শিরোনাম:

Tue 05 December 2017 - 09:13pm

পাকিস্তানের উম্মেষলগ্ন থেকে অশুভশক্তির কাঁধে ইসলামধর্ম লালনের ভার তুলে দিয়ে ওলামাগন নিরাপদ দুরত্বে।

Published by: নিউজ রুম এডিটর, বাংলাদেশ প্রেস

6aa5235ca1178e7388a641f0ab24dc3f.jpg

  রুহুল আমিন মজুমদার:  পত্রিকার পাতায় দেখেছিলাম--'অশীতিপর বৃদ্ধা এক 'মা' জাতির জনকের কন্যার দীর্ঘায়ু এবং আ-মৃত্যু  ক্ষমতায় থাকার কামনায় ১০১বার 'কোরানে পাক' খতম দেয়ার নিয়ত করেছেন। পাশে আর একটা খবর ছিল-সাবেক জোট সরকারের প্রধান মন্ত্রী  '২০১৯ সালে হাসিনা  বিহীন নির্বাচনের নিয়ত করেছেন। অপরদিকে পত্রিকার শেষ পাতায় আর একটি খবর ছিল যুবদলের নেতা কতৃক 'নাসির নগরে' সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার দায়দায়িত্ব' স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পবিত্র কা'বা ঘরের উপর 'দেবীমূর্তির' ছবি এডিট করে 'রসরাজ' নামীয় এক অশিক্ষিত যুবক পেশায় জেলে'র নামে 'ফ্যাক আইডি' খুলে উক্ত অপকর্ম করেছিল। 

    ২০১৫ ইং সালে বয়োবৃদ্ধ মাশায়েখ 'আল্লামা শফি' সাহেবের নেতৃত্বে তাঁর দল 'হেফাজতে ইসলাম' এর ব্যানারে 'নাস্তিক্যবাদ' প্রতিহত করে ইসলাম ধর্ম রক্ষার ইমানী দায়িত্ব পালন করার স্বার্থে রাজধানী ঢাকার জনবহুল এলাকা শাফলাচত্বরে অবস্থান নেয়।তাঁদের অহিংস আন্দোলনের সাথে কূচক্রিমহল যুক্ত হয়ে উক্ত আন্দোলনকে প্রথমে সহিংস ধর্মরক্ষার আন্দোলনে রুপান্তর করে।তৎপরবর্তীতে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ব্যাংকবীমায় আগুন ও লুটপাট, পবিত্র কোরানে আগুন দিয়ে উক্ত ধর্মরক্ষার সহিংস আন্দোলন'কে "হাসিনা সরকারে"র পতনের আন্দোলনের দিকে দাবিত করে।ধর্ম রক্ষার আন্দোলন বা নাস্তিক্যবাদ প্রতিরোধের আন্দোলনের সাথে 'হাসিনা সরকারে'র পতনের কি সম্পর্ক, কেন সম্পর্কীত হবে,তৎসম্পর্কে আজো জাতীকে পরিস্কার ধারনা হেফাজতে ইদলাম বা অন্যকোন মহল দেয়নি।

      ডিজিটাল যুগের উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ মিডিয়ার সুবাদে উক্ত দৃশ্য তাৎক্ষনিক সম্প্রচারের কারনে সারাদেশের মানুষ উক্ত তান্ডব lস্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছে। পরবর্তীতে আর এক শ্রেনীর মানুষ (তাঁদেরই প্রেতাত্বা)--অধিক পুণ্যের আশায় সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্যে রুপান্তর করে সরকারের বিরুদ্ধে লক্ষলক্ষ ওলামা হত্যার অপবাদ দিয়ে অপ-প্রচারে নামে। তাঁরা দেশের মানুষকে বুঝাতে চাইল বর্তমান শাসকশ্রেনী 'নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী'--ইসলাম ধর্ম পছন্দ করেনা। এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে বিশ দলীয় জোটের নেত্রী "খালেদা জিয়া'"কে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসাতে হবে।খালেদা জিয়াই ইসলামের প্রকৃত রক্ষক। অদ্যাবদি উক্ত ঘটনায় সরকার কতৃক লক্ষলক্ষ ওলামা হত্যার স্থলে দশজন ওলামা সেইদিন মৃত্যুবরন করেছিল তাঁর তালিকাও জাতির জ্ঞাতার্থে দিতে পারেনি।তাঁদের পক্ষ থেকে এমনও বলা হয়েছিল--'কোন এক হিন্দু যুবক পবিত্র কোরানে আগুন দিয়েছে! 'আওয়ামীলীগ হিন্দুর দল--সুতারাং কোরানে আগুন দেয়ার কাজটিও আওয়ামীলীগের প্ররোচনায়ই হয়েছে। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায়--'হিন্দু যুবক কতৃক আগুন দেয়ার সত্যতা প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তাঁরা সত্যিকারর্থে 'কোরান যে সেদিন আগুনে পুড়েছে" প্রকারান্তরে সেই  স্বীকারোক্তিই দিয়ে দিলেন।'

