শিরোনাম:

Thu 07 December 2017 - 09:44am

নির্বাচন হবে যথাসময়ে, সংবিধান মেনে ।। আবদুল মালেক

Published by: নিউজ রুম এডিটর, বাংলাদেশ প্রেস

22f607910dab106a9fd8a5c0bdbbfd6f.jpg

আবদুল মালেক: বিএনপির সুবিধা হলো দেশ ও জনগনের কাছে এদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। দলটির সার্বক্ষণিক দাবি নির্বাচন এবং নির্বাচন। এরা মুখে বলে 'বিএনপি নির্বাচনমুখী দল' যদিও ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি। সে নির্বাচন না হলে দেশ ও মানুষ যে সংকটের সম্মুখীন হতো সেটি একবারও বিএনপি চিন্তা করেনি। দলটি ভেবেছিল, বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা অসম্ভব, ফলে দেশে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হবে, সেই সংকটের ফাক-ফোকর দিয়ে তারা টুক করে মসনদে বসে যাবে। আল্লাহর অপার রহমত, শেখ হাসিনা অত্যন্ত দক্ষতায় সে পরিস্থিতির মোকাবেলা করে দৃঢ়তার সংগে নির্বাচনটি করতে পেরেছেন। বিএনপির স্বপ্ন পরিনত হলো দুঃস্বপ্নে। 
-
৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলটি বুঝতে পেরেছে, তাদের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত ছিল নেহায়েতই শিশুসুলভ রাজনীতির প্রকাশ। বিএনপির রাজনীতিকদের যে নিকট ভবিষ্যত দেখার মতো দুরদর্শিতাও নেই সেটি আবার প্রমানিত হলো তিনমাসের লাগাতার কর্মসূচী দিয়ে। সেই আগুন সন্ত্রাসের বলি হয়েছে অতি নিরীহ-অসহায় জনগন। পুড়ে মরেছে শত শত মানুষ, সম্পদ ধ্বংস হয়েছে, পুলিশের উপর আক্রমন হয়েছে। মোদ্দা কথা বেগম জিয়ার সেই আন্দোলনে সরকার কতটা প্রতিপক্ষ ছিল জানিনা, কিন্তু তার আক্রোশ লক্ষ করা গেছে সাধারন জনগনের প্রতি। এখানেই প্রশ্নটি আসে, সত্যিই কি বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর রাজনীতি জন-কল্যানে আবর্তিত হয়? 
-
বিএনপি ক্ষমতার বাইরে প্রায় একযুগ, রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়াও নানা মিশন-ভিশন, কর্মসূচী থাকে। জনগনের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটে দলীয় কর্মসূচীতে। কিন্তু বিগত সময়ে জন-আকাঙ্খা পুরনে কি কর্মসূচী দিয়েছে বিএনপি? তাহলে কেন আগামী নির্বাচনে জনগণই বা তাদের ভোট দিবে। তিনমাস মানুষ পোড়ানো যদি নির্বাচনে অংশগ্রহন ও ক্ষমতায় যাবার পাথেয় হয় তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্ম কি শিখলো তিরিশ বছরের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক প্লাটফরমের কাছে, অর্থাৎ রাজনীতি মানে নিরীহ মানুষ পুড়িয়ে মারা, সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস? এই যদি হয় বিএনপির ভোট পাবার যোগ্যতা তাহলে বিএনপি সাংঘাতিক যোগ্য দল সন্দেহ নাই।
-
বিএনপি নির্বাচনে আসেনি, তাতে কিন্তু দশম সাধারন নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়নি, বিএনপি ঠেকাতে চেয়েও ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা বলছে এ সরকার নির্বাচিত নয়, এ সরকার অবৈধ। আবার সবরকম দাবি-দাওয়া করছে এই সরকারের কাছেই। বিএনপির বন্ধুদের কাছে প্রশ্ন, সেই নির্বাচন করা ছাড়া শেখ হাসিনার সামনে অপশন কি ছিল? মানে কি আবারো ১/১১'র অনির্বাচিত সরকার চেয়েছিল বিএনপি? হ্যা, তাতে হয়তো লাভবান হতো কতিপর সুযোগসন্ধানী, কিন্তু জনগনের দীর্ঘমেয়াদী দুঃসহ ও অনিশ্চিত জীবনের দায়ভার কে নিত? মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দিন টাইপ সরকার এ দেশের মানুষ আর চায় না এবং বেগম জিয়ার রাজাকারপন্থী সরকারও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ চায় না। এ দেশে আর রাজাকার এবং রাজাকারের আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। 
-
নির্বাচন নির্দিষ্ট সময়ে হবে এবং সংবিধানের আলোকেই হবে। বিএনপির দাবিকৃত বা ফর্মূলার নির্বাচন করার মতো দায় জনগনের নেই, সরকারেরও নেই। বিএনপি যদি তত্বাবধায়ক বা সহায়ক সরকারের দাবিতে অনড় থাকতে চায় তাহলে সরকার কেন সংবিধানে বর্নিত সরকারে অটল থাকতে পারবে না? বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিতে কি আওয়ামী লীগ রাজনীতি করে, নিশ্চয়ই না। বিএনপি যদি রাজনৈতিক দল হিসাবে বেচে থাকতে চায় তাহলে নির্বাচনে আসতেই হবে। অতএব, নির্বাচন যথাসময়ে হবে এবং তা হবে সংবিধান মেনেই। মুসলিমলীগের ভাগ্য বরনের ইচ্ছা না থাকলে সেই নির্বাচনে অংশ নিবে বিএনপি।


লেখকঃ উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস।।


আরও পড়তে এইখানে ক্লিক করুন।

আরও পড়ুনঃ 

Facebook

মন্ত্যব্য করুন