সম্পাদকীয়

লাল-সবুজের প্রিয় বাংলাদেশে আজ বিজয় দিবস

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ |

আবদুল মালেক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

সরকারকে ধন্যবাদ। ৪৯তম বিজয় দিবসের প্রাক্কালে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করলো মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই তালিকা বাহাত্তরের সালেই করা যেতো। হয়ত চেষ্টা ছিল, কিন্তু একটি নবীন দেশ গড়ার কাজে বঙ্গবন্ধুর সরকার শত দিকে ব্যস্ততার কারণে তা হয়ে উঠেনি। পচাত্তরে সপরিবারে নিহত হলে উলটোপথে পথে যাত্রা করে বাংলাদেশ।

একুশ বছর পর ৯৬'এ বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় আসার পরেও এ তালিকা হতে পারতো কিন্তু হয়নি। যাইহোক, অবশেষে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী পালনের আগ মুহুর্তে তা হলো। সরকারকে আবারও অভিনন্দন, কৃতজ্ঞতা জানাই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালী জাতির হাজার বছরের সেরা অর্জন। বাঙালীর চরিত্রে দ্বৈততা স্পষ্ট। পলাশীর আম্রকাননে নবাব সিরাজের অনুগত বাহিনী যেমন ছিল, তেমনই ছিল সাত সাগরের ওপার থেকে আসা বেনিয়া ইংরেজদের পা চাটা লোভী ও স্বার্থপর একটি গোষ্ঠী। সেদিন যদি বাঙালী ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াত তবে ১৯০ বছরের শৃঙ্খলার জিঞ্জিব আমাদের পায়ে লাগতো না। মীরজাফর ব্যক্তিগত আকাঙ্খা চরিতার্থ করতেই ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন নবাব সিরাজের বিপক্ষে অস্ত্রধারণ করে। ফলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মতোই ক্ষমতা চলে যায় বৃটিশদের হাতে।

সংগ্রাম কিন্তু চলমানই থাকে। স্বাধীনতার জন্য যুগ যুগ ধরে চলতে থাকে রক্তদান। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ছেড়ে যায় বৃটিশরা। কিন্তু বাঙালীর কপালে সেই কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা আর এলোনা। শুরু হয় আবারও স্বাধীনতার সংগ্রাম। তেইশ বছরের পরাধীনতার শিকল ছিড়ে অবশেষে মুক্তির মাহেন্দ্রক্ষণ আসে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর। গায়ে চিমটি কেটে অনুভব করারই মতো, সত্যিই কি স্বাধীন হলো দুঃখিনী বাংলা আর সাতকোটি গরীব-দুঃখী সাধারণ মানুষ? হ্যাঁ, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পৃথিবীর মানচিত্রে ভূমিষ্ট হলো লাল-সবুজের বাংলাদেশ। 

একাত্তরের ২৬ মার্চ পৃথিবী নামক গ্রহের উদরে যে ভ্রুণ গেঁথে দিয়েছিল সাতকোটি বাঙালীর অবিসংবাদী নেতা শেখ মুজিবুর রহমান সেই ভ্রুণই ন'মাস শেষে পূর্ণতা  পেলো। অনেক দেশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, রাতের ঘন আঁধার পেরিয়ে ঊষার রবির মতোই ধীরে অথচ আপন মহিমায় দুনিয়াকে জানান দিল, আমি এসেছি; একদিন প্রমাণ করব, কারো গলগ্রহ হবেনা বাংলাদেশ। রক্তের দামে যে দেশ স্বাধীনতা আনতে পারে সে দেশ একদিন অর্থনৈতিক মুক্তিও নিশ্চিত করবে এবং সেটি খুব দূরে নয়। আজ ঠিক সেই পথেই হাটছে বাংলাদেশ। 

আমাদের চরম দুর্ভাগ্য, একাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জাতির জীবন থেকে একুশটি বছর চুরি হয়ে যায়। ক্ষমতায় চলে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পক্ষ। তা নাহলে স্বপ্নের সোনার বাংলার পথে আরও আগেই পথচলা শুরু করতে পারতো বাংলাদেশ। দেশের স্বাধীনতার জন এত ত্যাগ দুনিয়ার আর কোন দেশ করেছে? কোন রকম প্রাপ্তির হিসাব না করেই একাত্তরে যুদ্ধে গিয়েছিলেন  বাবা, সন্তান, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক। তাদের সেই ঋণ কোন দিন শোধ হবেনা। সব ঋণ শোধ করাও যায়না। তিরিশ লাখ শহীদ, কয়েক লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজের বাংলাদেশ আমাদের গর্বের ঠিকানা। তোমাদের ভুলবো না। হে বিজয়ী বীরগণ তোমাদের অবদান ততদিন রবে, যতদিন রবে আকাশ জুড়ে চন্দ্র, তারা, রবি।