আন্তর্জাতিক

মর্মস্পর্শী এক ছবিঃ মেক্সিকো সীমান্তে বাবা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ■ বাংলাদেশ প্রেস

মর্মস্পর্শী এক ছবি। বাবা ও ছোট শিশুর নিথর দেহ উপুড় হয়ে নদীর তীরে পানির মধ্যে পড়ে আছে। এই দুজন এল সলভাদরের বাসিন্দা আলবার্টো মার্টিনেজ ও তার শিশু কন্যা ভ্যালেরিয়া। মর্মস্পর্শী এই ছবিটি তুলেছেন মেক্সিকান ফটোগ্রাফার জুলিয়া লে ডাক। এই ছবি ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর বিশ্ব বিবেককে বিক্ষত করে নাড়িয়ে দিয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, নিহত আলবার্টো মার্টিনেজ সোমবার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মেক্সিকান বর্ডার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। মার্টিনেজ রিও গ্রান্ডো নদী সাঁতরে তার স্ত্রীর কাছে আসছিলেন। এসময় তার ২৩ মাস বয়সী শিশু কন্যা ভ্যালেরিয়া তাকে দেখে পানিতে ঝাঁপ দেয়। আলবার্টোর স্ত্রী তানিয়া লা জর্নাদা বলেন, চোখের সামনেই তিনি স্বামী ও বাচ্চাকে স্রোতে ডুবে যেতে দেখেছেন।

পরে তাদের নিথর দেহ রিও গ্রান্ডে নদীর মেক্সিকোর মাতামোরোস অংশে ভেসে ওঠে। মেয়েকে বাঁচাতে বাবা প্রাণপণ চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু প্রচণ্ড স্রোতে তাদের এই করুণ পরিণতি হয়। শিশুটির গায়ে লাল রঙের প্যান্ট, পায়ে জুতা এবং বাবার ঘাড়ে একটি হাত মৃত্যুর পরও জড়িয়ে রেখেছে শিশুটি।

এ ঘটনার পর এল সালভাদরের সরকার সবাইকে ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে না যেতে সতর্ক করেছেন। তবে, এরইমধ্যে এল সালভাদর ও মেক্সিকোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিবাসীদের প্রতি এই দুই দেশের সরকারের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গিই ক্ষোভ সৃষ্টির মূল কারণ।

অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে পলিসি আরো শক্তিশালী করা হয়েছে। গত কয়েকদিনে সীমান্তে অন্তত প্রায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে ২৮৩ জন অভিবাসন প্রত্যাশী নিহত হয়। কিন্তু মানবাধিকার সংঘটনগুলো বলছে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

এই ছবিটি তুরস্কের উপকূলে বালিতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা আইলান কুর্দির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। যা এখনও ভোলেনি বিশ্ব। ২০১৫ সালের ২রা সেপ্টেম্বর পাঁচ বছর বয়সী এই শিশুর মরদেহ পড়ে থাকার ছবিটি বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুলেছিল।