সম্পাদকীয়

যেখানে অনিয়ম সেখানেই অভিযানঃ প্রধানমন্ত্রী

স্নায়ু যুদ্ধ ও মিডিয়া যুদ্ধে থরথর করে কাঁপছে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

কি চাই আমরা? আসলে চাওয়ার বিষয় নির্ধারণ করাই এখন কষ্টসাধ্য।  

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পূর্বঘোষিত অনুসারে যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন তখন অতি দ্রুত সময়ের পট পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। 

অথচ দুইদিন আগেও দুর্নীতি প্রশ্নে শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়া করে প্রায় সকলেই। 

আন অফিসিয়াল বিরোধী দল, বাম, ধর্মভিত্তিক দল, দল করেনা অথচ দলের পা চাটা গোলামের দল, পাকিস্তানি দেশি বিদেশি এজেন্ট এক নাগাড়ে দুর্নীতি দুর্নীতি করতে করতে গলা শুকিয়ে ফেলেছিলো। 

প্রধানমন্ত্রী ঝাঁপিয়ে পড়তেই সাথে সাথে ভোল পালটে ফেললো সেই বাহীনি। তারা শেখ হাসিনার কৌশল ধরতেই পারেনি, কল্পনাও করতে পারেনি নিজের ঘরে সে এন্টিভাইরাস প্রয়োগ করবেন।  তারা ভেবেছিলো তিনি তার দলের নয় এমন দিকেই অভিযান শুরু করবে। 

বিষয়টি আরো দ্বিগুণ গতিতে আঘাত করেছে শেখ হাসিনার নিজের দলের মধ্যেই।  ভুত দেখার মতো চমকে উঠেছে সব।  শুরু হয়ে গেছে এলোপাতাড়ি দৌড়।  

মুজিব কোট শরিরে, মুখে শেখ হাসিনা শেখ হাসিনা বলতে বলতে যারা ফ্যানা তুলে ফেলেছিলো অর্থাৎ ময়ুর সাজার চেষ্টা করেছিলো তাদের ঘুম হারাম হয়েগেলো।  

অতিদ্রুত পট পরিবর্তন করতে গিয়ে আন অফিশিয়াল বিরোধী দল এবং দলিয় বিরোধী দল মিলে মিশে একাকার হয়ে নেমে গেলো স্নায়ু যুদ্ধে। নেমে গেলো মিডিয়া যুদ্ধে।  কিন্তু তারা দ্রুত পট পরিবর্তন করতে গিয়ে একটার পর একটা ভুলের মধ্যে প্রবেশ করে বসলো।  

সর্বশেষ ভুলটি করে বসলো, অহেতুক একটি ছাত্রকে হত্যা করে।  

১। বিষয়টিকে জনগনের নিকট অতি আবেগীয় করতে গিয়ে তাকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যার পথ বেছে নিলো। 

২। সেটাকে আরো বেশি বিস্ফোরক করতে গিয়ে বেছে নিলো বুয়েট ক্যাম্পাস। 

৩। যারা হত্যা করলো তাদের উৎসাহ ও সাহসের পরিমান এতোটাই দিয়েছিলো যে, হত্যার পরে ও আগে হত্যাকারীদের মধ্যে চিন্তার লেশ মাত্র দেখা যায়নি।  এমনকি তারা হত্যার পরে বিদেশি ফুটবল খেলা দেখছিলো বলে সংবাদ পাওয়া গেছে।  

৪। হত্যার পরে হত্যাকারীদের মোটিভ বলে দিয়েছে তারা নিজেদের ইচ্ছায় নয়, কোন এক শক্তিশালী মাধ্যমের নির্দেশিত হয়েই কাজটি করেছে। নিজেদের ইচ্ছায় হত্যা হলে, হত্যার পরেই তাদের স্থান ত্যাগ করে পালানোর চেষ্টা করতে দেখা যেতো।  

বলতে দ্বিধা নেই, এই ভুল গুলো হবে বলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অপেক্ষায় ছিলেন, এখন আরো সুবিধা হয়েছে গলা চেপে ধরতে। 

এই প্রথম হয়তো মানুষ হত্যায় যৌথবাহিনি একসাথে কাজ করেছে।  তার প্রমান মেলে, যখন দেখাযায় ছাত্রছাত্রী দাবি করার আগেই সরকার নিজের ইচ্ছায় অধিকাংশ আসামি গ্রেফতার করেছে, অথচ পরবর্তীতে সকল দাবি নীতিগত ভাবে মেনে নেয়ার পরেও ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ প্রদর্শন, ভিসির সাথে অছাত্র সুলভ আচরণ ইত্যাদির বহিঃপ্রকাশ। 

আজ মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে, তারেক জিয়া মাঠে নেমেছে সরকারের বিপক্ষে। 

তারেক জিয়া ঘরের মধ্যে ছিলো কবে সেটাই বড় প্রশ্ন।  কিন্তু এই সময়ে এসে তারেক রহমানের মাঠে নামার সংবাদ এবং আন অফিশিয়াল বিরোধীদের কথা বার্তা, আওয়ামিলীগের দলের মধ্যেই উল্টাপাল্টা বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া,  বিদেশে বসে বাঙালিদের সরকার বিরোধি উস্কানি, ভারতের সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা স্বাক্ষর নিয়ে অজ্ঞতা অথচ আবেগীয় মিডিয়া যুদ্ধ এতো দ্রুতগতিতে সবকিছু গুলিয়ে দিচ্ছে যে, চির-চাওয়া সেই দুর্নীতি বিরোধী অভিযান বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।  

শেখ হাসিনা যখন কার্যকর ভাবে দুর্নীতির মাঠে, তখন কেন এতোদিকে একসাথে নাড়া পড়ছে?  তারেক রহমান কেন ছটফট করছে? আন অফিসিয়াল বিরোধী দল এই সময়ে কেন সরকার পরিবর্তনের কথা বলছে, শেখ হাসিনার দলের মানুষ কেন এলোপাতাড়ি দৌড়াচ্ছে?  সমস্যাটা কোথায়?  

এখন কেন আন অফিসিয়াল বিরোধী দল ও সরকারি দলের অনেকের চাহিদা এক রকম?  এখন কেন আবরারকে হত্যা করা হলো? এখন কেন টাকার বস্তা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি হচ্ছে?  

এখন কেন আচমকাই মান্না সাহেব, জাফর উল্লাহ সাহেব, ড. কামাল সাহেব, রব সাহেব ইত্যাদিরা দেখাদিয়েছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তির্যক মন্তব্য করছে, ব্যাঙ্গ করছে? আবার আচমকাই কেন পর্দার আড়ালে চলে যাচ্ছে?  

আজ যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন কেউ দেখে থাকেন, তার ভাষা, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ যদি কেউ বুঝে থাকেন তাহলে অপেক্ষা করুন। 

কম্পনের দেখেছেন কি? প্রশ্ন আর দুই চারটা করেই দেখুন, দেখবেন কম্পন কাকে বলে।