শিরোনাম:

Sat 02 December 2017 - 03:27pm

অসময়ের যাত্রী, আনিসুল হক ।। আবদুল মালেক

Published by: নিউজ রুম এডিটর, বাংলাদেশ প্রেস

f5820d04a63f3fbbda6ee3e04686efac.jpg

আবদুল মালেকঃ নায়কোচিত চেহারা, উন্নত বাচন-ভঙ্গি এবং  বাকসংযম আর ব্যক্তিত্বের কারনে অল্প সময়েই সাড়া জাগান টেলিভিশন  উপস্থানায়। বলছি সদ্য প্রয়াত ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের কথা। ১৯৫২ সালে জন্ম নেয়া এই মানুষটি তাঁর পথচলার প্রতিটি বাঁকেি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। জীবনের প্রান্ত বেলায় রাজনীতির মাঠেও সফল ছিলেন তিনি। এমন একজন কর্মচঞ্চল,  প্রান প্রাচুর্য ভরা মানুষ এমন অসময়ে চলে যাবেন তা ভাবতেই কষ্ট হয়। কিন্তু বাস্তবতা বড় ননির্মম। গত পরশু রাতে লন্ডনে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রিয় ব্যাক্তিত্ব। 
-
আনিসুল হক যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলেছে। তৎকালীন সময়ে হাতেগোনা কয়েকজন টিভি উপস্থাপক ছিলেন যাদের অনুষ্ঠান দেখার জন্য মুখিয়ে থাকতো দর্শকশ্রোতা। তাদের অন্যতম ছিলেন অধ্যাপক আবদুল্লা আবু সায়ীদ এবং আনিসুল হক। বলতে গেলে উপস্থাপনার জগতে নতুন দিনের নূচনা করেন এই দুজন। আনিসুল হকের অনুষ্ঠানের আকর্ষন ছিল ভিন্ন মাত্রার। তাঁর দৃঢ় ও ভরাট উচ্চারন, বিষয়ভিত্তিক যৌক্তিক উপস্থাপনা। কখনোই বিষয়ের বাইরে চলে যাননি। ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি নতুন ধারার টিভি উপস্থাপনা শুরু করেন যা দর্শকশ্রোতা লুফে নিয়েছিল। অনুষ্ঠানের নাম ছিল 'সবিনয়ে জানতে চাই'। সে অনুষ্ঠানে তিনি দেশের বাঘা বাঘা নেতাদের অবলীলায় অনেক কঠিন প্রশ্ন করতেন যা কখনোই ভদ্রতার মাত্রা অতিক্রম করেনি। 
-
টিভি উপস্থাপনার এই অসাধারন সাফল্যের পর তিনি সফলতার স্বাক্ষর রাখেন ব্যবসায়। পোশাক শিল্পে তাঁর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন প্রায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি শ্রমিক। ব্যাবসায়ী নেতা হিসাবেও রাখেন যোগ্যতার স্বাক্ষর।  ২০০৬ সালে তিনি ব্যাবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই'র  সভাপতি নির্বাচিত হোন, তিনি ছিলেন মুহাম্মদী গ্রুপের কর্নধার।
-
সাফল্যের সাথে সাথে অনেকের মাঝে যে দাম্ভিকতা আসে তেমন কিছু আনিমুল হবের বেলায় শোনা যায়নি। বরং আগাগোড়া তিনি একজন নিপাট ভদ্রলোক ছিলেন বলেই সর্বমহলে পরিচিত ছিলেন। পোশাক খাত ছাড়াও তিনি বিদ্যুত,  আবাসন এবং কৃষিখাতে বিনিয়োগ করেন। প্রায় সকল সেক্টরেই সাফল্য লাভ করেন আনিসুল হক। এই সফলতা তাকে সমাজ ও মানুষের প্রতি আরো বেশি দায়বদ্ধ করেছিল, মানুষের কল্যানে কাজ করার অনুপ্রেরনা যুগিয়েছিল।। হয়তো সেই ধারনা থেকেই তিনি ব্যবসায় অঙ্গন ছেড়ে এসেছিলেন রাজনীতির ময়দানে। 
-
রাজনীতির মাঠেও যথারীতি সফল তিনি। তিনি এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। তাঁর সততা, ব্যাক্তিত্ব তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিল।  ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দু'ভাগ হলে আওয়ামী লীগের পক্ষে উত্তরের  মনোনয়ন পান তিনি। শেখ হাসিনা যে ভুল মানুষকে মনোনয়ন দেননি, নির্বাচনে তাঁর বিজয় সে সাক্ষই দেয়। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় দেড় লক্ষাধিক ভোট বেশি পেয়ে উত্তরের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হোন।  উদ্যমী ও নিরলস পরিশ্রমী এই মানুষটি নির্বাচনের বিজয়ের দিন থেকেই কাজে নেমে পড়েন। তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড সরানো তাঁর উল্লেখযোগ্য অর্জন।
-
এমন সফল ও প্রিয় মানুষটির অকালপ্রয়ান ব্যথিত করেছে সর্বস্তরের মানুষকে।  তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত হলেও সব দলের কাছে তাঁর সমান গ্রহনযোগ্যতা ছিল যা বর্তমিন বাস্তবতায় প্রায় অকল্পনীয়। প্রিয় আনিস ভাই, যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন, খুব ভালো।

লেখকঃ উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস।

পড়ুনঃ 



বাংলাদেশপ্রেস/০২ ডিসেম্বর/এস আর৩৬

Facebook

মন্ত্যব্য করুন