    সাধারন হুশজ্ঞান সম্পন্ন একজন মূসলমানেরও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়--"লাখ লাখ ধর্মপ্রান ঈমানী জোসে বলিয়ান মুসলিম, ওলামা-মাশায়েখ, জনতার সমাবেশে দুই-চার হাজার একই ধর্মের বা গোত্রের "অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী" আক্রমন বা নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করার সাহষ দেখানোর প্রশ্নই আসতে পারেনা। তারপরও তাঁরা (ওলামা সাহেবেরা-প্রকৃতপক্ষে অশুভশক্তি)বলছে, আমরা যারা আমজনতা তাঁরা বিশ্বাস করেছি।-'তাঁদের উক্ত ষড়যন্ত্র এবং  চক্রান্ত বিশ্বাস করার মুলে ছিল 'ওলামা--মাশায়েখ' সাহেবেরা মিথ্যে বলতে পারেন না--'এই ছিল আমাদের দৃড বিশ্বাস।" মূলত: তাঁরা যে মিথ্যে বলেননি তাও বুঝা গেছে উক্ত ঘটনার কিছুদিন পর।

     সেই ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি--'কোন হিন্দু বন্ধু বান্ধবকে মসজিদ, মাদ্রাসা, মাজার এবং কবরস্থানের আসেপাশে নিয়ে আড্ডা দিতে পারিনি'। আমরা মুসলিম বন্ধুরা যেখানে যে অবস্থায় থাকিনা কেন--মসজিদের বারান্দা, কবরস্থানের বড় গাছের ছায়ায় গরমে বিশ্রাম নিতে বা আড্ডা দিতে আমাদের মনে কোন প্রকার ভয়ভীতি কাজ করেনা। রাস্তায় রাতের বেলায় হাঁটাহাঁটি করতে যদিও সারা শরীরে ভয়ের অনুভূতি চমচম ভাব অনূভব করি।-মসজিদ, কবরস্থান, মাজারের অতিনিকটে যত অন্ধকারই হোকনা কেন ঐ ভীতিভাব থাকেনা। আমরা মসুলমানেরা মনে করি--উল্লেখিত স্থান সমূহ পবিত্র, এখানে কোন ভয়ভীতির কারন নেই।

       আপনাদের মধ্যে কেউ--'কোন একান্ত হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বন্ধুকে এইরুপ আড্ডায় সা'মিল করতে পেরেছেন--পারেননি। তাঁরা যদিও অন্যধর্ম পালন করে--ইসলাম ধর্ম এবং ইসলাম ধর্মের স্থাপনা সমূহকে খুব ভয় করে। কোরানের ব্যাপারটি তো তাঁদের নিকট 'যম সমতুল্য'। বরঞ্চ আমরা মুসলমানেরা তাঁদের উপাসনালয় বা ধর্মীয় গ্রন্থকে ভয় করিনা। আমরা মনে করি আমদের ধর্মই শ্রেষ্ঠ, তাঁদের ধর্ম মিথ্যা, বানোয়াট।

    অবশ্যই ইসলাম সার্বজনীন এবং মানবতার শ্রেষ্ঠ ধর্ম। আল্লাহ পাকও বলেছেন-ইসলাম'ই তাঁর প্রেরীত একমাত্র শেষ ও সত্য ধর্ম এবং নবী করিম (স:) শেষ নবী।-এর পর আর কোন নবী বা রাসূল আসবেনা, কোন আসমানী কিতাবও আসবেনা। ১৪০০ বছরের মধ্যে আসেও নাই। শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (স:) আল্লাহ'র প্রেরিত রাসুল এবং তাঁর বন্ধু।আল্লাহর পরম বন্ধু--সেই রাসুলপাক (স:) বলেন--"সকলের নিকট সকলের ধর্ম বড়, তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করিও না। অতীতে বহু জাতি-গোষ্টি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে ধ্বংস হয়ে গেছে।
    
     অন্যদিকে আল্লাহ তাঁর পবিত্র কোরানে বলেন--"হাশরের ময়দানে সমগ্র মানব জাতী' এবং জ্বিন জাতী'র বিচার অনুষ্ঠিত হবে।প্রত্যেক মানব ও জ্বীন দুনিয়াতে তাঁদের কৃতকর্মের জবাব দিতে হবে।আল্লাহ পাক কোরানের কোথাও একবারও বলেননি--তিনি শুধুমাত্র  মসুলমান ধর্মের অনুসারীদের বিচার করবেন এবং তাঁদের জন্যই বেহেস্ত দোজগ নির্ধারীত রেখেছেন। অত্র ভুখন্ডের 'ওলামা-মাশায়েখ' বৃন্দ সকল নেক এবং বদের দায়ভার শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের ভাবতেই বেশী ভালবাসেন। তাঁদের ভিতরে অনুপ্রবেশকারি স্বার্থান্বেষি, সাম্প্রদায়িক অশুভচক্র আরও একধাপ নিছে নেমে বলতে থাকেন যত দোষ  বাঙ্গালী সংখ্যালুঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, খিষ্টানদের। পাকিস্তান সৃষ্টির প্রারম্ভ হতে অদ্যাবদি শুধুমাত্র "বাঙ্গালী  হিন্দুরা'ই মুসলমানদের একমাত্র শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় জলসাতে বক্তৃতা দিতে অতাঞ্চলের 'ওলামা-মাশায়েখেরা' সাচ্ছন্দবোধ করেন। 
    
