শিরোনাম:

Mon 20 November 2017 - 10:33am

প্রনব মুখার্জীর পা জড়িয়ে ধরেছিলেন শামীম ওসমান || আবদুল মালেক

Published by: নিউজ রুম এডিটর, বাংলাদেশ প্রেস

2a45f98526aacc34cb38a2acf0908d06.jpg

আবদুল মালেক : ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখার্জীর লেখা 'দ্য কোয়ালিশন ইয়ারস ১৯৯৬-২০১২' বইতে বর্নিত হয়েছে উপমহাদেশের রাজনীতির নানা ঘটনা। বিষেশত বাংলাদেশের ১/১১ পরবর্তী অস্থির অবস্থার বর্ননা রয়েছে তাঁর সেই গ্রন্থে। সে সময় কানাডা থেকে ভারতে আসেন শামীম ওসমান। একদিন তিনি প্রনব মুখার্জীর দু'পা জড়িয়ে বলেন, 'দাদা নেত্রীকে বাঁচান, আপাকে ওরা মেরে ফেলবে'। সেদিন প্রনব বাবু শামীম ওসমানকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, 'অত ভেঙ্গে পড়ো না, আমি দেখবো'। প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য ওয়ান-ইলেভেনের সেই দুঃসময়ে অনেক রাজনীতিবিদ কারাগারে ছিলেন এবং বাংলাদেশের দুই প্রধান দলের দুই শীর্ষ নেত্রীও ছিলেন কারাগারে।
-
রাজনীতিকদের জন্য ১/১১ ছিল কঠিন সময়। সেই কঠিন চ্যালেঞ্জের দিনগুলিতে অনেক রাজনৈতিক নেতার মুখোস খুলে গিয়েছিল। কোন কোন রাজনীতিক অকারন হেনস্থার শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কেউ সেই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে বিত্তের পাহাড় গড়েছেন। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিতে এই খেলা নির্লজ্জ ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। প্রনব বাবুর বইয়ে এই কথাগুলোর সবিস্তার বর্ননা আছে। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার অতি ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত অনেকেই সেদিন বিপরীত স্রোতে গা ভাসিয়েছিল। প্রনব বাবু তাঁর বইয়ে সেসব নিখুঁতভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। জেনারেল মঈন ইউ আহমদকে তিনিই বলেছিলেন যেন, সকল রাজবন্দীর মুক্তি দেয়, যেন বাংলাদেশে গনতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকে সে জন্য সম্পুর্ন চাওয়া-পাওয়ার উর্ধ্বে ওঠে ভূমিকা রেখে গেছেন।
-
অনেকে অনেকভাবে শামীম ওসমানের চরিত্রচিত্রণ করে থাকেন। কারো কাছে শামীম ওসমান নির্ভরতার প্রতীক হলেও কারো কাছে  গডফাদার, কিংবা স্রেফ একজন সন্ত্রসী। আমাদের কিছু মিডিয়াও শামীম ওসমানকে গডফাদার তকমা দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কিন্তু এই শামীম ওসমানই সেই ব্যক্তি যিনি ১/১১'র সময় প্রনব বাবুর পা জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে শেখ হাসিনার জীবনরক্ষার দাবি জানিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগে তো অনেক বাঘা বাঘা ও প্রথম সারির বিশ্বস্থ নেতারা ছিলেন, কই নেত্রীর জন্য এমন আকুলতা তো সেদিন কেউই দেখাননি। বরং অনেকেই সেদিন মাইনাস টু ফর্মুলায় বিশ্বাস করে শেখ হাসিনার সাথে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখেছেন। শামীম ওসমান নারায়নগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী খান বাহাদুর ওসমান পরিবারের সদস্য, যেখানে বঙ্গবন্ধুর ছিল অবাধ গতিবিধি। ফরিদপুর থেকে লঞ্চে চেপে নারায়নগঞ্জে নেমে এই বাড়িটি ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রথম যাত্রাবিরতির ঠিকানা। এভাবেই দুই পরিবারের সখ্যতা আত্মার বন্ধনে রূপ নেয়। শামীম ওমমানরা সেসব দিনের কথা ভোলেননি। দেশ, দল নেতৃত্বের প্রতি গভীর আস্থা শামীম ওসমানদের পারিবারিক শিক্ষা, সহবৎ। হ্যা, দোষ-গুণ মিলিয়েই মানুষ। তাই বলে নারায়নগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারের জন্য কি তাকে গডফাদার সাজতে হবে? তাহলে এই তকমাটি এলো কেন? এলো এই কারনে যে, তিনি যুদ্ধাপরাধীদের, রাজাকারদের, ঘৃনিত নরপশুদের নারায়নগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করেছিলেন । পুরো দেশে অসংখ্য দলীয় নেতা-কর্মীর মধ্যে একমাত্র শামীম ওসমান এমন দুঃসাহস দেখাতে পেরেছিল, ফলে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আজ্ঞাবহ কিছু মিডিয়া তাকে এই উপাধিতে ভুষিত করে। কিন্ত এতে করে ব্যক্তি শামীম ওসমানের কি ক্ষতিবৃদ্ধি হয়েছে?
-
যাই হোক, বলছিলাম প্রনব মুখার্জীর কথা যিনি বাংলাদেশের অকৃত্রিম সুহৃদ। জ্ঞান, মেধা ও দেশপ্রেম ও দুরদৃষ্টিসম্পন্ন এই রাজনীতিবিদ এই সাব-কন্টিনেন্টে পরিচ্ছন্ন রাজনীতির এক জ্বলন্ত উদাহরন। তাঁর দেশের রাজনীতিতে তো বটেই এমন কি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলংকার রাজনীতিতেও তাঁর অসম্ভব প্রভাব রয়েছে। তিনি তাঁর বইয়ে আমাদের ১/১১ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের অনেক পরীক্ষিত নেতা সে সময় বিরুপ আচরন করেছিল। তিনি সে সব জানতেন। শেখ হাসিনার সাথে প্রনব মুখার্জীর পারিবারিক সম্পর্ক থাকায় সে সময় নিয়মিতই যোগাযোগ রাখতেন বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা। তিনি রেহানাকে সব সময় আশ্বস্ত করতেন, 'আমি দেখছি '। জেনারেল মঈনকে বাগে আনতে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বুশের সঙ্গেও সাক্ষাত করেন, তিনি বুঝাতে সক্ষম হোন যে একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিকদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে। সত্যিই তিনি আমাদের গনতন্ত্রের মহান বন্ধু।
-
আর একটু বলে রাখি, দেশ ও আওয়ামী লীগের সেই দুঃসময়ে তৃণমূল কিংবা শামীম ওসমানের মতো সাহসী নেতা-কর্মীরা কিন্তু শেখ হাসিনাকে ত্যাগ করেনি, করেছিল খুব কাছের কিছু স্বার্থান্ধ নেতা। সেদিন শক্তহাতে দলের হাল ধরেছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এবং সাবেক সাধারন সম্পাদক জনাব সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আর তাদেরকে সেদিন সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখিয়ে আশা জাগিয়েছিল নিঃশ্বার্থ তৃণমূল এবং শামীম ওসমানের মতো লড়াকু বঙ্গবন্ধুর সেনারা।



লেখকঃ উপ-সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস।


Facebook

মন্ত্যব্য করুন