সম্পাদকীয়

সাইবার যুদ্ধে ভুল বা মিথ্যা বা ষঢ়যন্ত্র প্রতিহত করার দুর্বলতা রয়েছে

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ |

তৈমুর মল্লিক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

বর্তমান সময়ে যে কোন বিষয়ের আংশিক, অর্ধ বিষয়, খণ্ডিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে বার্তা যায় তার প্রায় শতভাগ উস্কানিমূলক, গুজব এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। যা সরকারের বিপক্ষে যায় বিভিন্ন রাস্তায়। অনেক সময় সেই বিষয়কে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবার পূর্বেই ঘটে যায় মারাত্মক দুর্ঘটনা। এরপর দল, সরকার ও সরকারের বিভিন্ন অর্গানের দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। রাতারাতি একশানে যেতে গিয়ে নিজেরাই হয়তো জন্ম দেয় নানামুখী ভুলের।  

অন্যদিকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নামে রয়েছে অনেক ফেক ওয়েভ সাইট। যার নিয়ন্ত্রক ও ডাটাবেইজ আপডেট হয় দেশের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন গ্রুপের। যারা সকল ওয়েভ সাইট সার্ভার ব্যবহার করে বিদেশি কোন সার্ভার থেকে। 

মন্ত্রনালয়ের নির্দিষ্ট ওয়েভ সাইট খুঁজে দেখে যেটা প্রতিয়মান হয়, "দৈনিক ডাটাবেইজ আপডেট অনুপস্থিত"।  

সাধারণ মানুষ অর্থাৎ দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ এখনো আসল নকল বের করতে না পারার অক্ষমতা থেকে গ্রহণ করে উস্কানিদাতাদের তথ্য এবং তার উপর দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং জড়িয়ে পড়ে নানা প্রকার বিভ্রান্তিতে। 

দেশের মধ্যে যে কোন ঘটনা সামনে আসার সাথে সাথে সরকারের পদক্ষেপ ঘোষণা ও সঠিক তথ্যের অপার সুযোগ থাকলেও মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বা রাতারাতি  তেমন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়না। নিতান্তই নিরুপায় হলেই কেবল তাদের কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু ততোক্ষণে ঘটে যায় নানামুখী বিপত্তি। 

দলিয় ভাবেও আওয়ামিলীগকে দেখা যায়না তারা সরকারের পক্ষে কোন ভূলের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে সাইবার যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। অথচ অন্যদিকে বিরোধী বলি বা চক্র বলি তারা তাদের সাইবার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে দেশে বিদেশে বসে অবাধে এবং অত্যন্ত শক্তিশালী ভাবে। 

সাইবার যুদ্ধের মোকাবেলা সাইবার যুদ্ধদিয়েই মোকাবেলা করতে হবে প্রাথমিক ভাবে। সেটাই নিয়ম। এরপরে অন্য পদক্ষেপ। কারণ প্রথম আঘাতেই সাধারণ মানুষকে আগে ভুল শিক্ষা বা ভুল বার্তা গ্রহন থেকে মুক্ত করা জরুরি।  

অনলাইনে বঙ্গবন্ধুর নামে অনেক গ্রুপ পেজ ইত্যাদি দেখতে পাওয়া যায়, আওয়ামীলিগ নামে অনেক পেজ বা গ্রুপ বা ওয়েবসাইট দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু তাদের এক্টিভিটি সন্দেহ জনক অনেক ক্ষেত্রেই। স্বার্থের একটা বিশাল ভাণ্ডার যেখানে কাজ করে। 

আওয়ামীলিগের দলীয় কর্মি হয়তো মাঠে অনেক সক্রিয় কারণ সেখানে চাঁদা আছে, টেন্ডার আছে, সুবিধা আছে, ভাগ বাটোয়ারা আছে, ইজারা আছে,  নেতা গিরি আছে ইত্যাদি।  

আর তাই তাদের দেশের জন্য আদেও কিছু করার আছে বলে মনে হয়না।  

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রীর একটি রসিকতা মূলক বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে। অথচ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ওয়েভ সাইটে সেটার সঠিক ব্যাখ্যা খুজে পেলাম না।  

এরকম প্রতিটি বিষয় প্রায় অনুপস্থিত।  ধর্মীয় উগ্রতায় পেয়ে বসেছে দেশের প্রত্যেকটা অংশ। এসব নিয়ে কোন প্রকার সাইবার যুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিহত করার কোন দৃশ্য প্রতিয়মান নয়। 

ছাড়া ছাড়া দুই একজন আসল বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করে। 

তাছাড়া যে কোন সংবাদ সরকারের বিপক্ষে ভাইরাল হবার জন্য যথেষ্ট সাইবার যোদ্ধা বিপক্ষের প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু যে ব্যাক্তি আসল বিষয় তুলে ধরলো সেটা ভাইরাল হবার কোন পার্ট সরকারের বা দলের আয়েত্বে নেই বললেই চলে। 

আর তাই যে কোন বিষয় নেতিবাচক হতে সময় লাগেনা একেবারেই।  

বিষয়টি হাল্কা ভাবে দেখার কোন সুযোগ নেই। শুধুমাত্র চট্টগ্রাম নিয়ে দেশের বিপক্ষে আছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিপদজনক পেজ, গ্রুপ, ওয়েভ সাইট। জানিনা কোথায় আমাদের আইসিটি বিভাগ। শুধুমাত্র অসন্তোষ বৃদ্ধিতে রয়েছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রুপ পেজ ওয়েভ সাইট। যা প্রতিহত করার পার্ট দৃশ্যমান নয়। রয়েছে নাস্তিক চরিত্রের নামে ইসলাম বিদ্বেষমূলক পেজ, গ্রুপ, ওয়েভ সাইট যা পরিচালিত হয় বিদেশি টাকায় এবং ইউকে, আমেরিকার ভিসা প্রদানের উপর নির্ভর করে। কোথায় এদের প্রতিহত করার সাইবার যোদ্ধা? 

সরকারের উচিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা। অন্যথায় ভুল হয়ে যাবে।