   
    বাংলাদেশে বর্তমানে এইরুপ ইসলামের নীতিবিরুদ্ধ কতগুলী বিষয় তাঁরা প্রচলন করেছে। যার দ্বারা প্রতিনিয়ত কোটিকোটি মুসলমানের ঈমান ধ্বংস করা হচ্ছে। যেমন--সাইদী সাহেবকে চাঁদে দেখা গেছে।খালেদা জিয়াকে মাছের শরীরে দেখা গেছে।কেউ একজন স্বপ্নে দেখেছে ইহা দশজনকে প্রেরণ করুন। এবং কি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর বর্বতার ছবি রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে ব্যাবহার করে এদেশে বসবাসরত: বৌদ্ধদের উপর হামলার অপপ্রয়াসও তাঁরা চালিয়েছিল। এই শ্রেনীর নৈরাশ্যবাদী মুসূলমানেরা প্রকৃত ঈমানদার মুসলমানদের প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করছে। চলমান প্রগতির সমাজকে তাঁরা টেনে অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিতে চায়। এটা তাঁরা সহজে ঘটাতে পারার একমাত্র কারন ইসলামের প্রতি আমজনতার অজ্ঞতা। ওলামা-মাশায়েখদের প্রচ্ছন্ন সমর্থন এবং ইসলামের প্রতি সাধারন বাঙ্গালী মূললমানদের চরম ভক্তি, শ্রদ্ধা।

    আমরা সবাই জানি--নবীর দুশমন মসুলমানদের দুশমন, নবীর শত্রু প্রকৃত ঈমানদার মসুলমানদের শত্রু।নবীর বন্ধু মসুলমানদের বন্ধু। নবীর রক্ত ঝরিয়েছে ইহুদি, নাসারার গোষ্টি। সুতারাং প্রত্যক্ষ শত্রু যদি হয় ইহুদি নাসারা হওয়ার কথা। বাঙ্গালী হিন্দুরা কেন হবে? তাঁরা কি আমাদের নবীজি বা তাঁর সাহাবাদের ধর্ম প্রচারে বাঁধা দিয়েছে? সাহাবাদের রক্ত ঝরিয়েছে? ওলামা-মাশায়েখ সাহেবেরা কখনই বলেনা আবহমানকালের প্রতিবেশী বাঙ্গালী হিন্দু, বৌদ্ধরা কি মর্মে বাঙ্গালী মসূলমানের শত্রু।অন্যান্ন জাতির হিন্দুধর্মের মানুষ বাঙ্গালী মসুলমানের শত্রু নয় এবং বাঙ্গালী হিন্দু ব্যাতিত অন্য জাতির হিন্দু ভারতীয় উপমহাদেশে আরো বহুগুন বেশী আছে, তাও শতকরা আশিজন বাঙ্গালী মসুলমান জানেনা।

      বাঙ্গালী হিন্দু, বৌদ্ধরা বিধর্মী সত্য তবে নবী'র শত্রু নয়। কারন-ভারত বর্ষ থেকে আরব সাগর পাড়ি দিয়ে তখনকার যুগে বাঙ্গালী হিন্দু, বৌাদ্ধরা--নবীর বিরুদ্ধে তলোয়ার ধরেনি, রক্তপাতে অংশ নেয়নি।কোন সাহাবাকে হত্যা করেনি।এবং কি--নবী (স:) এর ওফাতের পর ভারতীয় উপমহাদেশে আগত সাহাবীদের ধর্ম প্রচারে বাঙ্গালী হিন্দু-বৌদ্ধ জনগোষ্টি   বাঁধার সৃষ্টি করেছিল ইতিহাস তেমনও সাক্ষ দেয়না। যৎসামান্য বাঁধা বিঘ্ন ঘটেছিল তাও ইসলামী  সাম্রাজ্য বিস্তারের ঘটনা নিয়ে,ধর্ম প্রচার নিয়ে  নয়। সেই বাঁধাটিও আদৌ বাঙ্গালী হিন্দু, বৌদ্ধ'রা দেয়নি। ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী অন্যান্ন জাতী গোষ্টির 'শাসক শ্রেনী' কতৃক দেয়া হয়েছিল। তাহলে আমরা বাঙ্গালী মুসলমানেরা--বাঙ্গালী হিন্দুদের উপর সুযোগ পেলে'ই চড়াও হই কেন? ওলামা-মাশায়েখ সাহেবেরাও বা কেন সময় সময় উদ্ভোদ্ধ করে তাঁদের উপর নিয্যাতন চালানোর জন্যে?

     ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বেশীর ভাগ বাঙ্গালী মসুলমান অজ্ঞ ইহা সত্য--ওলামা--মাশায়েখ" সাহেবেরা তাঁরচেয়ে আরেক ধাপ এগিয়ে ইসলামের প্রগতির ধারা সম্পর্কে অজ্ঞ। আমরা জানি এবং ওলামা-মাশায়েখ সাহেবেরাও বলেন--'ইসলাম সার্বজনীন ধর্ম।' আবার তাঁরাই প্রতিনিয়ত শুধুমাত্র মসূলমানের কল্যান কামনা করেন।আমাদের নবী (স:) তাঁর বিদায় হজ্বের ভাষনে একবারের জন্যেও মুসলিম ধর্মালম্বিদের উদ্দেশ্য করে একটি কথাও বলেননি। তিনি সমবেত সাহাবাদের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্যের প্রারম্ভে'ই "হে মানবজাতী" বলে সম্বোধন করে তাঁর বক্তব্য শুরু করেছিলেন।প্রত্যেক বারের বিরতি'র পর আবারও ভাষন শুরু করেছিলেন সমগ্র মানব জাতী'কে উদ্দেশ্য করেই।

     ওলামা-মাশায়েখ সাহেবেরা সর্বদাই এড়িয়ে যান--নবী (স:) এর জীবদ্দশায় বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।খন্ডিত বক্তব্যগুলী পরবর্তীতে সাহাবাগন বাছবিচারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হাদিস আকারে 'মুসলিম উম্মাহর অনন্তকালের কল্যানে সংরক্ষন করেন'।উক্ত হাদিস সমূহের কায্যকারিতা তখনকার অবস্থার প্রেক্ষাপটে সঠিক ছিল বটে। ইসলামী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর এবং বিদায় হজ্বের মর্মানুযায়ী পরবর্তীতে অনেক হাদিসের কায্যকারিতা হারিয়েছে।যেমন--বহু বিবাহ, মৌতা বিবাহ, রক্ত সম্পর্কিয়দের বিবাহ, ধর্মীয় সংখ্যালুঘুর নিরাপত্তা সহ অনেকগুলী ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে।

      প্রত্যেক মুসলমান স্বীকার করে নিতে হবে--নবী (স:) এর জম্ম, বাল্যকাল, কিশোর বয়স, নবুয়ত প্রাপ্তি, ইসলাম ধর্মের প্রচার-প্রসার, যুদ্ধ-বিগ্রহ, শত্রু নিধন, রাষ্ট্র নির্মান, ইসলামী সাম্রাজ্যের বিস্তার, শাসনকায্য পরিচালনা সহ দীর্ঘ জীবন কাহিনীর মূল সারমর্ম তিনি "বিদায় হজ্বে'র ভাষনে সংরক্ষিত করেছেন।" বিদায় হজ্বের ভাষনে মানবজীবনের এমন কোন দিক নেই--যা রাসূলে পাকের আলোচনায় আসেনি। দু:খ্যজনক হলেও সত্য-বর্তমানের 'ওলামা-মাশায়েখ' সাহেবেরা ওয়াজ মাহফিল, মসজিদ-মক্তবে, ইসলামী জলসায় বিদায় হজ্বের মহত্ব কখনই বর্ননা করেন না। তাঁরা রং রুপ মিশিয়ে এমন সব বক্তব্য উপস্থাপন করেন-যাহা বাস্তবতার সাথে আদৌ কোন সম্পর্ক নেই।তাঁরা হাদিস বা হাদিসের খন্ডিত অংশ উল্লেখ করেন কিন্তু হাদিসটি প্রনয়নের প্রেক্ষাপট, সময়কাল,প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করেন না।

   যে মহামানবের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ তাঁর পছন্দের ইসলাম ধর্মকে মানবজাতীর কল্যানে প্রেরন করেছেন, তিনি কস্মিনকালেও শুধুমাত্র মুসলিম উম্মাহর কল্যানের কথা বলেননি। তিনি সর্বদাই সমগ্র মানবজাতীর কল্যানের জন্যে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করেছেন। আল্লাহর নবী তাঁর সৃষ্টির আদৃষ্ট হয়েই সব কর্ম সম্পাদন করছেন।আল্লাহ প্রেরিত সার্বজনীন ধর্ম ইসলামকে একশ্রেনীর 'ওলামা মাশায়েখ' শুধুমাত্র মুসলমানের কল্যানে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টার ফলে গোটা মুসলিম বিশ্বে যতসব বিপত্তির উদ্ভব হচ্ছে।

