নির্বাচন

কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, ভোটারদের মাঝে নেই ভোটের আমেজ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০১৯

এ.এম উবায়েদ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

অনিয়মের অভিযোগে স্থগিত হওয়া কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৮ জুন)।তবে উত্তাপ নেই কটিয়াদী উপজেলা নির্বাচনে।

গত ২২ মে নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণার পর থেকে নীরবতা কাটিয়ে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা করেছেন। নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন একজন নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী। কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ-তথ্য ও গবেষণা স¤পাদক তানিয়া সুলতানা হ্যাপি নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।

কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম, আচমিতাসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে সরজমিনে পরিদর্শনে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নৌকার প্রার্থীকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। দলের একাধিক প্রার্থী নির্বাচন করায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যেও দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে। উপজেলাজুড়ে নির্বাচনী আমেজ নেই বলেলেই চলে। প্রার্থীরা নির্বাচন নিয়ে যতটা আগ্রহী, ভোটাররা ততটা নয়। ভোট নিয়ে এক ধরনের নি¯পৃহ ভাব দেখা গেছে তাদের মধ্যে। 

আওয়ামী লীগের প্রার্থী তানিয়া সুলতানা হ্যাপি বলেন, উন্নয়নের প্রতীক হচ্ছে নৌকা। আমার বিশ্বাস, ভোটাররা উন্নয়নের মার্কায় দল-মত নির্বিশেষে ভোট দেবে। আর আমি নির্বাচিত হলে এলাকার স্বাভাবিক উন্নয়নের পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তি খাত কাজে লাগিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তুলব।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিপক্ষে লড়ছেন আওয়ামী লীগের তিনজন। তাঁরা সবাই এলাকায় প্রভাবশালী বলে পরিচিত। কাজেই চেয়ারম্যান পদে জমজমাট লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে কটিয়াদীবাসী। দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর (দোয়াত-কলম), ঘোড়া প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোস্তাাকুর রহমান । তা ছাড়া রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ উদ্দিন (মোটরসাইকেল)। জাকের পার্টির শহীদুজ্জামান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি।তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর বলেন, তিনি যখন চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। কাজেই এবার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনি নিশ্চিতভাবে জয়ী হবেন। আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান বলেন,তিনি দুর্নীতিমূক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক উপজেলা পরিষদ গড়ে তুলতে চান। আর সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আর নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে স¤পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আশা করি, এবার আর কোনো সমস্যা হবেনা।