সম্পাদকীয়

যৌন জাল, টেন্ডার ও ক্যাসিনো ভুতে ওরা এখন দ্রুত মানব

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

জিকে শামীমের যৌন জাল ও টেন্ডার জালে আটকে গেছে বিভিন্ন পর্যায়ের রাঘববোয়াল,  অন্যদিকে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের ক্যসিনো ভুতের তাড়া খেয়ে কথিত রাজ জোটকের দল এতো গতিতে দৌড় শুরু করেছে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খ্যাপলা জালে বন্দী করতে রীতিমতো ঘেমে নেয়ে উঠছে।  

বিষয়টি মন্দ নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আচমকা এমন তাড়া দেবে এ যেন স্বপ্নেও কেউ ভাবতে পারেনি। 

কোন ঘূর্ণায়মান বস্তু যখন কোন কিছুকে কেন্দ্রকরে দ্রুত গতিতে ঘুরতে থাকে তখন সেখানে একটি গতিশক্তি বা বলের সৃষ্টি হয়। উক্ত কেন্দ্র যদি কোন বস্তুর সাথে যুক্ত থাকে তাহলে উৎপাদিত গতিশক্তি তার ক্ষমতার আধিক্যের উপর নির্ভর করে বস্তুটিকেই উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে যে কোন দিকে। উল্লেখ্য যে, কেন্দ্র বরাবর স্থীর থাকে। কেন্দ্র তার নিজস্ব স্থিতিশীলতা এবং নির্ভরযোগ্যতা দিয়েই টিকে থাকে। 

কেন্দ্র জানেনা বা বুঝতেও পারেনা তাকে কেন্দ্রকরে ঘূর্ণায়মান অংশ উৎপাদিত গতিশক্তি দিয়ে আর কি কি বা কোন কোন বিষয়কে নিজেদের ঘুর্ণিচক্রে যুক্ত করে ঘুর্ণিঝড় তৈরি করেছে। তবে সে ভরের পরিমাণ উপলব্ধি করতে পারে।  

হ্যা এতোদিন সেটাই হয়েছে।  আজ যারা দ্রুত মানবের মতো ছুটছে তারা এতোদিন তাদের নিজস্ব শক্তি নিয়ে ঘূর্ণায়মান ছিলো, যাদের কেন্দ্র ছিলো শেখ হাসিনা।  আর শেখ হাসিনা যুক্ত ছিলো বাংলাদেশের সাথে। 

নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে জাতীয় স্বার্থে কাজ করে চলা শেখ হাসিনা যখন তার ভরের, তার স্থিতিশীলতা, তার নির্ভরযোগ্যতার উপর নির্ভরকরে বুঝতে পারলেন যে, শক্তিশালী একটি অর্থনীতির তৈরি করে এবং তার উপর দাঁড়িয়ে থেকে এতো কেন চাপ অনুভব তাকে করতে হচ্ছে? কেন তাকে নিয়ন্ত্রণ হীন হয়ে পড়তে হচ্ছে?  তার বেজ বাংলাদেশ কেন এতো কম্পমান?  

আর কি কোন উপায় থাকে তার? বাধ্য হয়ে তাকে দৃষ্টি দিতে হয়েছে তাকে নিয়ে ঘুর্নায়মান গতিশক্তির দিকে, কিন্তু কি আশ্চর্য - তিনি দেখেন  তাকেই কেন্দ্র করে  বাংলাদেশকে চলমান রাখার জন্য সেখানে ঘুর্নায়মান রয়েছে দুর্ধর্ষ সব স্বার্থপর, কৃতদাস, আত্মকেন্দ্রিক, অবৈধ দখলদার, অবৈধ ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারকারি, উভচর মানুষ রুপি প্রানী, যৌনতায় নিমগ্ন, নেশাখোর এক কথায় দুর্নীতিবাজ কিছু মানুষ। শুধু তাই নয়- তাদের গতিশক্তি সেখানে ধরে রেখেছে পালিয়ে যাবার বিকল্প রাস্তা, ধরে রেখেছে পরগাছা, ধরে রেখেছে তাদের কারো কারো পূর্বপুরুষদের। যারা বাহ্যিক ভাবে আরো ভয়ঙ্কর, আগ্রাসী শক্তিতে বলিয়ান, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে শিক্ষিত।   

এরপর প্রধানমন্ত্রীর জন্য আর কোন রাস্তা খোলা থাকার কথা কী? 

