শিরোনাম:

Tue 28 November 2017 - 10:03pm

নতুন প্রজম্মে'র কল্যানে 'জিয়া পরিবারে'র বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে উত্থাপিত দূর্নীতি'র অভিযোগ তদন্ত সময়ের অন্যতম দাবি

Published by: নিউজ রুম এডিটর, বাংলাদেশ প্রেস

0af95c28786510cede579f94dd7b7e8f.jpg


রুহুল আমিন মজুমদার:--জোট সরকারের রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়নের কথা বলবনা-- ঐ স্মৃতি এখন বিস্মৃত। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মানসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন সরকারের প্রশাসনিক স্তর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পয্যন্ত একতরফা নিয়োগ দিয়ে নিচ্ছিদ্র ভোট কায্যক্রম বাংলাদেশের মানুষ সবাই ভূলে গেছে। তত্ববধায়ক সরকার প্রধান নিজ দলীয় রাষ্ট্রপতির হাতে শুধু ন্যাস্ত নয় অন্যান্ন উপদেস্টা নিয়োগেও কারো তোয়াক্কা না করার চরম সত্যটি'র কথাও বলবো না--ঐ সমস্ত স্মৃতি এখন বিস্মৃত। তাছাড়া এইমূহুর্তে বলে কোন লাভ হবেনা- সকল পক্ষ রঙিন স্বপ্নে বিভোর। এতেই যদি ক্ষান্ত হ'ত বলার আমারও কিছু ছিলনা। সদ্য প্রকাশিত গুরুতর বিষয়টি তো আর ভূলে যেতে পারিনা। সেনা শাসনের দুর্বিসহ অভিজ্ঞতার কথা ভূলবো কিভাবে? জোট সরকার  নানাহ প্রক্রিয়া করার পরও ক্ষমতায় ফিরে আসা নিশ্চিত হতে না পেরে "সেনা প্রধান"কে ক্ষমতা গ্রহনের আহব্বান সহজ ভাবে নেয়া যায়না।যেহেতু বিষয়টি অতীত-তাই না হয় বাদ'ই দিলাম।
      কিন্তু বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নকামী তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের দূর্নীতি, লুটপাট,  অর্থপাচারের অতীত এবং বর্তমানে প্রকাশিত তথ্য কি বাদ দেয়া যায়? বর্তমান সরকার বাদ দিলেই বা কি হবে--এই সমস্ত ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ডের দালিলিক প্রমান শতবছর পরেও পাওয়া যাবে।কোন এক সরকার যদি প্রকৃত সত্য উৎঘাটনের ব্যাবস্থা গ্রহন করে এবং প্রকৃত সত্য উৎঘাটন করে, তবে প্রজম্মের নিকট বর্তমান সরকারের  কি জবাব হবে? অন্তত:পক্ষে মামলা না হোক দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সত্যতাতো উৎঘাটিত হতে পারে? বিষয়টি সরকার গভীরভাবে পয্যালোচনা করবে এবং তদানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করবে বাংলাদেশের জনগন আশা করে।

      সবচেয়ে আশ্চায্যজনক বিষয়টি হচ্ছে--উত্থাপিত কোন একটি বিষয় সম্পর্কে অদ্যাবদি জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে বা তাঁদের দলীয় বা জোটগত পক্ষ থেকে কোন প্রতিবাদ, প্রতিক্রিয়া, ক্ষোভ, দূ:খ্য প্রকাশ করে দেশ বিদেশের কোন মিডিয়ায় কোন প্রকার বিবৃতি অদ্যাবদি দেয়া হয়নি। এতেই প্রমাণীত হয় প্রকাশিত প্রত্যেকটি বিষয়ের সাথে জিয়া পরিবার নিশ্চিত জড়িত ছিল এবং আছে।

       সদাশয় বঙ্গবন্ধু কন্যার সরকারের নিকট সবিনয় জানতে চাই নিম্নোক্ত বিষয়গুলী'র সত্যতা উৎঘাটনে নিরপেক্ষ তফন্ত দল গঠিত হবে কিনা? হোক সেই তদন্তদল 'বিচার বিভাগের মধ্য হতে' নয়ত দেশের সর্বজনগ্রাহ্য প্রথম শ্রেনীর নাগরিকদের মধ্য থেকে।আর ও বেশী স্বচ্ছতার প্রয়োজনে চার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে "নিরপেক্ষ তদন্তদল"এর  সদস্যদের তদন্তদলে অন্তভূক্তির মাধ্যমে হলেও জনগনের কোনপ্রকার আপত্তি থাকবেনা বলে'ই মনে হয়।