     সমস্ত ঘটনার জন্যে কি অত্রাঞ্চলের সম্মানীত ওলামা-মাশায়েখ'রা দায়ী? কখনই নয়। অশুভশক্তি জামায়াতে ইসলামী দলে কতজন ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত বা মাওলানা আছে? সাঈদী সাহেব সহ হাতে গোনা দুই/তিনজন।অন্যরা সবাই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। ওলামাদের দোষ দিবেন কিভাবে? দোষ 'উলামা মাশায়েখ'দের নয়--দোষ তাঁদের ভিতরে অবস্থান নেয়া উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্টি, দখলদার স্বার্থান্বেষি মহলের। যুগেযুগে অত্রভূখন্ডের 'ওলামা মাশায়েখ'গন তাঁদের নিজেদের ধর্মীয় আন্দোলনের ফসল তাঁদের গোলায় না তুলে অন্যকে ধার দিয়েছে। ওলামা-মাশায়েখদের নীতি নৈতিকতার উক্ত ফসল সাম্প্রদায়িক গুষ্টি এবং তাঁদের প্রেতাত্বারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের কাজে ব্যাবহার করেছে।ওলামা মাশায়েখদের নীতি নৈতিকতার বল প্রেতাত্বারা সাধারন মসুলমানদের শাসন, শোষনের হাতিয়ার বানিয়েছে।  সর্বদাই ওলামাগন তাঁদের নীতি নৈতিকতার সম্পদ তুলে দিয়েছে ধর্মজ্ঞানহীন, ইসলামী অনুশাসন অমান্যকারি, মদখোর, বদমাইশ, লুটেরার হাতে। কখনই অত্র ভূখন্ডের প্রকৃত ইসলামের অনুশাসন মান্যকারী নেতৃবৃন্দকে তাঁদের ধারেকাছে ঘেঁষতে দেয়নি।

    অশুভচক্র, দেশবিরুধী শক্তি, সাম্প্রদায়িকশক্তি এতই পাষান্ড যে--বাঙ্গালী জাতীর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তাঁরাও  বাঙ্গালী হয়ে বাঙ্গালীর 'মা-বোনদেরকে বিজাতীয় সেনাদের হাতে তুলে দিতে কুন্ঠাবোধ করেনি। হাজার হাজার বাঙ্গালীকে হত্যা করে ফতোয়া দিয়েছিল-"বাঙ্গালী'রা 'কাফের' সুতারাং হত্যা করা জায়েজ। বাঙ্গালী মা-বোনেরা 'গানিমতের মাল'--",তাঁদের ধর্ষন করা জায়েজ, ইসলাম সিদ্ধ।" সেই সমস্ত মানবতা বিরুধী শীর্ষ রাজাকারদের বিচার কায্যক্রম বানচাল করার জন্য অন্যান্ন নাশকতার সঙ্গে কোরানে আগুন দিয়ে শতশত কপি কোরান পুড়িয়ে দিতেও তাঁদের সামান্য বুক কাঁপেনি।

    হেফাজতে ইসলামে'র আমীর আল্লামা শফি সাহেব শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন নাস্তিক্যবাদ উত্থান রোধকল্পে। তাঁর সেই আন্দোলন সরকার হঠানোর কোন আন্দোলন ছিলনা। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে তাঁদের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসী অংশ, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্টি এবং স্বার্থান্বেষী মহল মোক্ষম সময় নিয়ন্ত্রনে নিয়ে দেশব্যাপী অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার পতনের আন্দোলন সংগঠিত করার প্রয়াশ নেয়।অশুভ সম্মিলীত দেশবিরুধী শক্তি বয়োবৃদ্ধ উলামা সাহেবের কাঁধে বন্দুক রেখে যা শিকার করতে চেয়েছিল তা সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের কারনে বানচাল হয়েছে। তাঁরা বাংলাদেশের  ইসলামী আন্দোলনকে কয়েকযুগ পেছনে ঠেলে দিয়েছে। অরাজনৈতিক ইসলামী সংগঠন 'হেফাজতে ইসলামের' নিজস্ব দাবী আদায়ের আন্দোলনের সুদূরপ্রসারী ক্ষতি করে দিয়েছে।সমগ্র ষড়যন্ত্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়ার পর তিনি রাগে, ক্ষোভে, দু:খ্যে বিগত কয়েক বছর আর  কোন দাবী নিয়ে তিনি রাজপথে আসেননি। তিনি এতবেশী দু:খ্য পেয়েছেন বিএনপি'র নেতৃত্বে ২০ দলীয় শক্তিশালী সরকার বিরুধী রাজনৈতিক জোট ত্যাগ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংঙ্গে দেখা করে তাঁর প্রসংশা করেছেন।  সরকার পরিচালনায় শেখ হাসিনাকে সর্বাত্মক সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান করেছেন।

    অশুভশক্তি যে দলে'ই অবস্থান করুক না কেন--'মূল  উদ্দেশ্য তাঁদের এক ও অভিন্ন।' বিগত কয়েক বছরের মধ্যে বেশকিছু সংখ্যালুঘু নিয্যাতনের লোমহর্ষক ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে।তম্মধ্যে নাসির নগর সংখ্যালুঘু হিন্দুদের উপর স্থানীয় সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ একযোগে ঘোষনা দিয়ে তাঁদের বাড়ীঘরে হামলা, লুট, অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে মধ্যযুগীয় তান্ডব চালায়।তার আগে  রামুতে বৌদ্ধ ধর্মালম্বিদের উপর হামলা ও তাঁদের সম্পদ লুটপাট করা হয়। রংপুর সাঁওতাল পল্লি উচ্ছেদ সহ পার্বত্য চট্রগ্রামে নৃগোষ্টির উপর হামলা ও নিয্যাতন উল্লেখযোগ্য।২০০১ ইং সালের জামায়াত শিবির, যুবদল,ছাত্রদল মিলে দেশব্যাপী বিভৎসতার তান্ডব ঘটিয়েছিল--সেই বিভিষিকাময় দৃশ্য "বাঙ্গালী জাতি হাজার বছরেও ভুলতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে"।

