সম্পাদকীয়

নাগরিকত্ব পেলে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে যাবে

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ |

তৈমুর মল্লিক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিছুদিন আগে বলেছেন, "ভারত যদি নাগরিকত্ব দেয় তাহলে বাংলাদেশের অর্ধেক খালি হয়ে যাবে "।  অর্থাৎ অর্ধেক বাংলাদেশি ভারতে চলে যাবে।  

কতটা অজ্ঞতা আর জ্ঞানহীন রাজনীতি করলে তিনি এমন বক্তব্য দিতে পারেন।  

আমি যা লিখছি অবশ্যই সেটি আমাদের অহংকার নয়, সেটা আমাদের গর্ব।  

কোন বিচারে, কোন মাপকাঠিতে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এই বক্তব্য দিয়েছিলো সেটা বোধগম্য নয়। হতে পারে এই বক্তব্য তাদের নিজের দেশেই এন আর সি, সি এ এ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পিঠ বাঁচানো বক্তব্য।  

কৌশলে তিনি এটাই স্বীকার করে নিলেন যে, বাংলাদেশ নিয়ে এমন বক্তব্য দিলে হয়তো তার বা তাদের পিঠ বাঁচবে, অর্থাৎ বাংলাদেশ এখন তাদের পিঠ বাঁচানোর ক্ষমতা রাখে। 

প্রশ্নহলো, ভারতে সি এ এ বাস্তবায়ন করবে না কি এন আর সি বাস্তবায়ন করবে সেটা তাদের নিজেদের ঘরোয়া ব্যাপার।  এই বার্তাতো আমাদের প্রধানমন্ত্রী দিয়েই দিয়েছেন অনেক আগেই।  কিন্তু ভারতের সংসদে সেই দেশের বর্তমান সাংসদগণ বাংলাদেশ নিয়ে পিঠ চুলকিয়েই চলেছে। অর্থাৎ ইম্পর্টেন্সি একটা বাংলাদেশের রয়েছে সেটা ভারতের সংসদেই প্রমাণ দেয় বা বিভিন্ন মিটিং মিছিলে প্রমাণ দেয়।  

ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়তো লক্ষ্যই করেন নি যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা সরকার ভারত নিয়ে তেমন কোন শব্দ উচ্চারণ করে না, যা করার আমরা আমজনতা মাঝে মধ্যে দুই এক কথা লিখে দেশের চিত্রটা তুলে ধরি।  তাই বলছি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এক সাক্ষাতকারে শুধু একটা লাইন বলেছিলো, "ভারত কেন এসব করছে সেটা আমার মাথায় আসে না"। এই এক লাইনের ডিপ্লোমেটিক উত্তরে ভারতের সব মিডিয়া সহ সরকারের মাথা অবধি নড়েচড়ে বসেছিলো। 

আমরা আমজনতা শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলাম এই একটা লাইনের ভার হজম করার ক্ষমতা ভারতের হয়নি।  তাহলে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন আমাদের গর্বটা কোথায়। 

বাংলাদেশ ভারতের বন্ধু রাষ্ট্র এটা বাংলাদেশ তার দানে বুঝিয়ে দিয়েছে হাজার বার। কিন্তু ভারত বাংলাদেশের বন্ধু কি না সেটা তিস্তার পানি বন্টন সহ প্রায় প্রতিটি দিন সীমান্তে মানুষ হত্যাকরে বুঝিয়ে দিচ্ছে তাই নয়কি?  

যাক সে কথা, ভারতের মধ্যে থেকে বিশ্লেষণ এটাই যে ভারতের চেয়ে প্রায় সব দিকেই বাংলাদেশের গ্রোথ অনেক উপরে।  অর্থনৈতিক সূচক, শিক্ষার হার, অবকাঠামো, জীবন যাত্রা, শিশু মৃত্যু, শিশু শ্রম, মানুষের আয়ুকাল, সীমান্তের জীবন যাত্রা, শিল্প, ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। বলা যায় বাংলাদেশ যেখানে রয়েছে, ভারতকে সেখানে যেতে কমপক্ষে ৫ বা ১০ বছর একনাগাড়ে সুস্থ শ্রম ও সঠিক পরিকল্পনায় এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সেটা কি সম্ভব? নিজেরা নিজেদের পায়ে যদি কুড়াল মারে তাহলে ঠেকায় কে। তাছাড়া  নিশ্চই বাংলাদেশ এখানেই থেমে থাকবে না। 

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাহেব কি জানেন আমেরিকা যদি তাদের দেশে নাগরিকত্ব ফ্রি করে দেয় তাহলে ভারতের অর্ধেক জনগণ নয় প্রায় সবটাই খালি হয়ে যাবে। ট্রাম্প সাহেব যে ভাবে চারপাশ থেকে তালা বন্দী করে রেখেছে তাই ভারতীয়দের ঠেকানো যাচ্ছে না।  এটা দোষের কিছু নয়। মানুষ তার জীবনযাত্রা উন্নত করতে সেখানেই যাবে, যেখানে সেই সুযোগ রয়েছে। আর তাই ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিজের পকেটে হাত দিয়ে দেখুন বাংলাদেশ থেকে মোট কত টাকা ভারতে প্রতিবছর প্রবেশ করে। তাহলে বাংলাদেশ হতে নয়, হয়তো আপনাদের এন আর সি ও সি এ এ এসব আমাদের দেশের জন্যই দরকার। কারণ উল্টা আমরা ভয়ে আছি, না জানি আপনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কখন এসে নিজেই নাগরিকত্ব নিয়ে বসে থাকেন বেটার জীবন যাত্রার জন্য।  

আবারো বলছি, এটা আমাদের অহংকার নয়, এটা আমাদের গর্ব।