     (এক) সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে রাজস্ব পরিশোধের মাধ্যমে সাবেক 'জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পরিবার কাল টাকা সাদা' করার দৃশ্য বাংলাদেশের জনগন মিডিয়ার সৌজন্যে স্বচক্ষে দেখেছে কিন্তু কোন মামলা হয়নি।সরকার প্রধানের পরিবারে কাল টাকা আসার উৎসই বা কি জনগন জানে না।

(দুই) মালয়শিয়ান সরকারের 'দূর্নীতি দমন' বিভাগের হাতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী'র পরিবারের দূর্নীতি'র অর্থ ধরা পড়ল এবং উক্ত বিপুল পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ সরকার বরাবর মালয়শিয়ান সরকার ফেরৎ পাঠাল কিন্তু বাংলাদেশ সরকার কোন মামলা করেনি এবং কি উক্ত অর্থের উৎস কি ছিল তাও জনগন জানে না।

  (তিন) সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানে উক্ত পরিবারের বিপুল অর্থ লগ্নি করার খবর "প্যারাডাইস পেপার্সে" উঠে এল।সরকারি পয্যায় বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রয়োজনও অনুভব করছে বলে মনে হয়না।    

     (চার)শুধু যে নাম উঠেছে তাই নয়- উক্ত সংস্থার জরিপের ফলাফলে সারা 'বিশ্বের সাবেক এবং বর্তমান দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানে'র মধ্যে 'তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নকামী একটি দেশের সাবেক সরকার প্রধান "জিয়া পরিবার তৃতীয় স্থানে" নির্ধারীত হল। উল্লেখিত বিষয়টির সঙ্গে বাংলাদেশের শুধুমাত্র অর্থনীতিরই সংযোগ আছে তা নয় ভাবমূর্তিরও গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। দু:খ্যজনক হলেও সত্য সরকার বিষয়টি নিয়ে কোনপ্রকার কর্ণপাতই করছেনা। যদি একান্তই কিছু করা না হয়-বিশ্বব্যাপী 'লজ্জা এবং গ্লানী'তে বাংলাদেশ তৃতীয় হওয়ায় খালেদা পরিবারকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া যেতে পারে। 

   (পাঁচ) সৌদি রাজ পরিবারের দূর্নীতি বিরুধী অভিযানে "যুবরাজ তালহা'র" জবান বন্দিতে জিয়া পরিবারের ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশিত হল। উল্লেখিত বিষয়টি বাংলাদেশের জনগনের জন্যে নতুন সংযুক্ত একটি বিষয়।   উক্ত বিষয়টি তদন্তপূর্বক অন্তত: সরকারি একটি  'প্রেসনোট' জনগন পাওয়ার অধিকার রাখে।

   (ছয়) দেশে অভ্যন্তরে স্থলে "মদের কারখানা থেকে শুরু করে ডান্ডি ডাইং" পয্যন্ত এবং জলে  "কোকো-১-২-১২  জাহাজের খবর জনগনের জানা আছে।তাছাড়া অসংখ্য   কল কারখানায় ঐ পরিবারের শেয়ারের হদিস পাওয়া গেল।  বিষয়গুলী বাংলাদেশের জনগনের চোখের সামনে'ই আছে।উক্ত প্রতিষ্ঠান গুলীর বিপরীতে আবার হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংকে ঋনও রয়েছে। অন্তত:পক্ষে সরকারি ভাবে  ঋন আদায়ের ব্যাবস্থা গ্রহন করার দাবী জনগনের করা অন্যায় হবে বলে মনে করিনা।

