সম্পাদকীয়

আপনিতো জানেন, আপনার স্বামীর আয় কত! তারপরেও চাপ কেন?

প্রকাশ: ২১ মে ২০২০ |

তৈমুর মল্লিক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

আপনিতো জানেন নিশ্চই আপনার স্বামীর বৈধ আয় কত তাইনা? তারপরেও স্বামী সারাদিন অফিস শেষে বাসায় প্রবেশ করার সাথে সাথে যে ফর্দ তুলে ধরেন সেটা সেই স্বামীকে বিপথে যেতে বাধ্য করে এটা বোঝেন?  

স্বামী বেচারা ঘরে প্রবেশ করে চেয়েছিলো তার আয়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আপনি তার অবস্থান মেনে নেবেন এবং শান্তি নামক সম্পদ তার হাতে তুলে দেবেন। 

কিন্তু আপনি যে বাসায় বসে পাশের বাসার ভাবি, দুর শহরের ভাবিদের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন সেটা কেন? সন্তুষ্ট হতে না জানলে সংসার শুরু করার আগেই বোঝা উচিত ছিল নয়কি?  

আপনার ঘর থেকে শুরু করে গাড়ি, বিদেশে বাড়ি, ছেলে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা বলে নিজের বাজার গরম করতে স্বামীর উপরে যে প্রেসার দিয়ে চলেছেন, সেটা না করে আপনার স্বামী যদি নিজে থেকেই আপনার চেয়ে বড় প্রতিযোগি হয় উচিত ছিলো তাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। 

এটা বিশ্বাস করেনতো, স্ত্রী যদি চায় তার স্বামী কোন ভাবেই অসৎ হতে পারে না। তবে বিকল্প যে নেই তা নয়। তবে অধিকাংশ স্বামী তার স্ত্রীর ফর্দ পূরণ করতেই বিপথে পা দেয়। এবং একটা সময় স্বামী নিজেই এডিক্টেড হয়ে পড়ে।  

স্বামী যখন টাকার ব্রিফকেস নিয়ে ঘরে ফেরে, প্রশ্ন করেছেন কখনও কোথা হতে এলো এই টাকা? তাকে বলেছেন কখনো "তোমার অবৈধ পথে আয়ের টাকায় আমার ঘর সংসার সন্তান কিছুই পরিচালিত হবে না"? 

ভেবে দেখবেন। স্বামী অফিসে গেলো খালি হাতে, এলো ভরা হাতে। আপনি গদগদ হয়ে ভালোবাসার পরিমাণ এতো বাড়িয়ে দিলেন যে, স্বামী বেচারা ধরেই নিলো এইটাই ঔষধ।  

এই ঔষধ কম হলেই একি বিছানায় দুইজনের মুখ দুই দিকে, নিশ্চই স্বামী সেটা চায়না। কারণ সে সকালে উঠেই আবার অফিসে যাবে, তাকে কাজ করতে হবে বাইরের পরিবেশে। আপনার ভিন্ন দিকের মুখ তাকে কতটা গ্লানিতে ফেলতে পারে সেটা আপনি না ভাবলেও স্বামী বেচারা ঠিকই বোঝে। আর তাই সকাল হলেই আপনার জন্য আপনার স্বামী হামলে পড়ে সুদ, ঘুষ, জবর দখল ইত্যাদির উপর। পা বাড়ায় আইন ভাঙার খেলায়।  

সত্যি যখন সে বিপদে পড়ে, প্রথমে একটু এদিক ওদিক করলেও ৬ মাসের মধ্যে তারমতো অথর্ব স্বামী দুনিয়ায় আর ২য়টি নেই বলেই সার্টিফিকেট পেয়ে যায়।  

একবার ভেবেছেন, আপনার এই প্রেসারে যে অবৈধ আয়ে আপনার সংসার চলছে - দুইদিন পরেই দেখবেন, ছেলে গাজা টানছে সন্ত্রাসী করছে, মেয়ে অন্যের হাত ধরে ৫ বার ভেগে গেছে। ঘরে খাবার আছে কিন্তু আপনার পা থেকে মাথা পর্যন্ত হুড়মুড়মুড়ে সমস্যা। খাবার হাসছে কিন্তু গলা দিয়ে নামে না। স্বামী বেচারা মাজা সোজা করে চলতে পারেনা। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পাকস্থলী শুকিয়ে গেছে ইত্যাদি। ঘরে খাবারের চেয়ে ঔষধের পাত্রই বড়ো। 

না না এটা ভাবার কারন নেই এসব শুধু আপনার জন্যই হচ্ছে বা হয়েছে। এটা একটা পথ মাত্র। 

স্বামীকে সৎ পথে পরিচালনা করার দায়িত্ব স্ত্রীর উপর বর্তায়, সেটা অবশ্যই নিজের সততা দিয়ে। কিন্তু নিজেই যদি গ্লামার আর উচ্চাভিলাষী হয়ে থাকেন তাহলে স্বামীকে পরিচালিত করা আপনার কর্ম নয়। 

যারফলে গাড়ি থাকবে, বাড়ি থাকবে, সবই থাকবে। শুধু থাকবেনা পারিবারিক বন্ধন। সন্তান একটা কানা, একটা ট্যারা, একটা ১০ বার ভাগুড়ে হয়ে ১০ দিকে ছুটবে। সেই সাথে স্বামী আর স্ত্রী হবে দুই মেরুর বাসিন্দা। একজনের চেয়ে আর একজন বড় পন্ডিত ও নেতা। 

তাই চেষ্টা করুন, স্বামীর আয়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে পথ চলার। আর কিছু না থাক অন্তত শান্তি থাকবে। থাকবে আল্লাহর প্রতি আঘাত বিশ্বাস। সেখানেই হোক পরম পাওয়া।