সম্পাদকীয়

কোন দেশই করোনা পজেটিভ গ্রহণ করবে না, বুমেরাং হয়ে যেতে পারে

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২০ |

তৈমুর মল্লিক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

এই সরল সত্যটা বাংলাদেশকে অবশ্যই বুঝতে হবে। করোনা অলরেডি বিশ্বমন্দার জন্য কার্যকর হতে চলেছে। বিশ্বের অন্যান্যদেশ মৃত্যুর মিছিল থেকে বেরিয়ে আসতে মরিয়া। এই বিষয়টি বাংলাদেশ যদি উপলব্ধি না করতে পারে তাহলে এর চেয়ে বোকামি আর কিছুতেই হতে পারে না। 

অন্যদিকে করোনা পৃথিবী থেকে দ্রুত বিদায় নেবে এমন আভাষ পাওয়া যাচ্ছে না, বরং করোনা ভাইরাস তার চরিত্র বদল করে বাতাসে ভেষে থাকার সক্ষমতা অর্জন করেছে এমন তথ্য WHO দিয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গবেষক তাদের গবেষণায় এর স্বপক্ষে প্রমাণ তুলে ধরেছেন।  তার মানে করোনা স্থায়ী নিবাস গড়ে নিতে বদ্ধপরিকর।  

তাহলে এখন উপায় কি? করোনা ভ্যাক্সিন রাতারাতি আসছে এমন বার্তাও অস্থিতিশীল।  

সমগ্র বিশ্বের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে আছে। এরমধ্যেও মাঝে মাঝে সেই যোগাযোগ সচলের বাতাস বইতে শুরু করলেও নিশ্চিত ভাবে কোন দেশ করোনা পজেটিভ ব্যাক্তিকে গ্রহন করবে না। 

সাম্প্রতিক সময়ে ইটালি যাওয়া প্রবাসীদের নিয়ে যে ধারণা বিশ্বমানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত হলো সেটা যে কতবড় ক্ষতি করলো সেটা বুঝতে কষ্ট হবার কথা নয়। এর যে নেতিবাচক প্রভাব কত মারাত্মক হবে সেটা দ্রুত বাংলাদেশ বুঝতে পারবে।  

বাংলাদেশের অভ্যান্তরে সরকারের মধ্যে বসে থাকা লুটেরা দুর্নীতিগ্রস্থ কিছু মানুষের জন্য এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে পড়তে হয়েছে।  এরা নিজেদের স্বার্থে শাহেদের মতো চোর, লুটেরা, নর্দমার কিটদের হাতে তুলেদিয়েছিলো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কিন্তু শাহেদ, বা অন্যান্য নর্দমার কিট কখনও দেশের কথা মাথায় রাখেনি, তারা নিজেদের লোভ এবং স্বার্থান্বেষী মনোভাব চরিতার্থ করতে গিয়ে একদিকে দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, হত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে, অন্যদিকে বিদেশে বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। যা কোন দিক থেকেই দেশ দ্রোহিতার চেয়ে কম নয়।  

বিমান যোগাযোগ শুরু হতে না হতেই আবার যোগাযোগ বন্ধে বাংলাদেশ নাম লেখাতে বাধ্য হয়েছে। এই ঘটনা অবশ্যই রেফারেন্স হয়ে থাকবে অন্যদেশের নিকট। 

এদিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত দুর্নীতিগ্রস্থ কোন অংশই পরিবর্তন হয়নি, বরং তাদের সুপার পাওয়ার দিয়ে হয়তো শেখ হাসিনাকেই জিম্মি করার চেষ্টা করছে।  

এই ঘোলাপানি এক স্থানে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রবাহে নতুন নতুন উপস্বর্গ দেখা যাবে অচিরেই বলে মনে হয়।  

কোন দিক থেকেই করোনা টেস্টে শিথিলতা দেখানো যাবেনা, সেটা মানুষের জীবন বাঁচাতে যেমন প্রয়োজন অন্যদিকে বৈশ্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশের নাগরিক সেবা শতভাগ সফল এই ধারণা জন্ম দেয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় আন্তর্জাতিক যোগাযোগে সমগ্র পৃথিবী আবার জেগে উঠলেও বাংলাদেশ হয়তো থেকে যাবে পিছনের দরজায়।  

আর তাই স্বাস্থ্যখাত পরিস্কার এবং নির্ভরশীল করতেই হবে। এর বিকল্প নেই।  

এখনও সময় আছে, চুপ করে বসে থাকার সময় এটা নয়। চারপাশ থেকে মেঘ এগিয়ে আসছে বলে মনে হয়। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মুখের দিকে না তাকিয়ে কঠিন থেকে কঠিন হন। হয়তো বেঁচে যাবে বাংলাদেশ।  

আমরা অতি সাধারণ, আমাদের কথা কেউ শোনেনা জানি। তবুও দায়মুক্তির জন্য পরামর্শটুকু দিলাম। ভালো থাকুক বাংলাদেশ