শিক্ষাঙ্গন

জাবির বন্ধ হলে কোরবানির জন্য ছাগল পালন করছেন প্রভোস্ট!

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২০ |

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে বন্ধ রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। এ পরিস্থিতির সুযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম বরকত হলের প্রভোস্ট ও পরিবহণের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক আলী আজম তালুকদার আবাসিক হলকে বানিয়েছেন ছাগলের খামার।

জানা যায়, কোরবানির ঈদকে উপলক্ষ করে তিনি কিছু ছাগল কিনে এনেছেন। এসব ছাগল তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম বরকত হলের ভিতরে এনে হল কর্মচারীদের দ্বারা লালন পালন করছেন। এই হলটির প্রাধ্যক্ষ তিনি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জোড় করে হল কর্মচারীদের দিয়ে ছাগল পালন করছেন তিনি। এমনটাই জানা গেছে কর্মচারীদের সাথে কথা বলে।

এই ছাগল পালনের কারণে হলের ভিতরের পরিবেশ নোংরা হয়ে গেছে। তীব্র দুর্গন্ধ তৈরী হয়েছে। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করায় হলটির শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক আজমের পদত্যাগ দাবি করেছেন। পাশাপাশি প্রভোস্টের ক্ষমতার অপব্যবহার করে আবাসিক হলে ছাগল পালন করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগেও এই অধ্যাপকের বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। তাই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, বার বার বিতর্কিত কাজ করলেও ব্যবস্থা না নেয়ায় দিনে দিনে তিনি স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠছেন। উল্টো তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত বিভিন্ন কমিটিতে স্থান দিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।

হল খোলা থাকার সময়েও প্রভোস্টের সাথে একটি ছাগল হলে আসতে দেখা যেত। ছাগলটি প্রভোস্টের কার্যালয়েও ঢুকে পড়তো।

এই বিষয়ে অধ্যাপক আজমকে ফোন করা হলে, তিনি ছাগলের বিষয়টি তুললেই ফোন কেটে দেন। পরে বার বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হলের অভ্যন্তরে কার ছাগল রাখা বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহীদ সালাম বরকত হলের একজন প্রহরী বলেন, ছাগলগুলো প্রভোষ্ট স্যারের। হলের প্রহরীরা শিফট ভিত্তিক যখন দায়িত্ব পালন করেন, তারাই নিয়মিত পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করেন প্রভোস্ট স্যারের নির্দেশে। হলে ছাত্র না থাকায় এবং আমাদের কাজকর্মও কম থাকায় আমরা প্রভোষ্ট স্যারের ৫টি ছাগল দেখভাল করি।

অন্যদিকে অধ্যাপক আজমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, লকডাউনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল গ্যারেজের ২০/২৫ টা গাছ কেটে কম দামে বিক্রি দেখিয়ে কমিশন নিয়েছেন। নিয়ম হলো এস্টেট অফিসের মাধ্যসে দাম দর ঠিক করে তার পর গাছ কাটতে হবে। কিন্তু অধ্যাপক আজম গ্যারেজের কনট্রাকটরের কাছে কমদামে গাছ বিক্রি করে তার কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।