শিরোনাম:

Sun 03 December 2017 - 01:41am

স্বপ্নবাজ আনিসুল হক চলে গেলেন নাফেরার জগতে || হাসান আরিফ

Published by: নিউজ রুম এডিটর, বাংলাদেশ প্রেস

423a54df4f6d3b99b654d54de7190a57.jpg

বাংলাদেশ প্রেস: স্বপ্নবাজ আনিসুল হক চলে গেলেন নাফেরার জগতে । কিছু কিছু মানুষের জন্য সময় অপেক্ষা করে ।
যাঁরা প্রচলিত ধ্যান-ধারনা বদলে দিতেই আসে, আসে মানুষের স্বপ্নের সীমানা বড় করে দিতে । এমন একজন মানুষ ঝড়ের গতিতে এসে যেন নিমেষেই মিলিয়ে গেলেন । বয়স যে চলে যাবার নয় এমনটা ভাবতে ইচ্ছাকরে।কিন্তু আপন সন্তানের সমাধিতে শায়িত হয়ে চলে যাবার চির সত্যটা প্রবলভাবেই মনে করিয়ে দিয়ে গেলেন প্রিয় আনিসুল হক । হঠাৎ খটকা লাগে মনে "প্রিয়" শব্দটা কি যথার্থ হলো ? হা্যঁ যুক্তি পেতে বিলম্ব হয়না - আমার তারুন্যকে তিনি জয় করেছিলেন টেলিভিশন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে, ব্যবসায়ি নেতা হয়ে যখন আবির্ভূত হলেন তখনও প্রিয় শব্দটি যথার্থ । অথচ ঐ দুটি পরিচয় যেন দুটি আলাদা সত্ত্বা । কোন মিল নেই কাজের ও চিন্তার । তবুও আনিসুল হক আমাদের মাঝে একজনই রইলেন তার প্রধান কারন বোধ করি তাঁর ব্যক্তিত্ব ও নিজস্ব অভিব্যক্তি । দেশটা ৪৬ বছর ধরে নানা চড়াই-উৎড়াইয়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে । এর মাঝে সাচ্ছন্দ নিয়ে খুব ক্ষণকালই অতিবাহিত হয়েছে। তবু স্বপ্নবান মানুষেরা আমাদের আশায় বুকবাঁধতে সাহস জুগিয়েছে ক্রমাগত । এক বঙ্গবন্ধু প্রায় ৭৫ বছরকাল আমাদের এগিয়ে চলার পথ দেখাচ্ছেন । শেখ হাসিনা মৃতু্যকে হাতের মুঠোয় নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যন্নয়নে নিজেকে নিবেদন করে চলেচেছেন । আমাদের কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীগণ বাংলার মলিন মুখটা মসৃন করে সাজিয়ে তোলেন নিরন্তর । আনিসুল হক তো এই ধারা থেকে উৎসারিত এক প্রাণ ।


ঢাকা শহরের গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নতুন একটি মাত্রা যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল । ঐ বারই প্রথম নগরীকে দুভাগে বিভক্ত করে উত্তর ও দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হয় । উত্তরের প্রার্থী নির্বাচনে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ সবাইকে বিস্মিত করে । রাজনিতীতে সরাসরি অংশগ্রহনের অভিজ্ঞতাহীন আনিসুল হক মনোনয়ন পান। সুধী সমাজ ও সাধারন মানুষ অভিন্ন মতে পৌঁছায় আনিসুল হকের বিষয়ে, তা হলো এ মানুষটি জীবনের সকল অধ্যায়ে সফল । জীবনের যৌবনের অধ্যায়ে তিনি একই অনুষ্ঠানে হাস্যরসে যেমন মাতিয়ে দিতেন তেমনি গভীর সংকট ও সমস্যার দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করতেন যা সবার চিন্তায় ঠাঁই পেত । আবার ব্যবসায়ি নেতা হিসেবে তিনি সামাজিক দায়ব্ধতার বিষয়েসংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ ও সচেতন রাখতেন । ফলে সাধারন মানুষ তাঁর কর্ম জীবনের সকল অধ্যায় পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছিল । এ কৃতিত্ব সর্বাংশে শুধুই আনিসুল হকের প্রাপ্য । ঢাকা উত্তরের সীমানা নির্ধারণ হয়েছে নগরীর পরিকল্পিত অংশে । কিন্তু অতিরিক্ত জনচাপে কিছুই নিয়মে বাঁধা দুস্কর ফলে সব পরিকল্পনাই ভেস্তে যাবার পথে । আধুনিক ও যুগোপযোগী সীদ্ধান্ত গ্রহন করবার ক্ষমতা আছে এ বিচারেই জনরায় আনিসুল হককে মেয়র নির্বাচিত করে । তিনি চমক দেখাতে চাননি, মিথ্যা আস্বাস দিতে চাননি । বরং মানুষের মাঝে গিয়ে জানতে চেয়েছেন বুঝতে চেয়েছেন সমস্যার কারন । সংকট নিরসনে তাৎক্ষনিকতাকে পরিহার করে সুদূরপ্রসারী হবার চেষ্টা করেছেন । একটি সামগ্রীক উন্নয়ন ভাবনা সাধারনের চিন্তায় ঠাঁই করে দিয়েছেন । তাই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পরেশনের বাসিন্দারা যেমন তা উপলব্ধি ও কল্পনা করতে পারেন তেমনি দেশবাসীও তা বুঝতে পারছিলেন । তিনি যখন হাস্য মুখে সকলকে একটু অপেক্ষার অনুরোধ করতেন মানুষও তখন গভীর আগ্রহে তাঁর স্বপ্নের নগরী দেখার প্রতীক্ষায় মগ্ন হতো । "শিল্পীর পাশে ফাউন্ডেশন " তাঁর নিজস্ব উদ্যোগে গড়া প্রতিষ্ঠান । বিপন্ন অবস্থায় যাতে শিল্পীরা অসহায় বোধ না করেন তার জন্য এটি গড়ে তোলা হয়েছে । নির্ভরযোগ্য মানুষদের এক করে যৌথ দায়িত্বে এ পরিচালিত । তিনি সচেষ্ট হয়েছেন তাঁর শিল্পী বন্ধুদের আশ্বস্ত করতে । পথ দেখিয়েছেন অন্যদের । চাইলে সকল সক্ষম মানুষেরা নিজ নিজ শ্রেণী-পেশার মানুষদের বিষন্নতায় নিজেদের ক্ষমতাতেই পাশে দাঁড়াতে পারেন । নিষ্ঠা-সততা-সাহস থাকলে স্বপ্ন পূরনে অদম্য হওয়া যায় । আনিসুল হক সল্প সময়ে সেই উদাহারন ও দৃষ্টান্ত স্থানে সক্ষম হয়েছেন । আগামীতে তাঁর স্বপ্নের পথ ধরে সারাদেশে নগর উন্নয়ন যথাযথ করা সম্ভব । যুগে যুগে আনিসুল হকের মত স্বপনবাজেরা আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেমে প্রাণীত করে গেছেন । ফলে স্বপ্নবাজদের স্বপ্ন কখনো ফুরায়না , প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম তা প্রবাহমান থাকে । তাইতো আনিসুল হকেরা মৃত্যুহীন প্রাণ । 




লেখকঃ হাসান আরিফ, সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট



Last update: Sun 03 December 2017 - 01:54am

Facebook

মন্ত্যব্য করুন