সম্পাদকীয়

সু চি'র বাঙালি নারীদের প্রতি নগ্ন বক্তব্যের প্রতীবাদ জানাচ্ছি-"এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায় কতটা" ?

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ |

তৈমুর মল্লিক, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

প্রথমেই "একজন নরখাদক, বর্ণবা্দি, অসৎ চরিত্রের অধিকারী ও জাতীগত নিধনের নেতা "অন সাং সু চিকে বাঙালি নারিদের প্রতি অসম্মান, অশ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে দাঁড়িয়ে অফিসিয়াল বক্তব্যের তীব্র প্রতীবাদ জানাচ্ছি । 

দ্বিতীয়ত আমার বক্তব্য অবশ্যই শুধুমাত্র " বাঙালি" শব্দ ব্যবহারের জন্য। 

মিয়ানমার রোহিঙ্গা নারী বা সম্প্রদায়কে বাঙালি বলে প্রচার করার চেষ্টা করেছে এখন সেটাকে প্রমাণিত করতেই সে (সু চি) বুঝে শুনে বাঙালি শব্দ ব্যবহার করে বাঙালি নারিদের অসম্মান করেছে। কারণ সে যানে এই অনুভুতিতে আঘাত করা বক্তব্যে ভুল করে হলেও বাংলাদেশের মানুষ যদি বাঙালি বলতে রোহিঙ্গাদের নির্দেশ করে তাহলেই "সু চি'র জয় হয়েগেলো আন্তর্জাতিক আদালতে। 

কিন্তু আমি ভুলেও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে বাঙালি বলে মনে করে প্রতিবাদ জানাইনি। তারা বাঙালি কি না সেই বিচার বাংলাদেশ সরকারের। আমার প্রতিবাদ শুধুমাত্র "বাঙালি নারী" অর্থাৎ বাংলাদেশি নারীদের নির্দেশ করে। কারণ তার বক্তব্যে বাঙালি নারী উল্লেখ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের নারীদেরকেই বোঝায়। 

ঘৃণার সাথে তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তাকে বলতে চাই,"একজন নারী হয়ে অন্য একজন নারীকে অসম্মান যে করতে পারে তাকে আর যাই বলা হোক অন্তত সভ্য মানুষ হিসাবে বিবেচিত করা যায় না । তার একমাত্র উপহার মানুষের থুতু । 

সে নিজে অসৎ চরিত্রের বলেই সে আমাদের সম্মানে আঘাত করে বলতে পেরেছে, "বাঙালি নোংরা নারীদের তাদের কোন সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধরা স্পর্শ করেনি বা করবেনা কারন তারা আকর্ষনীয় নয়" 

ছিঃ সু চি - তোমার মতো নারীর প্রতি ঘৃণা জানাই । তোমার মতো এতোটা নিচে নেমে বলতে পারবো না অন্যকিছু, শুধু বলবো - আমাদের (বাঙালি নারী) শুধু সুন্দরী নয়, তারা মমতাময়ী, মানবতা রক্ষার রক্ষাকবজ, আল্লাহ্‌র অতি আদরের সৃষ্টি ও পবিত্র একটি প্রতীক । 

আন্তর্জাতিক আদালতে দাঁড়িয়ে তাদের এইভাবে অসম্মান করে যে বক্তব্য তুমি দিয়েছো সে কথা লেখা থাকবে সারাজীবন বাঙালিদের বুকে । যদি কখনও সময় সুযোগ আসে, তাহলে সেইদিন হয়তো হাতে নাতে প্রমাণ হয়ে যাবে আমাদের মাথার সম্মানের সম্মান কি ভাবে রক্ষা করতে হয় । বাঙালির নব প্রজন্ম নিশ্চিত এই কথা লিখে রাখবে তাদের মনের মধ্যে । 

আন্তর্জাতিক আদালতে সু চির বিচার একটি চিত্রনাট্য ছাড়া আর কিছুই নয় । সেটাই প্রমাণ করলো সু চি সেখানে দাঁড়িয়ে। আর তাই সেই আদালতের বিচার নিয়ে বাঙালি আশায় বুক বাধবে না সেটা পরিষ্কার । তবে সু চি গণহত্যা করে বুঝিয়েছিলো সে কতবড় মানুষের রক্তখোর, এখন বুঝিয়ে দিলো সে কতটা চরিত্রহীন। 

সুন্দর, সৌন্দর্য কাকে বলে, সেটা কোথায় থাকে সু চি সেটা জানেই না । জ্ঞানপাপী একজন জঘন্য ঘৃণিত মানুষ রুপি ডাইনিকে নোবেল কে দিয়েছিলো, কোন স্বার্থে দিয়েছিলো সেটাই বড় প্রশ্ন । 

আমার দেশ, আমাদের নারী এই দুই স্থানে আঘাত করে নিশ্চই সু চি কোন দিন বাংলাদেশে কদম ফেলার সাহস দেখাবে না সেটাই আশাকরি । আমার রাষ্ট্র এই বক্তব্যকে কি ভাবে দেখবে জানিনা । তবে অতি সাধারণ হিসাবে আমি প্রতীবাদ জানাচ্ছি ঘৃণিত এই বক্তব্যকে এবং বক্তব্য দাতা সু চি'র প্রতি ।।