সম্পাদকীয়

ষঢ়যন্ত্র জালের ২য় ধাপে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া ,উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

বড্ড স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে লিখতে বসেছি।  মতামতের গতিপ্রকৃতি পছন্দ অপছন্দের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন হতেই পারে।

যত সমস্যা দুর্নীতি বিরোধী অভিযান নিয়ে। কেন এটা করতে হবে প্রধানমন্ত্রীকে? কি এতো দায় তার?  সে জানেনা বঙ্গবন্ধু দুর্নীতির কথা বলে, চুড়ান্ত পদক্ষেপ নেবার আগেই কি ঘটেছিলো?  

দুর্নীতি কারা করে? গ্রামের ছিচকে চোর, শহরের রাস্তার ছিনতাই আর নদীতে জলদস্যুতাই কি দুর্নীতি? না সেটাকে দুর্নীতি বলেনা। ওরকম ছিচকে চোর, দুইচারটা ছিনতাইবাজ ধরা পড়লে গণধোলাইয়ের মাপকাঠি বলে দেয় এই বিষয়টাকে কত ঘৃণা করে মানুষ। অন্যদিকে দুর্নীতিবাজ বলতে যাদের বোঝা যায় তারা হয়ে থাকে শিক্ষিত সমাজের প্রতিনিধি, অর্থ বিত্তে সমৃদ্ধ, পেশিশক্তিতে বলিয়ান।  যারা সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে সরকারকে বাধ্যকরে একটি ডিক্টেটরশীপ সম্রাজ্য কায়েম করতে।  যাদের মাথা থাকে সরকারের মধ্যে, শরীর থাকে নিজেদের প্রভাবিত বলয়ে, হাত পা থাকে সমাজের সর্বস্তরে। বাংলাদেশ নামক দেশটি জেনেটিক ভাবে এমন দুর্নীতিবাজের আতুর ঘর। তাদের অসীম শক্তির নিকট পরাজিত হয় রাজনীতি, পরাজিত হয় রাষ্ট্রনীতি, পরাজিত হয় ধর্মনীতি।  

৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু এই শক্তির বিরুদ্ধে চুড়ান্ত যুদ্ধ ঘোষণা করার কথা বলেই টার্গেটে পড়েগিয়েছিলেন। দুর্নীতিবাজদের অবস্থান কোথায় কোথায় থাকে সেটা বোঝা গিয়েছিলো যেদিন তিনি চলে গেলেন। 

২০১৯ সালে এসে তারই কন্যা শেখ হাসিনা আবার উচ্চারণ করেছেন ঠিক সেই একি বাক্য। শুধু উচ্চারণ করে ক্ষান্ত হননি, মাঠেও নেমেছেন।  

যেই মুহুর্তে তিনি মাঠে নামলেন সেই মুহুর্তে গলাকাটা, ধর্ষণ, ছাত্র বিক্ষোভ, গার্মেন্টস বিক্ষোভ  ইত্যাদি  বিভিন্ন ভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করে শেখ হাসিনাকে ভিন্ন কিছু ভাবতে বাধ্য করার পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়।  সেই ধাপকে ষড়যন্ত্রের ১ম ধাপ হিসাবে আমি ধরতে চাই।  কারণ দেশের অঅর্থনীতির উপর আঘাত হানার পরিকল্পনা ছিলো পূর্বের, যেটা এখনও আছে। ১ম ধাপ পার হয়েগেছেন প্রধানমন্ত্রী অত্যান্ত কৌশলে ও দক্ষতায়।  

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ষঢ়যন্ত্রের ২য় ধাপ অতিক্রম করছেন। 

 এই ধাপে অলরেডি ২ টি আক্রমণ হয়েগেছে সরাসরি।  

১। রেলওয়ে দুর্ঘটনা কাকতালীয় নয়, এটি একটি সম্পুর্ন আলাদা মন্ত্রনালয়কে অকার্যকর করার ও কোন প্রকার এভিডেন্স ছাড়া বড় ধরণের প্রানহানির ষঢ়যন্ত্র বলাই যায়।  

২। পিয়াজ বাজার পরিকল্পিত ভাবে অস্থিতিশীল করে আর একটি মন্ত্রনালয়কে অকার্যকর করার এবং অদক্ষ প্রশাসন হিসাবে পরিচিত করার গভীর ষঢ়যন্ত্র এটি।  

২টি ধাপে বড় ধরনের কোন পরিবর্তন লক্ষ করেনি ষঢ়যন্ত্রকারিগণ। আর তাই অটোমেটিক এখন রাস্তা পরিবর্তন হয়ে হাত বাড়িয়েছে চাউলের বাজারে।  চলমান রয়েছে এই রাস্তা। সম্ভবত শেখ হাসিনা আগাম বার্তা পেয়েগেছে আর তাই চাউলের বাজার অস্থিতিশীল করে মানুষকে আঘাত করার আগেই চাউলের বাজার যথেষ্ট নজরদারির মধ্যে রয়েছে বলে মনে হয়।  

এছাড়া দুর্নীতি নিয়ে বিভ্রান্তি, ছোটখাটো বুদবুদ এসবতো আছেই।  

বাতাসের গতিবেগ দেখে বোঝাই যায় ষঢ়যন্ত্রের ২য় ধাপে প্রধানমন্ত্রীকে কাবু করা যাবে না।  

তবে ৩য় ধাপে আবার অর্থনীতির উপর আঘাত আসতে পারে। অবশ্যই এবারের আঘাত হবে আরো বেশি ভয়ংকর। শিল্পবিনিয়োগ থেকে শুরু করে থমকে যেতে পারে অনেক কিছুই।  একিসাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিপক্ষে মরণ কামড় দিতে ৩য় ধাপ হতে পারে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মরন কামড়ের বিষয়টি উল্লেখ করতে চাইনা। কারন মনে প্রানে বিশ্বাস করি দুর্নীতি দুর করতে কার্যকর এবং এমন পাওয়ারফুল রাষ্ট্রনায়ক বাংলাদেশে আগামী শতাব্দীতে আর আসবে বলে মনে হয় না।  হ্যা আমি শেখ হাসিনার কথা বলছি। ঠিক এই কারনেই তার পাশে আমাদের সকলকে দাঁড়াতে হবে।