       (সাত) ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা'র সংঙ্গে যোগসাজসের খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশীত হল।উক্ত ঘটনার মূল মাধ্যম চট্রগ্রামের ব্যাবসায়ী অদ্য পয্যন্ত জেল অভ্যন্তরে রয়েছে। কিন্তু খালেদার সম্পৃত্ততার বিষয়টি তদন্ত হল না।ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের সাথে কোন প্রকার সরকারি বা নাগরিক সম্পর্ক শুধুমাত্র ধর্মীয় কারনে নয় বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান বহির্ভুতও বটে। তদোপরিও সরকারি পয্যায়ে বিষয়টি সম্পর্কে বৃহত্তর কোন তদন্তের খবর দেশের জনগন জানতে পারেনি।

      (আট) সর্বশেষ আই এস, আই এস আই, লস্কর এ তৈয়বা'র জঙ্গিদের সঙ্গে 'রোহিঙ্গা শরনার্থী সংক্রান্ত খালেদা জিয়ার বৈঠক' এবং 'শেখ হাসিনা' সরকারের উৎখাত পরিকল্পনার তথ্য বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে সদ্য প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশের একটি ইলেকট্রোনিক মিডিয়ায় আলোচনা অনুষ্ঠান 'ইউ. টিউ'বে সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়াচ্ছে।ইহার সত্যতা যাচাইকল্পে সরকারি কোন পদক্ষেপ এখন পয্যন্ত জনগন জানতে পারেনি।অন্তত:পক্ষে জনমানসের শংকা নিবারণে যথোপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহন সরকারের নৈতিক দায়িত্ব মনে করি।

(নয়) এতিমের টাকা চুরির মামলায় বিভিন্ন অজুহাতে খালেদা জিয়া সময়ক্ষেপন করল।নিশ্চিত চুরির সাজা থেকে বাঁচতে সরকারের সাথে নির্বাচনী সমঝোতার প্রস্তাব দেশ বিদেশের পত্র পত্রিকায় প্রকাশীত হচ্ছে। কোনপ্রকার রাজনৈতিক সমঝোতা আওয়ামীলীগের নির্বাচনে বিরুপ প্রভাব পড়তে বাধ্য।জনগনের টাকা আত্মসাৎ  বাংলাদেশের  চরম দূর্নীতিবাজ নাগরিকও কোনদিন মেনে নিতে পারে নাই, ভিবষ্যতেও পারবে বলে মনে করিনা। দেশী-বিদেশী পত্রপত্রিকা খবর দিচ্ছে  খালেদা জিয়া "সাজার বদলে নির্বাচনে" অংশগ্রহন করার প্রস্তাব বিদেশি দূতাবাসের মাধ্যমে সরকার প্রধানের নজরে আনার চেষ্টায় রয়েছেন। বিষয়টি যদি সত্যে রুপান্তরীত হয় তবে নতুন প্রজম্মের জন্যে একান্ত দু:খ্যজনক ঘটনা হবে বলে আমার বিশ্বাস।

--এর পরও কি 'খালেদা পরিবারে'র বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার থাকতে পারে? বঙ্গবন্ধুকন্যা গনতন্ত্রের ভবিষ্যত কল্পনায় তাঁদের সাথে সমঝোতার রাজনীতি চালিয়ে যাবেন?

     অবিলম্বে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং আগামী প্রজম্মের নিকট "সৎ শাসনে"র তথা আইনের শাসনের উৎকৃষ্ট  উদাহরন নিশ্চিতকল্পে নিরপেক্ষ তদন্তদল গঠন পুর্বক জাতির সামনে উল্লেখিত প্রত্যেকটি বিষয়ের প্রকৃত সত্যতা  যাছাইপূর্বক স্বেতপত্রাকারে তুলে ধরার দাবী  বাংলাদেশের জনগনের।

     যদিও ২০০৯ ইং সালে নির্বাচনের পুর্ব মহুর্তে চারদলীয় জোট সরকারের দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অর্থপাচার সহ প্রত্যেকটি  অনিয়ম,অনৈতিক কর্মকান্ডের স্বেতপত্র প্রকাশ করার ঘোষনা বঙ্গবন্ধুকন্যা  দিয়েছিলেন। অদ্যাবদি উল্লেখিত ঘোষনা বাস্তবায়িত না হওয়া বঙ্গবন্ধু পরিবারে'র দেশে বিদেশে গড়ে উঠা উজ্জ্বল ভাবমূর্তি'র বিপরীতে   নিশ্চয়ই আদৌ সুখকর নয়।


Facebook

মন্ত্যব্য করুন