কোরানে পাকে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে-- "ধর্মীয় সংখ্যা লুঘুদের জানমাল রক্ষা করা; তাঁদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করার সর্ব উচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করা প্রকৃত মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব"। শুধুমাত্র পবিত্র কোরানে উল্লেখ তা নয়--'নবী করিম (স:) তাঁর বিদায় হজ্বের ভাষনেও বিষয়টি অত্যান্ত গুরুত্ব সহকারে তাঁর সাহাবীদের প্রতি নির্দেশনা এবং অনুসরন করার কথা বলে গেছেন।'

   অত্র ভূখন্ডের বাঙ্গালী মুসলমানদের দুভাগ্য--পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্ট্রির প্রারম্ভ থেকে অদ্যাবদি ওলামা-মাশায়েখ গন নিজেরা রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব বা তদ্রুপ নেতৃত্ব গ্রহন করেনি। তাঁরা ইসলামী অনুশাসনের বিপরীতে অবস্থানকারী 'ব্যাক্তি-গোষ্টির' হাতে ইসলাম ধর্ম রক্ষার মহতি দায়িত্ব তুলে দিয়ে নিজেদের ধর্মীয় দায়িত্ব শেষ করেছে।  বর্তমানেও তাঁরা সেই পথ থেকে সরে আসেনি। আমাদের আম মুসলিম জনতার অজ্ঞতাকে পুঁজি করে উগ্র সাম্প্রদায়িক  অশুভ চক্র  অএ ভূখন্ডের ওলামা-মাশায়েখদের অভ্যন্তরে অবস্থান পাকাপোক্তভাবে নিশ্চিত করে রেখেছে। তাঁরা সংখ্যায় অত্যান্ত নগন্য হলেও ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে বাঙ্গালী মুসলমান সমাজকে বিপথে নিয়ে যাওয়ার শক্তি ধারন করে। তাঁরা বারবার আমাদের 'স্বল্প পুঁজির ইমান আকিদা''র উপর আঘাত দিয়ে তাঁদের কায্যসিদ্ধি করে নিয়েছে এবং এখনও নিচ্ছে।

    পাঠক ভাইদের আরো সহজভাবে অনুধাবন করার নিমিত্তে পাকিস্তানের উষালগ্ন থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ এবং তৎপরবর্তী হতে অদ্য পয্যন্ত তিনটি বড় ধরনের ভুখন্ডগত রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং সার্বভৌম বাংলাদেশ শাসনে উলামা-মাশায়েখদের ভূমিকা,তাঁদের নেতৃত্বের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আমার লেখা শেষ করতে চাই। ভারতীয় উপমহাদেশ বিভাজন সহ তিনটি রাজনৈতিক পরিবর্তনে অত্রাঞ্চলের ওলামাগন চারের অধিক ইসলাম বিদ্বেষি" নেতার হাতে ইসলাম ধর্ম লালনের নেতৃত্ব তুলে দিয়েছিলেন এবং রখনও দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। বিপরীতে অনেক মহান ব্যাক্তির ইসলাম ধর্মের প্রতি অনুরাগ, লালনের ইচ্ছা, ইসলাম ধর্মের বিস্তার, উৎকর্ষতা সাধনের  অশেষ অবদান থাকা সত্বেও ওলামাগন কাউকে গ্রহন করেননি এবং আগামী কয়েক দশকের মধ্যে করবেন আশা করাও যায়না। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যাক্তিদের সম্পর্কে কিঞ্চিত আলোচনা করা এখানে প্রয়োজন মনে করি।

  অখন্ড পাকিস্তানের জাতির পিতা 'কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ'  অগ্নি উপাসক, ভারতীয় নাগরিক। তাঁর ভিটেমাটি এখন পয্যন্ত ভারতীয় ভূখন্ডেই রয়ে গেছে।  অশুভচক্রটি তাঁর হাতেই তুলে দিয়েছিল পাকিস্তানের ইসলাম রক্ষার  মহান দায়িত্ব। অপরদিকে এ, কে, ফজলুল হক, হোসেন শহীদ  সরওয়ার্দী ইসলাম ধর্মের অনুসারী, ইমানদার মুসলিম, বাপদাদার ভিটেমাটি ছেড়ে পাকিস্তানের নাগরিকত্ব গ্রহন করলেও অশুভ  চক্রটি মোক্ষম সময়ে তাঁদের এড়িয়ে জিন্নাহ'র হাতে পাকিস্তান সৃষ্টির নেতৃত্ব তুলে দিয়েছিলেন।

    ২৩ বছর পর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ে অশুভশক্তির প্ররোচনায় পুর্ব পাকিস্তানের ওলামা-মাশায়েখদের সিংহভাগ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন। ক্ষেত্র বিশেষ অনেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের সংঙ্গে সম্মুখ সমরেও লিপ্ত হয়েছেন। ইসলাম ধর্মের নামে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের পক্ষে সরাসরি স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচারন করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে স্বসস্ত্র সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন।

