শিরোনাম:

Fri 17 November 2017 - 01:47pm

ঐতিহাসিক ১৭ই নভেম্বরঃ এই দিনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যেভাবে আমাদের হলো।

Published by: নিউজ রুম এডিটর, বাংলাদেশ প্রেস

90c32925c03e3aa95441fa8241e099ca.jpg

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত রক্তরঞ্জিত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর এক নতুন মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছে।

এই দিনে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনকে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মাতৃভাষার জন্য আমাদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দিয়েছে, পাশাপাশি সারা বিশ্বের মানুষকে আমাদের ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল উত্তরাধিকার হিসেবে সম্মানিত করেছে।

রফিক ও সালাম নাম দুটি যেমন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে গেঁথে আছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সাথেও রফিক-সালামের নাম মিশে আছে।রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম কানাডার ভ্যানকুভার থেকে এ দিবসটির স্বীকৃতির বীজ বপন করেছিলেন ১৯৯৮ সালের ৯ই জানুয়ারী।

এই দিনে রফিকুল ইসলাম জাতিসংঘের তৎকালীন জেনারেল সেক্রেটারি কফি আনানকে একটি চিঠি লেখেন। সেই চিঠিতে রফিক ১৯৫২ সালে ভাষা শহীদদের অবদানের কথা উল্লেখ করে কফি আনানকে প্রস্তাব করেন ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘মাতৃভাষা দিবস’হিসেবে যেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। সে সময় এ চিঠিটি সেক্রেটারী জেনারেলের প্রধান তথ্য কর্মচারী হিসেবে কর্মরত হাসান ফেরদৌসের নজরে আসে। তিনি ১৯৯৮ সালের ২০ শে জানুয়ারী রফিককে অনুরোধ করেন তিনি যেন জাতিসংঘের অন্য কোন সদস্য রাষ্ট্রের কারো কাছ থেকে একই ধরনের প্রস্তাব আনার ব্যবস্থা করেন।

সেই উপদেশ মোতাবেক রফিক তার সহযোদ্ধা আব্দুস সালামকে সাথে নিয়ে “এ গ্রুপ অব মাদার ল্যাংগুয়েজ অফ দ্যা ওর্য়াল্ড” নামে একটি সংগঠন দাঁড় করান আরো অন্যান্য ভাষাভাষী কিছু লোক নিয়ে। ১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে সাহেব রফিক এবং সাহেব ইউনেস্কোর ভাষা বিভাগের জোশেফ পড এবং পরে ইউনেস্কোর আনা মারিয়ার সাথে দেখা করেন। এই আনা মারিয়া নামের এই ভদ্রমহিলার অবদান অসামান্য, এই ভদ্রমহিলাই রফিক-সালামের কাজকে অনেক সহজ করে দেন। আনা মারিয়া পরামর্শ দেন তাদের প্রস্তাব ৫ টি সদস্য দেশ – ক্যানাডা, ভারত, হাঙ্গেরি, ফিনল্যান্ড এবং বাংলাদেশ দ্বারা আনীত হতে হবে।

সে সময় বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী এম এ সাদেক এবং শিক্ষা সচিব কাজী রকিবুদ্দিন, অধ্যাপক কফিলউদ্দিন আহমেদ, মশিউর রহমান (প্রধানমন্ত্রীর সেক্রেটারিয়েটের তৎকালীন ডিরেক্টর), ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোজাম্মেল আলি, ইকতিয়ার চৌধুরী (কাউন্সিলর), ইউনেস্কোর সেক্রেটারি জেনেরালের শীর্ষ উপদেষ্টা তোজাম্মেল হক সহ অন্য অনেকেই জড়িত হয়ে পড়েন। তারা দিন রাত ধরে পরিশ্রম করেন আরো ২৯ টি দেশকে প্রস্তাবটির স্বপক্ষে সমর্থন আদায়ে। তোজাম্মেল হক এবং সৈয়দ মোজাম্মেল আলি একটা বিশেষ বৈঠক করেন ইউনেস্কোর ডেপুটি মহাসচিব কলিন পাওয়ারের সঙ্গে। শিক্ষামন্ত্রী এম এ সাদেক, শিক্ষা সচিব কাজী রকিবুদ্দিন, অধ্যাপক কফিলউদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সেক্রেটারিয়েটের তৎকালীন ডিরেক্টর মশিউর রহমান, সৈয়দ মোজাম্মেল আলি এবং তোজাম্মেল হক অই সময়ে বেশ কূটনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেন।

১৯৯৯ সালের ৯ ই সেপ্টেম্বর। ইউনেস্কোর প্রস্তাব উত্থাপনের শেষ দিন। এখনো প্রস্তাব এসে পৌঁছায়নি, সব কাজ শেষে অইদিনই প্রধানমন্ত্রীর একটি সই দরকার ছিলো। প্রধানমন্ত্রী তখন পার্লামেন্টে অধিবেশনে, পার্লামেন্টের সময়সূচীর পরে সই করতে করতে প্রস্তাব উত্থাপনের সময়সীমা পার হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে অনুরোধ করা হলে তিনি যেন প্রস্তাবটি সই করে ফ্যাক্স করে দেন ইউনেস্কোর দপ্তরে, অফিসের সময়সীমা শেষ হবার মাত্র একঘণ্টা আগে ফ্যাক্সবার্তা ইউনেস্কোর অফিসে এসে পৌঁছুলো।

তারপর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ১৭ই নভেম্বর, ১৯৯৯, বাংলাদেশ এবং বাংলাভাষীদের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন, প্রস্তাব উত্থাপন করা হলো সভার প্রথমেই। ১৮৮ টি দেশ এতে সাথে সাথেই সমর্থন জানালো, কোন দেশই এর বিরোধিতা করলোনা, সর্বসম্মতিক্রমে একুশে ফেব্রুয়ারি "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" হিসেবে গৃহীত হলো ইউনেস্কোর সভায়।


লেখকঃ রেজা হাসান

Last update: Fri 17 November 2017 - 07:33pm

Facebook

মন্ত্যব্য করুন