সম্পাদকীয়

দেশকে বাঁচাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশে এসে দাঁড়াই

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

মাথায় পচন ধরলে অবশিষ্ট আর কিছুই থাকে না। পচন ধরেছিলো অবশ্যই, তবে সেটা মাথা থেকে নয়। গলা থেকে নিচের সমস্ত অংশেই পচন ধরেছিলো এখনো তাই আছে। অপারেশন চলছে শরীরে। 

কোথাও অপারেশন, কোথাও থেরাপি, কোথাও প্লাস্টার এমন সব চিকিৎসায় রয়েছে বাংলাদেশ। 

মাথা যখন পচন মুক্ত আছে মৃত্যু হবে না এটা নিশ্চিত। তবে ভুগতে হবে এতে সন্দেহ নেই।  

এরমাঝে আবার রয়েছে বাইরের দুষিত বাতাস। নিমগাছ গুলো ধ্বংস হয়েছে অনেক আগেই, তাই আর বিশুদ্ধ বাতাস তেমন একটা পাওয়া যায় না আজকাল।  

প্রশ্ন অনেক থাকতে পারে, যার কোন উত্তর মেলানো খুব মুশকিল।  তাই কেউ প্রশ্ন করবেন না। একবার শুধু ভাবুন - আপনার ৫ সন্তান যদি বিপদগামী হয় তখন তাদের শুদ্ধ করতে আপনি কি সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন? নাকি ৫ জনের জন্য ৫ রকম পথ অবলম্বন করেন?  

বিষয়টি মাথায় রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকান।  তার সদিচ্ছার কোন কমতি নেই। ইচ্ছার মধ্যে গলদ নেই, চাহিদার মধ্যে পক্ষপাতিত্ব নেই। 

অথচ চারপাশ থেকে প্রতিটি পদক্ষেপে তাকে যতনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে গুটি সাজাতে হচ্ছে তারচেয়ে বেশি বাঁধা টপকাতে হচ্ছে।  

এরকম প্রতিকূল পরিবেশে একজন মানুষ কতটা শক্তভাবে নিজের অবস্থান ধরে রাখবে বা রাখতে পারবে সেটাই বড় প্রশ্ন।  তিনি এমন একটি কাজে হাত দিয়েছে, যেখানে দল মত নির্বিশেষে তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসা ছিলো সবচেয়ে জরুরি।  অথচ তিনি সেখানে পাচ্ছেন বিরোধিতা।  

আমরা বিদেশের দুর্নীতি ও তার প্রতিকার দেখে চিৎকার করি, আমরা কেন পারিনা বলে। আজ যখন আমরা পারার জন্য রাস্তায় নেমেছি, তখন কেন এতো বিরোধিতা, এতো কথা? এতো পরিকল্পনা?  

সারাদেশে বিরোধিতা দেখে এটা পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে, আমরা ক্ষমতার জন্য বিরোধিতা করি আর তাই দুর্নীতি দমনের মতো বিষয়কেও রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করে সরকার পতনের জন্য স্লোগান দেই। 

আসুন এসব পরিহার করে প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করি। অন্তত তাকে পরিক্ষা করতেতো কোন অপরাধ নেই।  তিনি যদি সত্যি দুর্নীতি মুক্ত দেশ উপহার দিতে পারেন, তাহলেতো বাংলাদেশ বেঁচে গেলো।  

তাই বিরোধী বলেই বিরোধিতা নয়, পছন্দ করিনা বলেই বিরোধিতা নয়, ক্ষমতা চাই বলে বিরোধিতা নয়। 

বাংলাদেশকে বাঁচাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশে এসে দাঁড়াই এবং তার সাফল্য কামনা করি। তাহলে হয়তো সম্পূর্ণ শরীর সুস্থ হয়ে যাবে।  

আমাদের সন্তানকে রেখে যেতে পারবো সুন্দর একটি বাংলাদেশে।


দ্বাদশ চক্রের জাল বন্ধ করুন অন্যথায় দুর্নীতি বিরোধি অভিযান হবে বুমেরাং

একটি হত্যা হলো, নিশ্চিত ভাবে সেটা বিচার পাওয়ার দাবি রাখে। যদি বিচার না পায় তাহলে প্রজন্ম মুখ ফিরিয়ে নেয়। তৈরি হয় একটি অথর্ব জাতি। যার দায় অবশ্যই চলমান সরকারের।

যারা হত্যা করলো, নিশ্চিত ভাবে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত কার্যকর প্রত্যাশা করে সমগ্র জাতি। যদি সেটা না পায় তখন সমগ্র জাতি সরকার এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা নিয়ে আসে। এবং আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়। কোন ভয়ে সেই স্রোত সামলানো যায়না। এরজন্য সকল দায় সরকারের সেটা অস্বীকার করার মতো নয়। 

অর্থাৎ যাইকিছু হোক দায় সরকারের, সেটা কোন অজুহাতে এদিক ওদিক করার কোন উপায় নেই বা থাকেনা।

