৃত্যু ঠেকানো যেত বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।