সম্পাদকীয়

চীন তাহলে রেডি বিশ্ব নেতৃত্ব বুঝে নিতে

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২০ |

তৈমুর মল্লিক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

বেশ কিছুদিন আগে লিখেছিলাম, করোনা পরবর্তীতে  অস্ত্রের মাধ্যমে ৩য় বিশ্বযুদ্ধ হয়তো ভবিতব্য। কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছিলাম করোনা ভাইরাসের জন্ম চীন কেন্দ্রিক বলে আমেরিকার দাবি যা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেই তালিকায় আমেরিকার মৃত্যু সংখ্যা অনেক বেশি। আমেরিকা প্রচন্ড আগ্রাসী ও প্রতিশোধ পরায়ণ একটি জাতি। চীনের উপর আনা অভিযোগ প্রমানে এবং প্রতিশোধ নিতে আমেরিকা প্রশাসন চীনকে হামলার জন্য জনসমর্থন পেয়ে যাবে। তাছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন করোনা কারণে যে ব্যাক গিয়ারে চলে গেছে সেখান হতে ফিরে আসতে হলে তাকে যে কোন একটি যুদ্ধে অংশ নিতে হবেই। আর সেই যুদ্ধটা চীনকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। অলরেডি আমেরিকা চীনের বায়োলজিকাল ল্যাব পরিদর্শন করতে চেয়েছে, চীন যাকে নাকচ করে দিয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকার সাথে চীনের ক্ষমতার দন্দ অনেক পুরাতন। চীনের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা আমেরিকার জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু চীনের স্ট্রাডেজি বা পরিকল্পনা আমেরিকার অস্ত্রের কারিশমাকে স্থবির করে দিয়েছে সেটা বলাই যায়।  

আমেরিকায় মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। অন্যদিকে চীন মৃত্যুর মিছিল রুখে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তার অর্থনীতি নিয়ে। ব্যাবসা বানিজ্য স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে চলমান।  শুরুটা চীন থেকে হবার পরে, সেই বিপর্যয় থেকে দ্রুতগতিতে ফিরে আসার পিছনে কোন একটি স্ক্রিপ্ট অবশ্যই আছে। যা হয়তো ভবিষ্যতে প্রমাণ হবে। তবে দেশটি চীন। নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মিলতে হলে চীনকে ধ্বংস হতে হবে এর আগে নয়। 

পৃথিবীতে যতগুলো দেশ মৃত্যুর মিছিলে নাম লিখিয়েছে তার মধ্যে শক্তিশালী প্রায় ৭০ শতাংশ দেশকেই আমেরিকা পাশে পাবে চীনকে ধ্বংস করতে। কিন্তু তাতেও লাভ হবে না বলেই মনে হয়। কারন চীন হয়তো আরো শক্তিশালী বায়োকেমিক্যাল অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েই আছে। করোনা তার মধ্যে হয়তো একটি পরিক্ষার উপাদান মাত্র। 

এখন আসি চীন এর বিষয়ে। চীন যে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে এবং মানষিক সেটাপ সম্পন্ন তার প্রমাণ ধীরে ধীরে যেগে উঠছে। একদিকে চীন অর্থনীতি নিয়ে বিভিন্ন দেশকে ক্রয় করছে, অন্যদিকে বিশ্বকে তারা তাদের প্রস্তুতির ম্যসেজ দিয়ে দিয়েছে। 

সাম্প্রতিক কোন দেশের নাম উল্লেখ না করে চীনা প্রেসিডেন্ট তার দেশের সৈন্যদের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলেছে। কার সাথে যুদ্ধ, কিসের যুদ্ধ কোন কিছুই বলেনি।  তবে ভারতের সাথে লাদাঘ নিয়ে উত্তেজনা ঠিক এই মুহুর্তে হয়তো ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত যখন মহামারী নিয়ে ক্লান্ত ঠিক তখনই লাদাঘ উত্তেজনা ও চীনা সৈন্যদের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলার মধতে কিন্তুতো অবশ্যই আছে। 

১। ভারতের সাথে যুদ্ধ হওয়া না হওয়া মূখ্য নয়। 

২। মূখ্য হলো দুর্বল সময়কে বেছে নিয়ে যুদ্ধের সক্ষমতা চীবের রয়েছে শতভাগ সেটা বিশ্বকে জানানো। 


অন্যদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত স্থানে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রবেশ বা চলাচল চীন মেনে নেবেনা। ভারতের সাথে লাদাঘ নিয়ে উত্তেজনার ম্যাসেজ আমেরিকার জন্য নয় এটাও বিশ্বাস যোগ্য নয়। অলরেডি চীন আমেরিকাকে স্নায়ু যুদ্ধের হুমকি দিয়ে দিয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধের হুমকি দিয়েছে মানেই স্নায়ু যুদ্ধ শুরু হয়েগেছে। এই স্নায়ু যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি হয়তো অস্ত্রের ব্যবহারের দিকে ধাবিত করবে।   

চীন এই মুহুর্তে অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করে করোনা মহামারী মুক্ত একটি দেশ বলা যায়। আর এই স্থানেই আপাতত চীন এগিয়ে আছে আমেরিকার চেয়ে। 

কিন্তু আমেরিকা আহত বাঘ। আগ্রাসন ও প্রতিহিংসা পরায়ণ জাতি। ১০০ বছর পরে হলেও প্রতিশোধ তারা নেবেই। তাছাড়া যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি তাদের যতোই হোক, অফিশিয়াল ভাবে পরাজয় তারা ডিক্লিয়ার করেনা। বিগত ইতিহাস সেটাই বলে। তাই আমেরিকা দুর্বল হয়ে পড়লেও দুনিয়ার অত্যাধুনিক সামরিক সক্ষমতা ও সমগ্র পৃথিবীতে তাদের সামরিক ঘাটি বিধ্বংসী করে তুলতে সময় নেবেনা।  

যাইহোক, এমনি একটি পরিসংখ্যান যখন তখন বলা যায়, পৃথিবী মানুষের হাতেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। মানুষ নিজেই তার ক্ষমতার জন্য এই স্থান তৈরি করেছে। সময় বলে দেবে কি হবে আর কি হবে না।  সব কিছু ভালো হলেই সকলের জন্য ভালো। অন্যথায় সভ্যতার ধ্বংস সময়ের ব্যাপার মাত্র।।