কিন্তু এখানেইতো শেষ নয়, সরকার তার দায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হাতে নেবে এবং সবকিছুই করবে। তাইবলে এখানেইতো সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার কথা নয়। এর আগেপাছে অনেক কিছুই থাকে যা উক্ত সকল বিষয়ের নিয়ন্ত্রক, প্রস্তুতকারক, পৃষ্ঠপোষক হয়ে মাঠে থাকে। সেসকল বিষয় অন্তর্নিহিত বিষয় হয়ে চলমান থাকে বলেই সাধারণ মানুষ সেটা নিয়ে ভাবে না, বিশ্লেষণ করে না, তার প্রয়োজন মনে করে না। 

উপরের অংশে যেটা দেখে সেটা নিয়েই মাঠে উপস্থিত হয়। চারদিকে একটা হৈ চৈ দৃশ্যমান হয়। 

যুগে যুগে সেই সকল অন্তর্নিহিত বিষয়ের নিয়ন্ত্রক, পৃষ্ঠপোষক, প্রস্তুতকারক সাধারণ জনগনের মধ্যে উদিয়মান চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

আবরারকে হত্যা করা হলো, কিন্তু কেন আবরার হত্যা হলো? সাধারণ মানুষ দেখলো আবরারকে আওয়ামিলীগের ছাত্রলীগ বিভৎস ভাবে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করলো। সাধারণ মানুষ এতটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তারা এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে সকল প্রকার দাবিদাওয়া পেশ করছে সরকারের কাছে। যার অন্যতম - 

১। আবরার হত্যার বিচার চাই। 

২। বিষয়টি নিয়ে আর একটা শ্রেনী আওয়ামিলীগের ছাত্রলীগের উপর ক্ষিপ্ত থাকায় ছাত্রলীগের সমাপ্তি চায় বলে দাবি উত্থাপন করলো। অবশ্য এই দাবির পিছনে ছাত্রলীগের পূর্বের কর্মধারা দায়ী বলেই বিবেচিত। 

৩। ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে হবে বলে আরও একটি দাবি উঠলো বিষয়গুলোর নিস্পত্তির জন্য।

উক্ত ৩ টি বিষয়কে পুঁজি করে তারপরেই মাঠে নেমে এলো সাধারণ মানুষের উপরের স্তর। তারা দাবি তুললো -

১। সরকার তার স্বৈরাচারী মনোভাব বজায় রেখেছে নির্দিষ্ট দেশের স্বার্থ নিয়ে। 

২। সরকার দেশ বিরোধী কাজ করছে। 

৩। সরকার দেশকে বিক্রি করে দিচ্ছে।

উক্ত এই ৩ টি বিষয়ে শুধুমাত্র অভিযোগ আছে, কিন্তু এরচেয়ে বাড়তি কিছুই নেই।

আসুন এবার সাধারন মানুষ এবং তার উপরের স্তর বাদ দিয়ে কাদের মাঠে দেখতে পাই - এই পর্যায়ে মাঠে নেমে এলো সেই তথাকথিত রাজনৈতিক দল ও সেই সকল অন্তর্নিহিত বিষয়ের মালিকগণ। তাদের ১ দফা ১ দাবি।

১। সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে, সরকারের পদত্যাগ চাই। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমরা আবরার হত্যার বিচার করবো।

আমি এখানে ৩ টি ধাপ তুলে ধরেছি, আপনারাকি এর মধ্যে কোন ক্রস গেম দেখতে পাচ্ছেন? আপনারা না পেলেও আমি পেয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে নামলেন, কিভাবে কোথায় আঘাত করেছে সেটা আর লেখার দরকার আছে বলে মনে করিনা। অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে প্রধানমন্ত্রী এবার নিশ্চিতভাবে সঠিক স্থানে আঘাত করেছেন এটা প্রমাণিত। এবং এটাও নিশ্চিত প্রধানমন্ত্রী এবার কোন আইওয়াশ করছেন না সেটা বিশ্বাসযোগ্য। 

ঠিক এই কারণেই প্রথম মাঠে এলেন তারেক রহমান। তিনি বুঝতে পারলেন বিদেশে বসে বাংলাদেশে আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যবসা বন্ধ হতে চলেছে, সংবাদ পত্রে এটাও এসেছে তিনি অর্থে কষ্টে পতিত হয়েছে। তাছাড়া তিনি জানতেন বিএনপি সহ সরকারবিরোধী বেশ কিছু মাথাধরা মানুষ বাংলাদেশের আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যবসার সাথে জড়িত, এবং তারাই তার প্রধান অস্ত্র। 

শেখ হাসিনা নিজের ঘর পরিস্কার করে অতিদ্রুত বাইরের দিকে নজর দেবেন সেটা তারেক রহমানের কাছে পরিস্কার হয়ে যায়। আর তাই এই মুহুর্তে দেশের মধ্যে যে কোন অস্থিরতা তৈরিকরা তারজন্য অপরিহার্য হয়ে ওঠে। 

