সম্পাদকীয়

লন্ডন ও যুক্তরাষ্ট্রের গর্তথেকে টেনে হিচড়ে নিয়ে আসুন বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনাকারিদের

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ |

তৈমুর মল্লিক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

৯৯১ জন শিক্ষাবিদ,চিকিৎসক ৪৯, আইনজীবী ৪২, সাংবাদিক ১৩ অন্যান্য ১৬ জন মানুষ যাদের দেশের মেধা হিসাবে বিবেচিত ছিলো তাদেরকে অত্যান্ত সুপরিকল্পিত ভাবে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এবং দেশের মেরুদন্ড ভেঙে ফেলার চেষ্টায় হায়েনার দল স্বাধীনতা প্রাপ্তির ঠিক পূর্ব মুহুর্তে হত্যা মিশন পরিচালনা করে। 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোন ভাবেই রুখে দিতে না পেরে, সাড়ে সাত কোটি বাঙালির স্বপ্ন ধ্বংস করতে না পেরে এমন একটি সিদ্ধান্ত যারা নিয়েছিলো তাদের শুধু ঘৃণিত অপরাধী বললে কম বলা হবে, তাদেরমতো নিকৃষ্ট নর্দমার কিট আর দ্বিতীয়টি নেই।  যাদের বেঁচে থাকার কোন অধিকার আছে বা থাকে বলে একজন বাংলাদেশি হিসাবে মনে করিনা।  

সেই মিশনের মূলপরিকল্পনাকারি জাতিকে মেধাশূন্য করার নীলনকশা বাস্তবায়নে নেতৃত্বদানকারী আলবদর বাহিনীর দুই শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের দুই কালপিট ভয়ংকর মানুষিকতার দুই আলবদর নেতা চৌধুরী মুঈনুদ্দীন যে লুকিয়ে আছে যুক্তরাজ্যে  ও আশরাফুজ্জামান খান যে লুকিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রে। 

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। অত্যান্ত আবেগীয় অন্তকরনে আমরা এই দিনটিকে স্মরণ করছি। কিন্তু দিনটির জন্ম যাদের হাতে হলো তাদের সম্পর্কে আমাদের কোন দায়িত্ব নেই, তাদের পুরস্কার বা তিরস্কার কিছুই প্রদানে সচেষ্ট নই বা ৩য় কোন ইস্যু হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি তাহলে দিনটি বাৎসরিক দিবস ছাড়া আর কিছুই নয়।  

কুটনৈতিক তৎপরতা কোন কোন ক্ষেত্রে আক্রমনাত্মক হওয়া আবশ্যক। অন্যথায় জাতি হিসাবে শুধু একটি সিম্বল দুনিয়ার সামনে থাকে, এ ছাড়া তার আয়তন, ওজন, স্থান দখল করার কোন ক্ষমতাই থাকেনা।  

আমরা বাংলাদেশি, বাংলাদেশি সরকার প্রধান সেই বীরের কন্যা, যে বীর বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের জন্ম দিয়েছে।  

তাই আমাদের চাহিদার পরিমাণ নিশ্চিত ভাবেই অধিক।  অনতিবিলম্বে দুই কালপিটকে ধরে এনে প্রাপ্য পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হোক এবারের বুদ্ধিজীবী দিবসের শপথ। তাছাড়া এই দিনটি বার বার আসবে কিন্তু কষ্টটা রয়েই যাবে যে, আমরা পারিনি - প্রকৃত কালপিটদের, নর্দমার কিটদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে। জাতি হিসাবে যা হবে আমাদের চরম ব্যার্থতা।