সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারতের CAA নিয়ে ডিপ্লোমেটিক উত্তর সঠিক এবং শক্তিশালী

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারী ২০২০ |

তৈমুর মল্লিক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

CAA নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে যা ঘটছে সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু যাই কিছু ঘটছে সেদিকে সীমান্তবর্তী দেশের একটি দৃষ্টি থাকবে সেটাও অমূলক নয়। 

ভারত তাদের ইকোনমিক নিম্নগতি ঠেকাতে হোক বা হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠায় হোক বা ভোটের বাজার স্থিতিশীল করতে হোক, যে কোন কারণে CAA চালু করুক তাতে অন্যদেশের কিছুই এসে যায় না। 

কিন্তু পাবলিক পারসেপশনে একটা ঝড় চলেই সীমান্তবর্তী দেশ সমুহে। 

আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে সরাসরি কখনই কোন কথা বলতে শুনিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাতকারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, "ভারত কেন CAA করছে এটা তার বোধগম্য নয়"। একি সাথে তিনি এটাও বলেছেন, " বিষয়টি ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়"।  

এইটুকুতেই ভারতের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিশাল একটা ঝাঁকুনি লেগেছে বলেই মনে হচ্ছে।  

তারা এটা নিয়ে মাথা ঘামিয়েই চলেছে এবং এই বাক্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই চলেছে।  তাদের সামনে এখন একটাই প্রশ্ন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কেন এই কথা বললেন।  

তারা আশংকা প্রকাশ করছেন তাহলে কি বাংলাদেশের সাথে ভারতের দুরত্ব তৈরি হতে চলেছে? 

বিষয়টিকে ব্যখ্যা করতে গিয়ে ভারতের মিডিয়া ২ টি বিষয় সামনে এনেছে। 

তারা বলছে, ভারত বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখতে চায় কারণ ভারতের ট্রানজিট দরকার। 

অন্যদিকে বাংলাদেশ সম্পর্ক ভালো রাখতে চায় কারণ বাংলাদেশের তিস্তার পানির হিস্যা দরকার।  

কিন্তু তারা এটা বলেনি যে, তিস্তার পানি হিস্যা আন্তর্জাতিক পানি আইন অনুসারে বাংলাদেশ যে ভাগ পায় সেটা তাদের অধিকার। অথচ ভারত সেই অধিকার রক্ষা করেনি।  

আবার এটাও বলেনি যে, কোন স্বাধীন দেশের মধ্যে দিয়ে অন্যদেশকে ট্রানজিট দেয়া সেটা উক্ত দেশের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। কোন ভাবেই সেটা অধিকার নয়। কিন্তু বাংলাদেশ কিন্তু সেই সুযোগ দিয়েছে। সেই সাথে দিয়েছে আরো অনেক কিছুই।  

আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কথায় ভারতের বুক কেঁপে ওঠার কারণ নিশ্চই আছে। চীন যে ভাবে তার আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে সেখানে বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্কের অবনতি ভারতের জন্য হবে বুমেরাং।  আর তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ভারত সত্যি চিন্তুত। 

ভারতের মিডিয়া বলছে, বাংলাদেশের বর্তমান ইকোনমিক গ্রোথ ৮ এর উপরে। যা ভারত হতে অনেক বেটার। যার ফলে বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে যাবার প্রশ্ন ওঠেনা কিন্তু ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা থেকেই যায়।  

আর তাই যদি হয় আমাদের প্রধানমন্ত্রী CAA নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে সেটা ডিপ্লোমেটিক ভাবে অত্যান্ত পাওয়ারফুল বক্তব্য দিয়েছে এতে সন্দেহ নেই। 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে চিন্তা করতে নিশেধ করেছেন CAA বিষয়ে। 

কিন্তু বাংলাদেশের ইকোনমিক গ্রোথ যখন ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা জাগিয়ে দেয় তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী কি করতে পারবেন?  

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ডিপ্লোমেটিক উত্তর দিয়ে ভারতকে যে বার্তা দিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী যদি বুঝে থাকে তাহলেই মঙ্গল।  

সমগ্র বাংলাদেশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই উত্তরকে সমর্থন করে এবং ডিপ্লোমেটিক পাওয়ারের উপর ভরসা করে। আর তাই ভারতের উচিত হবে বাংলাদেশকে সেই ভাবেই মূল্যায়ন করা। যা সবার জন্যই মঙ্গল এবং উন্নত সম্পর্কের জন্য জরুরি।