দুর্নীতির ঘুর্ণিঝড়ে আক্রান্ত বাংলাদেশের সকল দায় এসে পড়লো কেন্দ্রের উপর।  অভিনব এক রাজনীতি সেখানে প্রবেশ করে সৃষ্ট ঘুর্ণিঝড় ধ্বংসের কাজে সহায়তা দুরে থাক, বলাচলে তাদের ধরে রাখতেই কেন্দ্রকে বলছে স্থানচ্যুত হতে। তাদের চলাচল, তাদের ষঢ়যন্ত্র, তাদের গতিপথ বলে দেয় একটি নির্ভরশীল বাংলাদেশ, একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ তাদের কাম্য নয়।  তারা ক্রিতদাসের যে চরিত্র জন্মের সময় লব্ধ করেছিলো আজো সেখানেই অবস্থান করছে, আজও কৃতদাসের রক্ত মুছে ফেলতে পারেনি।  

এখানে জিকে শামীম বা সম্রাট কোন বিষয় নয়। জিকে বা সম্রাট তাদের অবৈধ রাস্তা দিয়ে কোন ক্ষতি বাংলাদেশকে করতে পারেনি, পারবেও না। এক কথায় তারা উপকারই করেছে বাংলাদেশকে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে- ঘুর্ণিঝড়ের আসল সরূপ, দেখিয়ে দিয়েছে কারা তারা, দেখিয়ে দিয়েছে কতটা ভয়ঙ্কর তারা। তাদের হাতে বাংলাদেশ আসলে কতটা নিরাপদ।  

তাই জিকে শামিম বা সম্রাটকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত।  মাছের আদার হিসাবে তারা দেখিয়ে দিয়েছে কারা কারা অর্থের কাছে বিক্রি হয়।  

শেখ হাসিনা এখন শিকারী হয়ে বিষাক্ত তির তাক করেছে সেই ঘুর্ণিঝড়ের দিকে, সেই গতিশক্তির দিকে। আর যায় কোথায় কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা ছুটছে।  দ্রুত মানবের মতো গতি তাদের।  

কিন্তু এরপরেই যে কথা থাকে, তারও একটা ব্যাখ্যা দেয়া দরকার।  

কেন্দ্র থেকে বিচ্যুত কোন ঘূর্ণায়মান শক্তি এলোপাতাড়ি ঘুরতে থাকে, ঘুরতে ঘুরতে পথের মধ্যে পাওয়া অন্যকোনো  বিচ্ছিন্ন শক্তিকে পেলেই একত্রে মিলিত হয়।  কারণ উভয়ের মধ্যে থাকে একটি ম্যাগনেটিক ফিল্ড। যা অতি দ্রুত আরো বৃহৎ একটি বলয় তৈরি করে। যা অত্যান্ত ভয়ংকর ও শক্তিশালী।  যে কোন স্থানে আছড়ে পড়লেই সেখানে ধ্বংস অনিবার্য। 

আর তাই বিজ্ঞান সব সময় চলমান ফ্রিকোয়েন্সী কাজে লাগাতে স্থাপন করে শক্তিশালী এন্টিনা। যা এন্টিনাতে আসলেই তাদের শক্তি খর্ব হয়ে যায়।  

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চই উপলব্ধি করবেন আমি কি বলেছি।  তিনি তার প্রজ্ঞা এবং দক্ষতা দিয়ে কেন্দ্র থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া সৃষ্ট দুর্নীতিবাজকে নির্দিষ্ট এন্টিনা দিয়ে ধরবেন এবং পরের ধাপে যেটা করনিয় করবেন। 

বাংলাদেশ থাকুক সুজলা ও সুফলা এটাই কামনা করি।।