সম্পাদকীয়

এই বাঙালিকে কে পাহারা দেবে? প্রতারণার চক্রে বানিজ্য মেলা নাকি প্রতারণার মেলা?

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারী ২০২০ |

তৈমুর মল্লিক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

ঘৃণাও হয়তো লজ্জা পায় বাঙালিকে দেখলে। সরকার ঘোষিত বানিজ্য মেলা যখন লোক ঠকানোর আঁকড়ায় পরিনত হয় সেখানে সমগ্র দেশের বাজার ব্যবস্থা কি করে সামলাবে সরকার?  

চরিত্রই যখন লোক ঠকানোর রক্তে বহমান, প্রতারণা করতে হবে এই পরিকল্পনা করেই যখন ব্যবসায়ী ব্যাবসাকেন্দ্র নিয়ে বসে তখন কি লাভ সরকার আইন ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে মুখরোচক শব্দ ব্যবহার করে? 

ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা যখন পুলিশ নিয়ে বানিজ্য মেলায় প্রবেশ করে তখন বুঝতেই হয় চোর বাটপার প্রতারক সব গলামিলিয়ে একসাথে ব্যবসাকেন্দ্র খুলে বসেছে বানিজ্য মেলায়। 

বাৎসরিক একটি বানিজ্য মেলা সেই দেশের বানিজ্য ব্যবস্থার উদাহরণ হয়ে জাতির সামনে তথা সমগ্র পৃথিবীর সামনে উপস্থাপিত হয়। সেই বানিজ্য মেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা এই স্টল সেই স্টলে গিয়ে চোর বাটপারের সামনে হাজির হচ্ছে প্রতিনিয়ত।  বোঝা মুশকিল যে, এটি বানিজ্য মেলা নাকি প্রতারণার মেলা। 

বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত সবচেয়ে অনন্য উদাহরণ বানিজ্য মেলা, যা বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের এট এ গ্লান্স হিসাবে ধরাই যায়। 

অথচ সেই বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের বানিজ্য মেলা প্রমাণ করতে পারেনি তাদের স্বচ্ছতা, বানিজ্য মন্ত্রণালয় প্রমাণ করতে পারেনি নিজেদের।  

বানিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে ক্রোকারিজ স্টল, কিন্তু ক্রোকারিজ স্টলে যখন মাইক্রো ওভেন, টেলিভিশন ক্রোকারিজ হয়ে বিক্রি হতে থাকে তখন বলার অপেক্ষা রাখে না তাদের উপস্থাপিত ইলেক্ট্রিক বা ইলেকট্রনিকস আইটেম সম্পূর্ণ মানহীন এবং স্বেচ্ছাচারী। 

একজন সাধারণ মানুষ দুর দুরান্ত হতে বানিজ্য মেলায় গিয়ে প্রতারিত হয়ে ফিরে আসে, যাদের একটু সামর্থ আছে তারা না হয় খুঁজে নেয় ভোক্তা আধিকারের অফিস। কিন্তু অতি সাধারণ মানুষ সেখানে কথা বলারই সাহস রাখেনা। 

কারণ প্রতিটি স্টলের সমর্থনে সেখানে রয়েছে সিন্ডিকেট, সেখানে রয়েছে পেশিশক্তি ব্যবহারের জনবল।  

অথচ তার পাশেই আইন আছে, আছে আইনের মানুষ।  

কে কাকে কতটা ঠকাতে পারে, কে কার নিকট হতে কষ্টার্জিত টাকা প্রতারণা করে নিতে পারে, এ যেন তারই একটি মেলা।  

লজ্জা হয়, ঘৃণা হয় এই ভেবে যে, আমরা বাঙালি।  এই বাংলাদেশের সমসাময়িক সময়ে স্বাধীনতা পেয়েছিলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। বৃটিস সেদিনই তাদের স্বাধীনতা দিতেছিলো যেদিন কাতারের বিষ কিনে খাওয়ার জন্য কোন তেল অবশিষ্ট ছিল না।  মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা সেই দেশ এখন পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি, বিশ্বের অন্যতম ধনী। 

তাদের মাথাপিছু আয় এখন সেই বৃটিস হতেও প্রায় ৩ গুন বেশি।  

অথচ বাংলাদেশ এখনও চোর বাটপার আর প্রতারণা করে পড়ে আছে অন্ধকারে। যার একটাই কারণ,  মানুষিক ভাবে ও চারিত্রিক ভাবে আমরা চোর, বাটপার, প্রতারক। কে কাকে কতটা ঠকিয়ে বেঁচে থাকতে পারি সেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত আমরা। 

কে পাহারা দেবে এই বাঙালিকে, কে বাঁচাবে এই বাঙালিকে?  কি লাভ সরকারের দোষ দিয়ে, আমাদের চরিত্রই যখন প্রতারকের চরিত্র, আমাদের চরিত্রই যখন ধর্ষণের চরিত্র, আমাদের চরিত্রই যখন সামাজিক ভাবে পচনশীল?  

সসম্ভবত এর পরে বানিজ্য মেলার গেটে লেখা থাকবে বড় করে - "প্রতারণার মেলা"। 

বানিজ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চই সেটার স্বপক্ষে সীলমোহর দিয়েদেবে এবং বানিজ্য মন্ত্রী সম্ভবত সেই আয়েশেই দিবানিদ্রা যাবে পরম তৃপ্তিতে। 

পেয়াজ থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ বানিজ্য ব্যবস্থাই যখন ঝুকির মুখে সেখানে প্রতারণা ছাড়া আর উপায় কি।