এরমাঝেই প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যান। সেখানে কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

তারেক সুযোগ পেয়ে যায়। লবিষ্টের মাধ্যমে তারেকের টাকায় নির্মিত বিবিসি বাংলা প্রথম সংবাদ প্রকাশ করে - "জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যে বাংলাদেশ এই প্রথমবারের মতো তাদের প্রাকৃতিক গ্যাস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রফতানি করবে। এ বিষয়ে দিল্লীতে দুই দেশের পক্ষ থেকে যৌথ ঘোষণার কথাও সংবাদে উল্লেখ করা হয়। 

বিষয়টি ভুল হয়েছে বুঝতে পেরে রবিবার রাতে বিবিসি সংশোধনী দেয়। তবে এর আগেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

আবরার বিবিসি বাংলার ঐ ভুল তথ্যই নিজের ওয়ালে তুলে ধরে। ফলাফলে কি হয়েছে সেটা সকলের জানা। 

এই ক্ষেত্রে প্রশ্ন থাকতেই পারে ছাত্রলীগ কেন এই কারনে একজনকে হত্যা করবে? হ্যা অবশ্যই তাই। যাই কিছু লিখুক হত্যা কেন করবে? কিন্তু এই কেন এর মধ্যে প্রবেশ করে আছে সেই অন্তর্নিহিত বিষয়ের প্রতিষ্ঠাতা, পৃষ্ঠপোষক, এবং নির্দেশক। এই বিষয়টি আলাদা একটি বিষয় তাই আপাতত লিখছি না।

তাহলে আবরারকে হত্যা করা হলো। তৈরি হলো একটা ইস্যু। এরপরেই লক্ষ করুন উপরে উল্লেখিত ৩ টি অধ্যায়। 

বর্তমানে সবকিছু ছাপিয়ে তৈরি হলো ৪র্থ অধ্যায় ও ইস্যু। যার সাথে যুক্ত সাধারণ কিছু মানুষ, সাধারণ মানুষের উপরের অধ্যায়, এবং অন্তর্নিহিত বিষয়ের জনকের একাংশ। তাদের সকলের দাবি - আবরার হত্যার বিচার চাই, দেশ বিরোধী চুক্তি( পরিকল্পিত বাক্য) বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না, সরকারের পদত্যাগ চাই।

উল্লেখিত ৩ টি অধ্যায় একত্রিত হয়ে জন্ম দিয়েছে ৪র্থ অধ্যায়। এখন প্রশ্ন কেন জন্ম হলো এখন এই ৪র্থ অধ্যায়? তার একমাত্র কারণ আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাসিনা এবার বাংলাদেশকে পরিস্কার করতে ঝাড়ু হাতে নিয়েছে। সেই ঝাড়ু নিজের ঘর থেকে শুরু করে নামবে বাইরে। আর তাই বর্তমান ঝড়ের সাথে যুক্ত হয়েছে আওয়ামিলীগের মধ্যে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতিবাজ এতে কোন সন্দেহ নেই। সেই দুর্নীতি বিরোধী অভিযান থামাতেই আবরারকে করা হলো বলির পাঠা।

এবার আসুন দেখি বিভিন্ন মিডিয়া এবং বিশ্লেষকরা কাদের সেই অঅন্তর্নিহিত বিষয়ের পৃষ্ঠপোষক, প্রস্তুতকারক, এবং নির্দেশক মনে করে। 

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান এতটাই সুদৃঢ় যে, তাদের এখন সরকারের পতন ছাড়া আর কোন কিছুই চাওয়ার নেই। সেই চাওয়া পূরণে শুধু আবরার নয়, হয়তো মরতে হবে আরো অনেককেই।

আন্তর্জাতিক অঙ্গন সহ দেশের মধ্যে সরকারকে অকার্যকর প্রমানে এবং উস্কানিমূলক বক্তব্যে দেশকে রক্তাক্ত করতে যাদের নাম বিভিন্ন ভাবে ভিবিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হচ্ছে ।

১। তারেক রহমান 

২। ড. মুহাম্মদ ইউনূস

৩ ।ড. কামাল হোসেন

৪। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

৫। সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার

৬। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

৭। ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন

৮। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

৯। ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং

১০। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

১১। আসিফ নজরুল 

১২। আইনজীবী তুহিন মালিক


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই সঙ্ঘবদ্ধ চক্র জাল যদি বন্ধ না করা যায়, তাহলে একদিকে যেমন আবরারদের হত্যা করা হবে, অন্যদিকে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান হবে কণ্টকিত। আপনার নিরাপত্তা ঝুঁকিতো থাকবেই। 

আমরা সাধারণ মানুষ চাই, আপনি যে কোন মূল্যে স্বার্থক হন, মুক্ত হোক বাংলাদেশ দুর্নীতি নামক বিষাক্ত সাপের বিষ হতে। আল্লাহ আপনার সহায় হোন।