শিক্ষাঙ্গন

নাসিমকে নিয়ে স্ট্যাটাস, ইবি ছাত্র ইউনিয়ন সম্পাদক বহিষ্কার

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২০ |

নিজস্ব প্রতিনিধি ■ বাংলাদেশ প্রেস

সদ্যপ্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে কটূক্তি করার অভিযোগে ছাত্র ইউনিয়ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের (ইবি) সাধারণ সম্পাদককে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।

একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি মোতাবেক তাকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না এ মর্মে কারণ দর্শানোর পত্র প্রাপ্তির আগামী সাত দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ই-মেইলে প্রেরণের জন্য বলা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে প্রশাসন।

সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার এস এম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, বাংলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র সাদিকুল ইসলাম তার ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন বর্ষীয়ান, জাতীয়, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক দল সম্পর্কে অশ্লীল, ব্যঙ্গাত্মক আপত্তিকর, প্রতিহিংসামূলক ও নৈতিক মূল্যবোধ পরিপন্থী বক্তব্য ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দৃঢ় হস্তে করোনা সংকট মোকাবেলা করে চলেছেন এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাই গভীরভাবে শোকাহত। এমতাবস্থায় ওই ছাত্রের স্ট্যাটাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণ হতে পারে ধারনা করে এমন ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাদিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমার কিছু ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর প্রতিবাদের প্রক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত হয়েছি। এটা সাময়িক বহিষ্কারাদেশ। আমাকে কারণ দর্শানোর জন্য সাত দিন সময় দেয়া হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার যৌক্তিক অবস্থান তুলে ধরে কারণ দর্শাবো।

জানা গেছে, সাদিক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েকটি স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি মোহাম্মদ নাসিম ও সরকারের সমালোচনায় আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তিনি দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সমালোচনা করে বিভিন্ন পোস্ট দেন। তার এসব পোস্টের পর থেকেই শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়ে সাদিকের শাস্তি দাবি করে। ছাত্রলীগের দাবির প্রেক্ষিতে আজ বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলামের বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির বিভিন্ন সংসদের নেতা-কর্মীরা। এছাড়া বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে বিবৃতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল ও সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের যৌক্তিক সমালোচনা করলেই কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করে ভয় ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এরই ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জিকে সাদিককে অভিযুক্ত করে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। আমরা অনতিবিলম্বে এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে আমার শিক্ষার্থীর এমন কুরুচিপূর্ণ ও প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। কমিটি রিপোর্টের প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।