শিরোনাম:

Sat 25 November 2017 - 02:11pm

কালাজ্বরের ক্যাপসুলে ময়দার দলা পুরে কোটিপতি

Published by: নিউজ রুম এডিটর, বাংলাদেশ প্রেস

8e9354ab76ded1bf38c29db6ee51bb71.jpg

জাহিদুর রহমান: ভুয়া ওষুধ তৈরি করে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পকে বিশ্ব দরবারে সুপরিচিত করার কৃতিত্বটা এককভাবে Peeনাকি ভটের। ২০০৮ সালে Peeনাকি পপুলারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কিছু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সাথে সিন্ডিকেট করে কয়েক কোটি টাকা লুটপাট করে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে বিষয়টি নিয়ে তখন তেমন কোন আলোচনা হয়নি। লজ্জার ব্যাপার যেই Peeনাকি কালাজ্বরের ক্যাপসুলে ময়দার দলা পুরে কোটিপতি হয়েছে, তার কাছ থেকেই আজকে আমাদের সবার নৈতিকতার সবক নিতে হয়।

২০০৮ সালের মে মাসে কালাজ্বর নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সারা দেশে কালাজ্বরে আক্রান্ত রুগিদের মধ্যে বিণামূল্যে পপুলারের তৈরি ক্যাপস্যুল মিলটেফস (মিলটেফসিন) বিতরণ শুরু করে। ঋণ হিসেবে টাকাটা দেয়ার কথা ছিল ডব্লিউএইচওর (WHO), কিন্তু শর্ত ছিল যেসব ওষুধ কেনা হবে, সেগুলো আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঐ ওষুধ উৎপাদনের কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকা লাগবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টেন্ডার দিলে তাতে আবেদন করে দুটো কোম্পানি, একটি জার্মানির ইটার্না জেন্টারিস অপরটি বাংলাদেশের পপুলার। প্রথমটির তৈরি মিলটেফসিন (Miltefosine) ছিল মানসম্মত, পরীক্ষিত, উৎপাদনের অভিজ্ঞতাও ছিল দুই বছরের বেশি। তারপরও কোন এক রহস্যময় কারনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পপুলারের তৈরি মিলটেফসিন কেনে, যাদের এই ওষুধ তৈরির কোন পুর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। পরবর্তিতে পরীক্ষা করে এও দেখা যায় যে, পপুলারের মিলটেফসের মধ্যে মিলটেফসিনের কোন অস্থিত্ব নেই। এরকম মোটা দাগের দুর্নীতি দেখে ডব্লিউএইচও তাদের ঋণ দেয়া বন্ধ করে দেয়।শুধুমাত্র পপুলারকে কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আবারও টেন্ডার ডাকে এবং ২ বছরের অভিজ্ঞতার শর্তটি তুলে নেয়। সরকার ৫ কোটি টাকার কালাজ্বরের ক্যাপসুলের নামে ময়দার দলা কিনে পপুলারের কাছ থেকে এবং পপুলারের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি দেখভাল করে প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার এবং আজকের সুশীল ছাগু সমাজের প্রতিনিধি Peeনাকি ভট। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কয়েকশো রুগিকে পপুলারের তৈরি মিলটেফসিন ফুল ডোজে খাওয়ানোর পরও তাদের জ্বর কমেনি, পরীক্ষা করে তাদের সবার শরীরেই আবার কালাজ্বরের জীবাণু পাওয়া গিয়েছিল। অথচ জার্মানির তৈরি একই ওষুধ খেয়ে আগের সব রুগি সুস্থ হয়ে উঠেছিল। জেনেশুনে জীবন রক্ষাকারী কোন ড্রাগ নিয়ে মানুষের সাথে এরকম প্রতারণা করা পিনাকির মত অমানুষের পক্ষেই সম্ভব। মান কিছু কম হতে পারে, তাই বলে ক্যাপসুলের মধ্যে কোন ড্রাগই থাকবে না? Peeনাকি অবশ্য তখনও তার স্বভাবসুলভ ভন্ডামি দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে পপুলারের ওষুধ মানসম্মত। অথচ ডব্লিউএইচও নেদারল্যান্ড থেকে পরীক্ষা করে করে প্রমাণ করে পপুলারের তৈরি কালাজ্বরের মিলটেফস (Miltefos) ক্যাপসুল সম্পূর্ণভাবে মিলটেফসিন বিহীন! অবস্থা বেগতিক দেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পপুলারের মিলটেফস ক্যাপসুল সরবারহ বন্ধ করে এবং এই ওষুধের সব ধরনের উৎপাদন এবং বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষনা করে।

আমাদের স্মরণশক্তি খুবই দুর্বল, তাই আমরা এই জঘন্যতম অন্যায়ের বিস্তারিত জানতে চাই। জানতে চাই, পরবর্তিতে Peeনাকিসহ পপুলার ফার্মা এবং এর সাথে জড়িত সরকারি কর্মকর্তাদের কি শাস্তি হয়েছিল? আমরা জানতে চাই, পপুলার থেকে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার প্রায় ৪৫ হাজার মিলটেফস ক্যাপসুলের কি পরিনতি হয়েছিল? এই ক্যাপসুল খেয়ে কমপক্ষে যে ২০ জন কালাজ্বরে আক্রান্ত রুগি মারা গিয়েছিল, তাদের দায়ভার কে নিয়েছিল?এ বিষয়ে কি বর্তমান সরকারের কিছুই করার নেই? দুদকের ক্ষমতা নেই মাত্র ৯ বছর আগের দুর্নীতির তদন্ত করার? নাকি তখনই মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে Peeনাকি গং এত বড় দূর্নীতি করেও আইনের হাত থেকে ফসকে গিয়েছিল? আর কারো কাছে না হোক, ডব্লিউএইচও এবং ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার কাছে অবশ্যই Peeনাকি এবং পপুলারের যাবতীয় অপকর্মের দলিলপত্র আছে। সেগুলো কি আবার সামনে নিয়ে আসার কোন উপায় নেই?

মিলটেফস নিয়ে "The American Journal of Tropical Medicine and Hygiene" এর জার্নালের লিংক: http://bit.ly/2zU6fio

Peeনাকি এবং পপুলারের জালিয়াতি নিয়ে রীতিমত গবেষণা হয়েছে। PMC জার্নালের লিংক: http://bit.ly/2zW21GX

এ সম্পর্কে ডেইলি স্টারের নিউজ লিংক: http://bit.ly/2hDeipE
বিস্তারিতঃ https://www.ebanglahealth.com/কালাজ্বরের-ক্যাপসুল-নিয়ে|

আরও পড়ুন:


Facebook

মন্ত্যব্য করুন