আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের ইউও নোট ইসি মাহবুবের

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারী ২০২০ |

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের পরও কোনও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। রিটার্নিং কর্মকর্তারা ও নির্বাহী হাকিমরা ‘মাঠে আছেন’ বললেও তাদের কোনও তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এমনই অভিযোগ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) এক আন-অফিসিয়াল (ইউও) নোটে তিনি এমনটাই জানিয়েছেন। ওই নোটে এই ইসি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থার সঙ্কট নিরসন সম্ভব হবে না।’

নতুন ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার প্রচারণার শুরু থেকেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে।

শুরু থেকেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে যাচ্ছেন বিএনপির প্রার্থীরা। উত্তরে সিপিবির মেয়র প্রার্থী আহম্মেদ সাজেদুল হক রুবেল অভিযোগ তুলে বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ‘নির্বিকার’ ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে, তাদের ক্ষমতা কোথাও ‘বাঁধা’।

এমন অভিযোগের মুখে ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম নির্বাহী হাকিমদের সক্রিয় থাকার কথা জানালেও দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন হাকিমদের কাজে পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

এরই প্রেক্ষিতে অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার তার ইউও নোট প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, শাহাদত হোসেন চৌধুরীর পাশাপাশি দুই রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছেন।

তাতে তিনি সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণ বন্ধ করতে না পারার ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরেন। আর এ বিষয়ে তিনি আগেও একটি ইউও নোট দিয়েছিলেন বলে উল্লখ করেন।

নতুন এই ইউও নোটে ইসি মাহবুব বলেন, ‘ইতোপূর্বে ১৩ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে প্রদত্ত আমার ইউও নোটে সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী প্রচারণা বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বন্ধ করার জন্য একটি পরিপত্র জারির অনুরোধ জানিয়েছিলাম। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, নির্বাচনে সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন সংসদ সদস্য নির্বাচনী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। আরেকজন সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা শহরে রাজনৈতিক বক্তৃতা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ সকল কার্যক্রম সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট নির্দেশনাসহ পরিপত্রটি জারির আবশ্যকতা রয়েছে বলে মনে করি।’