  স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু'র স্বল্পসময়ের শাসনে রাষ্ট্রীয় পয্যায় ইসলাম ধর্মের প্রচার, প্রসার, চর্চার ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক কাজগুলি সম্পাদন করেছিলেন। রাষ্ট্রীয়, ব্যাক্তিজীবন ও সামাজিকভাবে ইসলামকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার মানসে মসজিদ, মাদ্রাসা, ইসলামী ফাউন্ডেশন সহ যাবতীয় ইসলামী কর্মকান্ড সমূহকে রাষ্ট্রীয় আইন, নীতি', রীতি'র মধ্যে সমম্বিত করেছিলেন। দেশের অভ্যন্তরে হাজার হাজার সুন্নি মাদ্রাসার বেতন ভাতা প্রদানের ব্যাবস্থা-রাষ্ট্রীয় আনুকুল্যে করেছিলেন।

  বায়তুল মোকারম জাতীয় মসজিদের জমি দান সহ স্থাপনা নির্মানে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ বরাদ্ধ নিশ্চিত করেছিলেন। তাবলিগ জামায়াতের বাৎসরিক মিলনমেলার বিশাল ভূমি (প্রায় একশ একর) বঙ্গবন্ধু সরকার বরাদ্ধ দেয়ার ব্যাবস্থা করেছিলেন। তাবলিগের প্রত্যহিক কর্মকান্ড সাধন কল্পে তাঁদেরকে কাকরাইলে মসজিদ নির্মানের ভূমি বঙ্গবন্ধু সরকার'ই প্রদান করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু নিজের জীবনাচারে ইসলামী অনুশাষন মেনে চলতেন।  ইসলাম ধর্মে নিষিদ্ধ সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, ব্যাক্তি কেন্দ্রিক  কর্মকান্ড সমূহ যেমন--'মদ জুয়া, ঘুষ, দুর্নীতি, পতিতাবৃত্তির ন্যায় ঘৃনিত কাজগুলি আইন প্রনয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন। সদা পাঞ্জাবি, পায়জামা পরিহিত বঙ্গবন্ধু পরিবার ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার অভ্যেস পারিবারিক ঐতিহ্যগতভাবেই প্রাপ্ত ছিলেন।

     বঙ্গবন্ধু'র সুযোগ্যকন্যা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী 'শেখ হাসিনা বিগত নয় বছরের মধ্যে দেশের বিদ্যমান আলিয়া মাদ্রাসা (সুন্নী মাদ্রাসা) সমূহের পয্যায়ক্রমে বহুতল ভবন নির্মানের 'মেঘাপ্রকল্প' বাস্তবায়ন করে চলেছেন। ইতিমধ্যে দুই তৃতীয়াংশ মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মিত হয়েছে।  বাদবাকি মাদ্রাসার ভবনও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্মানকাজ শেষ হবে আশা করি। দীর্ঘ ত্রিশ বছরের ওলামা-মাশায়েখদের সমর্থিত সতকারের অবহেলায় জীর্ণশির্ন ইসলামীয়া মাদ্রাসার বিনা বেতনের শিক্ষদের একত্রে একই দিন, একই সময়ে সরকারের বেতন ভাতা প্রাপ্তির নিশয়তার আওতায় নিয়ে এসেছেন।

    তাছাড়াও প্রতিটি উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় শহরে  হাইরাইজ  অত্যাধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মান এবং, উক্ত মসজিদের ইমাম (৩৮০০০/), মোয়াজ্জিন(৩৬০০০/), খাদেম(৩৬০০০/) নাইটগার্ডের(১৪০০০/) লাইব্রেরিয়ান (২২০০০)টাকা (সরকারী প্রদেয় স্কেল ৮ম থেকে ১৩তম) বেতন, ভাতা ধায্যকরন সহ মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। লক্ষ লক্ষ কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রীয় মূলস্রোতে নিয়ে আসার নিমিত্তে তাঁদের সর্বোচ্ছ শিক্ষা সনদকে রাষ্ট্রীয় স্বিকৃতি প্রদান করেছেন।  শেখ হাসিনা ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ঐতিহ্যগতভাবে ইসলামী অনুশাষন পুংখ্যানুপুংখ্যভাবে মেনে চলেন।

     ইসলামী শিক্ষায় দুই ধরনের শিক্ষাব্যাবস্থা আগে থেকেই ল্রচলিত।একটি ধারাকে(সূন্নি) বঙ্গবন্ধু সরকার রাষ্ট্রীয় স্বিকৃতি দিয়েছেন, আর একটি ধারাকে(কওমী) তাঁর কন্যা স্বীকৃতি দিয়েছেন। নামমাত্র পাবলিক বেতনধায্য মসজিদের এক ঈমামের স্থলে কমপক্ষে চারজন ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত মাওলানা,মৌলবি সরকারি বেতন ভাতা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনার সরকার। ইসলাম ধর্মের উৎকর্ষতায় আর বাকী রইল কি?

