শিরোনাম:

Sun 26 November 2017 - 08:20pm

তারেক জিয়াকে পকিস্তানের নাগরিকত্ব

Published by: নিউজ রুম এডিটর, বাংলাদেশ প্রেস

b9f8220b37c2184eb8b48255fd50e48b.jpg

তারেক জিয়ার জন্ম পাকিস্তানের করাচিতে ১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর। এজন্য তারেক জিয়াকে পকিস্তানের নাগরিকত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির মৌলবাদী সংগঠন জামাতে ইসলামী পাকিস্তান। দলটির আমির সিরাজুল হক ২৫ নভেম্বর লাহোরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন। সিনেটর সিরাজুল হক বলেন, ‘তারেক জিয়ার নেতৃত্বে পাকিস্তান পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নতুন করে শুরু করা উচিত। না হলে বাংলাদেশে জামাত বিপন্ন হবে।’

জামাতের আমির লাহোরের ধীর সফর করছিলেন। এসময় তাঁর কাছে বাংলাদেশের জামাতের আমীর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই মন্তব্য করেন।

পাকিস্তানের নাগরিকত্ব আইন ১৯৫১ এর ৪ ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘কেউ এই আইন প্রবর্তিত হবার পরে পাকিস্তান ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করলে তিনি পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন।’ এই আইনের ধারায় একটি শর্তও দেওয়া হয়েছে যাতে বলা হয়েছে, ‘যদি তাঁর পিতা রাষ্ট্রে শত্রু বিবেচিত হন অথবা বিচারিক দায়মুক্তি পেয়ে থাকেন।’ পাকিস্তানের দলিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীকালে পাকিস্তান তিনশতাধিক পাকিস্তানি (বাঙালি) নাগরিককে রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান এক ঘোষণার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ বা রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণা করেন। এভাবে পর্যায়ক্রমে তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কর্নেল (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) এম এ জি ওসমানীকে রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত পাকিস্তান কখনো জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে ঘোষণা করেনি। এমনকি তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল কিংবা চাকুরি থেকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। বরং, কর্নেল বেগ যুদ্ধকালীন সময়ে জিয়াকে লেখা এক চিঠিতে তার ‘ভূমিকার’ প্রশংসা করেন।

পাকিস্তান নাগরিক আইনে দ্বৈত্ব নাগরিকত্বের স্বীকৃতি নেই। তবে আইনের ১৪ ক. ধারায় বলা হয়েছে, পাকিস্তানি নাগরিক ১২ বছরের নিচে থাকার সময় যদি অন্য দেশের নাগরিক থাকেন তাহলে তাঁর বয়স ২১ পূর্ণ হওয়ার পর তিনি যদি পাকিস্তানি নাগরিক ফেরত চান তাহলে তা পুনরুজ্জীবিত হবে। অর্থাৎ এই ধারা অনুযায়ী, এখন চাইলেই তারেক জিয়া পাকিস্তানি নাগরিকত্ব এবং পার্সপোর্ট ফেরত পেতে পারেন।

অবশ্য তারেক জিয়ার পাকিস্তান প্রেম পুরোনো। ২০০৩ সালে তিনি জামাতের অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরকে আপন ভাই হিসেবে তুলনা করেছিলেন। ২০০৭ সাল থেকে লন্ডনে থাকছেন তারেক জিয়া। এখানে পাকিস্তান দূতাবাসই তাঁর প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং অভিভাবক। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গেও তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠতার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে।

জামাতে ইসলামী পাকিস্তান বাংলাদেশের জামাতকে তাদের সংগঠনের একটি শাখা মনে করে। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, আলী হোসেন মুজাহিদ সহ সবার মৃত্যুতে পাকিস্তানের জামাত শোক পালন করেছিল। পাকিস্তানের জামাতই পাকিস্তানের পার্লামেন্টে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব এনেছিল। বাংলাদেশেরও তারেক জিয়ার বিএনপি এবং জামাত একই জোটভুক্ত। সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, ‘জামাতকে সঙ্গে নিয়েই তাঁরা নির্বাচন করবেন।’ ক্ষমতায় এলে কি তাঁরা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত করবেন?


Last update: Sun 26 November 2017 - 08:23pm

Facebook

মন্ত্যব্য করুন


পাঠকের মন্তব্য


নিজাম
uqscnf@gmail.com


পাকিদের প্রেতাত্মা।

Momzur Ahmed Rana
monzurahmed23@gmail.com


পাকিস্তানের কুলাঙ্গার তো পাকিস্তানের নাগরিক হবেই