সম্পাদকীয়

"বিবিসি বাংলা" বাংলাদেশে মানুষ হত্যার কারিগর!

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

"বিবিসি বাংলা'র একটি অভ্যাস আছে, বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টিতে এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করতে উস্কানিমূলক সংবাদ পরিবেশন করে এবং রাতারাতি সেই সংবাদ স্বার্থান্বেষীদের হাতে যাবার পরেই সেই সংবাদ পরিবর্তন করে ফেলে। 

কিন্তু ততোক্ষণে যা হবার সেটা হয়ে যায়। কিছুদিন আগে " বুয়েট এর আবরার বিবিসি বাংলার প্রথম ভুল সংবাদের উপর ভিত্তি করে সোস্যাল মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করে। এরপরের অংশ সকলেই জানে।

অবশ্য তাদের একটা গন্ধযুক্ত গুন আছে, তারা ধরা পড়লেই পা ধরে ক্ষমা চেয়ে বসে থাকে। 

এখন থেকে ২৭ বছর আগের একটি ঘটনা তুলে ধরে তারা সংবাদ পরিবেশন করে- অর্থাৎ ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার সময়কার ঘটনাপ্রবাহ দিয়ে ‘বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পর বাংলাদেশে উত্তেজনার দিনগুলো’ শিরোনামে বিতর্কিত সংবাদটি প্রকাশ করা হয়। 

দু’ঘণ্টা পরে শিরোনামটি পরিবর্তন করে দেয়া হয় - ‘ফিরে তাকানো: ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ নিয়ে ঢাকায় যা হয়েছিল’।

২৭ বছর আগের একটি বিষয়কে তুলে ধরে ঢাকা অর্থাৎ বাংলাদেশকে এখানে মেনশন করে সংবাদ পরিবেশনের পিছনে নিশ্চই রয়েছে চক্রজালে বাংলাদেশকে আবদ্ধ করা এবং বাংলাদেশের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে দেয়া। 

বাবরি মসজিদ রয়েছে ভারতে। সেটা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। এটি অনেক পুরাতন এবং অমিমাংশিত ঘটনা।  মুসলমান হিসাবে আমি অবশ্যই চাই মসজিদই থাকবে। এবং তার স্বপক্ষে যতো প্রকার যুক্তি আমি দেখাবো। কিন্তু সেই দেশের আদালতের মাধ্যমে যদি সেই রায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পক্ষে যায় তাহলে বাংলাদেশে বসে আমার বা আপনার কি করার আছে বা থাকে। এই দেশে বসে নৈতিক সমর্থন ছাড়া আর কিছুই কি করার থাকে?  ভারতেও মুসলমান আছে, এবং সেই সংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি।  তাদের সমর্থন যদি সেই দেশের আদালতের প্রতি থাকে সেখানে বাংলাদেশের মধ্যে সেই আগুন ছড়িয়ে দিতে "বিবিসি বাংলা" কেন বারবার বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে থাকে? 

বাংলাদেশের সরকার যদি এই বিষয়ে তৎপর না হয় তাহলে যে কোন মুহুর্তে মরবে কিছু সাধারণ মানুষ। নেতা নেতার স্থানেই থাকবে, মাওলানা মাওলানার স্থানেই থাকবে, ঠাকুর ঠাকুরের স্থানেই থাকবে আর মরবে সাধারণ মানুষ।

ভারতের আদালতের আইন পাল্টানোর ক্ষমতা বাংলাদেশের নেই বা থাকার কথা নয়। 

সেটা হলে কিছুদিন আগে কাশ্মীর স্বাধীন করে দিতে পারতো বাংলাদেশ।  পাকিস্তান পাকিস্তান করে চিৎকার করা বাংলাদেশের একটি শ্রেণির নিকট নিশ্চই জবাব নেই সেই পাকিস্তান কি করেছে? কেন সেই বীর ইমরান খান এখন চুপ?  সীমানাতো পাকিস্তানের সাথে। 

আমরা পারি লাফ দিতে, এবং পড়ে গিয়ে নিজের পা হাত ভেঙে ফেলতে। চিৎকার করে সব উদ্ধার করতে। আমেরিকা, ইউকেতে বসে, ফ্রি সেক্সের দেশে বসে, মদ খেয়ে, মাতাল হয়ে, নাইট ক্লাব, বার, গালা নাইট নামক উলঙ্গ হয়ে একজন শ্রেনীর দালাল ঈমামতি করে বাংলাদেশের।  উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয় বাংলাদেশের বিপক্ষে, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে। বাংলাদেশের মুসলমান সেটা শুনেই লাফ দেয়।  

এই সকল ঘরানার পেইড এজেন্ট "বিবিসি বাংলা"।  

আর কোন উস্কানিমূলক কাজ নয়, কোন উস্কানিতে বাংলাদেশ যেন অশান্ত না হয় সেটাই আমাদের ব্রত হওয়া উচিত। বড় বড় কথায় পেট চলেনা, পেট চলে বাস্তবতায়।

বাংলাদেশ সরকারের উচিত "বিবিসি বাংলা" নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা, অন্যথায় অসন্তোষ আসতে সময় লাগবে না।।