    তথাপি বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রাক্কালে ওলামা মাশায়েখগন ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে অশুভশক্তি জামায়াতের প্ররোচনায়  পাকিস্তানী বিজাতীয়দের সমর্থন জানায় এবং বাঙ্গালী নিধনে সহযোগীতা প্রদান করে।' ১৯৭৫ইং ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করার পর খুনী মোস্তাক--জিয়াকে ওলামা-মাশায়েখ গনের পক্ষ থেকে  অভিনন্দন জানায় এবং খুনিদেরকে ইসলামের মহান সেবক হিসেবে আখ্যায়িত করে।

     খোন্দকার মোস্তাক ১৯৭৫ ইং সালের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যাকরে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত  পাকিস্তানের নীতি আদর্শের দিকে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের নেপৈথ্য নায়ক ঠান্ডা মাথার খুনী 'মেজর জিয়া' ১৯৭৬ ইং সালের প্রথমার্ধে বন্দুকের নলে পেছনের দরজায় ক্ষমতা গ্রহন করেন।  তিনি বাঙ্গালী জাতীকে পরাজিত পাকিস্তানের আদর্শে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ষোলকলা পূর্ণ করেন। তিনি'ই ৭২ এর সংবিধানে ইসলাম ধর্ম বিরুধী এবং বঙ্গবন্ধু সরকার কতৃক 'মদ, জুয়া, পতিতাবৃত্তি, ঘুষ দুর্নীতি' নিষিদ্ধ সংক্রান্ত আইন সমূহ বাতিল করে সকল অনৈতিকতা উম্মুক্ত করে দিয়ে বাংলাদেশের যুবসমাজকে অন্ধকারে নিয়ে যাওয়ার প্রধান উদ্যোগতা।

   জিয়া ব্যাক্তিগত এবং পারিবারিক জীবনাচারে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা কখনই তোয়াক্কা  করেননি।তিনি বাঙ্গালীর স্বাশ্বত: পরিধেয় পায়জামা, পাঞ্জাবি পরিত্যাগ করেন--যাহা ইসলাম ধর্মেও অনুমোদিত। তাঁর স্থলে--স্যুট, টাই, কালো চশমার নতুন পরিধেয়  চালু করেন--যাহা ইংরেজদের পরিধেয়। তাঁর কাঁধে''ই অশুভ শক্তি'র প্ররোচনায় বাংলাদেশের 'ওলামা-মাশায়েখ' গন ইসলাম রক্ষার মহান দায়িত্বটি তুলে দিয়ে স্বাচ্ছন্দবোধের ঢেকুর তুলেছেন।  ওলামা-মাশায়েখগন এমন এক  পরিবার এবং কতিপয় ব্যাক্তির হাতে ইসলাম লালনের ভার তুলে দিলেন যে পরিবার এবং ব্যাক্তিগন সঠিক ভাবে ইসলাম ধর্মের প্রাথমিক বাধ্যবাধক এবং 'পবিত্র কোরানে'র প্রারম্ভিক আরবী আয়াত (বিছমিল্লাহ---রাহিম) উচ্চারন করতে পারেনা।এবং কি , বলতে, লিখতে বা পড়তেও  পারেন না। উল্লেখিত ব্যাক্তিগনের কারোই ব্যাক্তিজীবন ইসলামের দৃষ্টিতে সুখকর ছিলনা বা এখনও নেই।

        
    ইসলামের অনুকুলে 'চিমটি পরিমান' উল্লেখ করার কোন অবদান না থাকা সত্বেও এবং নীজেদের জীবনাচারে ইসলামের কোন প্রকার চিহ্ন নাথাকা সত্বেও জিন্নাহ, জিয়া,' এরশাদ,খালেদা ইসলাম রক্ষার  ইমাম হতে পেরেছেন।' উক্ত চার রাষ্ট্রীয় শাসকের শাসনকাল প্রায় পঞ্চাশ বছর দেশ শাসনে কোথাও একটি মাদ্রাসা বা একটি মসজিদ সরকারি অনুদানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বা একজন মাদ্রাসার শিক্ষকের বেতন সরকারি কোষাগার থেকে দিতে পেরেছেন হলফ করে কেউ  বলতে পারবেনা। তাঁরপরও অশুভ শক্তির প্ররোচনায় অত্র ভূখন্ডের 'ওলামা-মাশায়েখ'দের  নিকট তাঁরাই ইসলামের ধারক এবং বাহক। চার শাসকে'র সম্পূর্ণ জীবনাচার বিভিন্ন অনৈতিক দোষে দোষ্ট, আকন্ঠ পাপাচারে নির্বিষ্ট ছিল এবং এখনও আছে।  তাঁরাই পেয়েছেন ইসলামের শ্বাস্বত: নীতিনৈতিকতার সম্পন্ন "ওলামা-মাশায়েখ'দের বলিষ্ট সমর্থন।

   Ruhul Amin Mojumdar's Profile Photo, Image may contain: one or more people

লেখক:  কলামিস্ট , গবেষক এবং সাংবাদিক, উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস
ruhulaminmujumder27@gmail.com


Facebook

মন্ত্যব্য করুন