শিরোনাম:

Thu 30 November 2017 - 07:48pm

যা কিছু অর্জন সব আওয়ামী লীগের ।। আবদুল মালেক

Published by: নিউজ রুম এডিটর, বাংলাদেশ প্রেস

cbac0bc045073b082bfb1f50059b57ae.jpg

আবদুল মালেক: পুরনো ইতিহাসে না-ই গেলাম, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মই হয়েছিল একটি আন্তর্জাতিক  অপবাদ মাথায় নিয়ে। পৃথিবীর মুরুব্বি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা শংকায় এবং অনেকটা ক্ষোভে বলেছিল, 'বাংলাদেশ হবে একটি তলাবিহীন ঝুড়ি'। রাষ্ট্র হিসাবে টিকবে কি-না এই সন্দেহও ছিল, যদি টিকেও তবে সম্পুর্ন বিদেশি সাহায্য-সহায়তা নিয়ে চলতে হবে এমন ধারনাও ছিল মার্কিনীদের। কিন্তু সাড়ে চার যুগ পরে সেই মার্কিবীদের আজ চোখ ছানাবড়া। সেদিন জনসংখ্যা ছিল সাতকোটি, আজ ষোল কোটি, ভালোই আছে বাংলাদেশ, খাবারের জন্য হা-পিত্যেস নেই, এ ঘটনা অবাক বিষ্ময়ে অবলোকন করছে বিশ্ব। এই অর্জনের পিছনে আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অবদান।
-
রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি সংবিধান প্রয়োজন, অনেক দেশ সংবিধানের জন্য যুগ যুগ অপেক্ষা করেও সেটি পারেনা। অথচ মহান মুক্তিযুদ্ধের অল্প পরেই বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় আওয়ামী লীগ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান রচনা করে। পৃথিবীর ইতিহাসে নেই, যুদ্ধে অংশ নেয়া বিদেশি সেনা এক বাক্যে চলে যায়। অথচ বঙ্গবন্ধুর এক ঘোষনায় স্বাধীনতার মাত্র দু'মাসের মাথায় ভারতীয় মিত্রবাহিনী ফিরিয়ে নেন শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। কিছুই ছিলনা যে দেশে সেই ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে প্রায় সব সেক্টরে শৃঙখলা আনয়ন করেন বঙ্গবন্ধু। অর্থাৎ একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হতে গেলে যা যা দরকার তার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু, কিন্তু দেশি-বিদেশি চক্রান্তের শিকার হয়ে নিহত হোন তিনি, না হলে আরো কুড়ি বছর আগেই আজকের পর্যায়ে থাকতো বাংলাদেশ।
-
সেই নির্মম ঘটনা স্তব্ধ করে দিয়েছিল গোটা দুনিয়ার বিবেকবান মানুষকে। আওয়ামী লীগ ছিটকে পড়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে, অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়ে দলটি। এই সময়ে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করে দুর্বৃত্বের দল, প্রিয় স্বদেশ চলে উলটো পথে। একুশ বছর রাজপথে সংগ্রাম করে ১৯৯৬ সালে পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতা ফিরে পায় আওয়ামী লীগ। এতদিনে দেশের চেহারা বদলে দিয়েছে শকুনীর দল। প্রতিটি সেকটর স্বাধীনতা বিরোধীদের দখলে। ভুল আর বিকৃত ইতিহাস তখন জাতির সামনে। জয়বাংলার লেশমাত্র নেই কোথাও যা ছিল মুক্তিযুদ্ধের মুলমন্ত্র। সেই ঘোর অমানিশা সাথে নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিলেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তাঁর সেই শাসনামলে তিনি কি দেননি এই জাতিকে? ভারতের সাথে গঙ্গার পানি চুক্তি, অর্ধশতক ধরে চলমান পাহাড়ে শান্তিচুক্তি এগুলো আওয়ামী লীগের অনন্য অর্জন। বিশেষ করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতা শেখ হাসিনার সরকারের অনবদ্য অর্জন।
-
আরো একটি বিরল কৃতিত্ব আওয়ামী লীগের, ২০০১ সালে শান্তিপুর্ন ক্ষমতা হস্তান্তর যা অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত। ইতিহাস এই অধ্যায়কে স্মরন করবে যথার্থ মর্যাদায়। কিন্তু এর পরের দৃশ্য আমরা কি দেখলাম, অর্বাচীন চারদলীয় জোট সরকার রাজাকারদের সমন্বয়ে দেশকে আবারো পাকিস্তানের ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়ার পায়তারা করে। এমনকি মেয়াদ শেষে যেনতেন প্রকারে ক্ষমতায় টিকে থাকার নগ্ন প্রচেষ্টা চালায়। ফলে জাতির কাঁধে চেপে বসে দু'বছরের অনির্বাচিত সরকার। আবারো রাজপথের আন্দোলন করে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। 
-
আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রানপ্রিয় রাজনৈরিক সংগঠন। গরীব-দু:খীখী মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষে পরাক্রমশালী পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই এই দলের জন্ম। কেউ যা কল্পনাও করেনি সেটি হলো যুদ্ধাপরাধীর বিচার, আওয়ামী লীগ তা করে দেখিয়েছে। ভারতের সাথে ৬৫ বছরের ছিটমহল সমস্যার সমাধান, সমুদ্রসীমা বিরোধ মীমাংসা, স্থলসীমা চুক্তি এবং মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা চুক্তি, এগুলো আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক অর্জন যার সুফল ভোগ করবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর। এই যে হালের রোহিঙ্গা সংকট এরও যৌক্তিক সমাধান দিবে আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনা। অথচ এই মানবিক সংকট নিয়েও রাজনীতি করতে চেয়েছিল বিএনপি ও কিছু ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দল। 
-
আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পুরোধা রাজনৈতিক দল, জন-মানুষের প্রানের সংগঠন। এই দল যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে তখনই দেশের মানুষ রাষ্টের সুযোগসুবিধা এবং অধিকার ভোগ করেছে। ভবিষ্যতেও এই শুভ ধারা অব্যাহত থাকবে এটিই প্রত্যাশা।

লেখক: উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস।।

পড়ুনঃ 


Facebook

মন্ত্যব্য করুন