আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে খাদ্য অনিশ্চয়তায় প্রায় ৪ কোটি মানুষ

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারী ২০২০ |

আন্তর্জাতিক ■ বাংলাদেশ প্রেস

জাতিসংঘের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে রেকর্ড ছাড়িয়েছে খাদ্য অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা। অন্তত ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ প্রকট খাদ্য অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানায় জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। টানা খরা, বন্যা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা এ সংকট জোরদার করেছে। ডব্লিউএফপির দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক লোলা কাস্ত্রো ১৬ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে বলেন, এটি পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন মাত্রার খাদ্য সংকট। আমরা এমনটি আগে কখনো দেখিনি। আর আমাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে যে, সংকটটি আরো বেগতিক হতে চলেছে। কাস্ত্রো আরো বলেন, পুরো অঞ্চলজুড়ে বার্ষিক ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম শুরু হয়েছে। গত বছরের মতো নজিরবিহীন ঝড়গুলোয় হওয়া ক্ষতি এবার হলে, তা কোনভাবেই সামাল দেয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, ‘এ অঞ্চলে বাৎসরিক সাইক্লোনের মওসুম শুরু হয়ে গেছে। এদিকে এখনও আমরা গতবছরের বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারিনি।’

আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ে ইতোমধ্যে ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর খাদ্য সংকট পার করছে। এ দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষ চরম খাদ্য সংকট পড়েছে। গত কয়েকমাস ধরে প্রতিদিনই এ অবস্থার অবনতি ঘটছে। এদিকে জাম্বিয়ার মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ নাগরিকের খাদ্য অনিশ্চয়তা চরম আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। এছাড়া নাম্বিয়ার মোট জনসংখ্যার অন্তত ১০ শতাংশ নাগরিক দিন পার করছেন চরম ক্ষুধায়।
এসব দেশে গত কয়েক বছর ধরে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে বিপুল সংখ্যক নাগরিক চাকরি হারিয়েছেন। ফলে দৈনন্দিন ন্যূনতম খাদ্য সংগ্রহ করতেও তাদেরকে বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে গৃহপালিত পশুর মৃত্যু ও খাদ্যশস্য বিনাশের কারণে উৎপাদন কমেছে। খাদ্য সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন এসব অঞ্চলের মানুষ। মানবেতর জীবন পার করছেন এ অঞ্চলের সাড়ে চার কোটিরও বেশি মানুষ। আফ্রিকার দক্ষিণ অঞ্চলের ১৬টি দেশ নিয়ে ১৯৯২ সালে গঠিত হয় সাউদার্ন আফ্রিকান ডেভোলাপমেন্ট কমিউনিটি। গত কয়েক বছওে মৌসুমী বৃষ্টি হতে দেরি হওয়ার কারণে খরার কবলে পড়ে এসব অঞ্চল। অনুপযুক্ত আবহাওয়ায় কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ায় খাদ্য উৎপাদন মারাত্মক হ্রাস পেয়েছে এসব দেশে। এ বছরও খরা ও সাইক্লোনের কবলে পড়েছে এসব দেশগুলো। ফলে খাদ্য সংকট আরও বাড়বে বলে আশংকা প্রকাশ করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।