সম্পাদকীয়

"ইউনিক পাওয়ার" হত্যা আবশ্যক

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২০ |

তৈমুর মল্লিক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

দেশের প্রায় প্রত্যেকটা সেক্টরের প্রান্তিক জনপদ পর্যন্ত আইনের প্রভাব এবং তার কার্যকর ব্যবহার যতটা না নিশ্চিত হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে "ইউনিক পাওয়ার"। সুতারং আপনি - আমি তার ভোগান্তি উপভোগ করব না, সেটা কখনই হয় না।

কনস্টিটিউশন যে পাওয়ারের কথা বলে, যে পাওয়ারের সাহায্যে দেশকে পরিচালনা করে তার জন্ম হয় ক্যাবিনেটে। নিশ্চিত ভাবেই সেই পাওয়ার কোন প্রকার অশনিসংকেতের কথা বলে না। কিন্তু বিপত্তি তখনই হয় যখন সেই পাওয়ার সারাদেশে স্প্রে হবার পরে স্থান কাল পাত্র ভেদে নির্দিষ্ট কোন ব্যাক্তির ব্যাক্তিগত সম্পদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সারা দেশের মানুষ হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখে, সেই প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তিগত সম্পদকে নির্লজ্জ ভাবে পাহারা দেয় এবং লালন করে ক্যাবিনেটের কোন কোন প্রতিনিধিগণ নিজেই। ঠিক তখনই সারাদেশে প্রত্যেকটি সেক্টরের বিশেষ বিশেষ ব্যাক্তি হয়ে ওঠে বেপরোয়া, লাগামহীন। আইন তখন চুপ করে তার পকেটে বসেই সুবিধামতো চরিত্রের পরিবর্তন ঘটায়। কনস্টিটিউশন নিজের অজান্তেই লঙ্ঘিত হয়। অথচ তার কিছুই করার থাকেনা, কারণ সে হয় তখন নির্জীব কাগজের কয়েকটি ভাঁজ। 

অদ্ভুত ভাবে নির্বাহী প্রধানের কপালে উঠে আসে চিন্তার বলিরেখা। একটি সামলাতে না সামলাতেই তার সামনে এসে দাঁড়ায় আর একটি মহামারী।

একদিকে সরকার ধরে রাখা, অন্যদিকে কনস্টিটিউশন রক্ষা এই দুইয়ের মধ্যে যে দুরত্ব তৈরি হয়, সেই দুরত্বের মধ্যে প্রবেশ করে ৩য় শক্তি। এই ৩য় শক্তি আরো ভয়ংকর হয়ে স্বার্থের বীজ বুনে লুফে নেয় তার চাহিদা।

সাম্প্রতিক সময়ে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার যে জিলাপির প্যাচ একে একে সামনে আসছে, সেখানে একটা বিষয় অতি পরিস্কার, ওসি প্রদীপ কুমার ছিলো সেই বিশেষ পার্সন, যে কনস্টিটিউশনকে নিজের পকেটে রেখে ইউনিক পাওয়ারে বলিয়ান হয়ে নিজের সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলো। ক্যাবিনেটের মেম্বরই তাকে পাহারা দিয়েছে উপর্যুপরি ভাবে। যার ফলে তার পূর্ববর্তি সকল অন্যায় বাতাসে মিলিয়ে গিয়ে নিজের সম্রাজ্যেই প্রতিষ্ঠিত ছিলো। 

ইয়াবা পাচার রোধে ওসি প্রদীপ যে বাতাস তুলেধরেছিলো সেই বাতাসে ইয়াবা সম্রাট বদির নাম কখনই শোনা যায়নি। নির্লজ্জ ভাবে ইয়াবা সম্রাট বদির স্ত্রী ক্যাবিনেটে যারা স্থান করে দিলো তারা সব কিছুই জানে। সেই ইয়াবা বদীর স্ত্রী বিভিন্ন সময়ে ওসি প্রদীপকে রক্ষা করেছে। তার পূর্বের কুকীর্তি ঢাকতে "ডিও" পর্যন্ত লিখেছে বলে বিভিন্ন ভাবে শোনা যায়। এটাও শোনা যায়, টেকনাফের সকল থানায় ঘুরে ফিরে নির্দিষ্ট ওসিগন দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ বদি থেকে যায় অন্তরালেই।

সারাদেশে এরকম ভাবে, প্রায় প্রত্যেকটি সেক্টর কেন্দ্রিক নির্দিষ্ট কিছু ব্যাক্তি ইউনিক পাওয়ারে বলিয়ান হয়ে দায়িত্ব পালন করছে। অথচ কনস্টিটিউশন চুপ করে ঘুমিয়ে থাকে, নির্বাহী প্রধান কপালে বলিরেখা নিয়ে এটাই ভাবেন যে, "এটা কোন বাংলাদেশ"।

ইউনিক পাওয়ারের ধৃষ্টতা যখন সীমা লঙ্ঘন করে তখন সেই ব্যাক্তি হয় সকল অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু, তাকে অপরাধী প্রমান অথবা সুযোগ থাকলে তাকে মুক্তি এই দুইয়ের খেলায় তারাই মেতে ওঠে যারা ইউনিক পাওয়ারকে পাহারা দিয়েছে প্রতিষ্ঠিত রাখতে। কনস্টিটিউশনকে করেছে পকেট বন্দী।

সেই সুযোগে, ইউনিক পাওয়ার ফ্লো হতে শুরু করে নতুন করে, প্রতিষ্ঠিত হয় অন্য কোন ওসি প্রদীপ বা অন্য কোন বদি বা অন্যকোন কিলারের হাতে, দুর্নীতিবাজের হাতে, চক্রান্তকারীর হাতে। 

ওসি প্রদীপেরা আসে, চলেও যায় কিছু লাশ নিয়ে। প্রতিষ্ঠিত করে দুর্নীতি। কিন্তু ইউনিক পাওয়ার রয়েই যায় অজ্ঞাত ইশারায়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, হত্যা করতে হবে এই ইউনিক পাওয়ারকে। Flow of electrons যদি কারেন্ট হয় তাহলে Flow of Unique power কেন রাষ্ট্র বিধ্বংসী কারেন্ট নয়, এই প্রশ্নের উত্তর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আপনি বুঝে থাকেন তাহলে অবশ্যই উচিত তাকে হত্যা করা। 

ইউনিক পাওয়ার ও তার রাস্তা সচল রাখার পাওয়ারকে মুক্ত রেখে, শুধুমাত্র প্রতিস্থাপন পক্রিয়ার নীতিতে আপনি চিন্তামুক্ত হতে পারবেন না।

জানিনা কোন দিকে যাচ্ছে এই দেশ। শুধুমাত্র এই নীতি জীবিত রাখার পদ্ধতি সচল থাকার জন্য অনেক মিডিয়া, অনেক ব্যাক্তি দেশে বিদেশে বসে কথা বলছে। সত্যি যদি বিষয়টার কোন ক্ষুদ্র অংশও সত্য হয় সেটা কতবড় ঝুঁকি সেটা নিশ্চই আপনি বুঝতে পারছেন। 

নিঃসন্দেহে ইউনিক পাওয়ার ও তার লালন পালন কর্তাই এই ঘোলাটে পরিবেশের জন্য দায়ী।