সম্পাদকীয়

কমলাপুরের ৫ একর আয়তনের হাসপাতাল যখন জুরাসিক পার্কের ভৌতিকভূমি

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ |

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

আমাদের একটি রেলওয়ে মন্ত্রনালয় আছে, আছে সেখানে একজন রেলওয়ে মন্ত্রী, আছে দাপুটে সব সচিব, আছে ডিজিটাল রেল ব্যবস্থা, যদিও ডিজিটাল বলতে অনলাইনে টিকিট বুকিং ও বিক্রয়টাকেই শুধু দেখতে পাই আমরা। তাও মাঝে মাঝেই বিগড়ে গিয়ে দেউলিয়া ঘোষণা করে। তবে রেলওয়ে সিস্টেম ডিজিটাল যতটা না হয়েছে তার চেয়ে চুরি ব্যবস্থা ডিজিটাল হয়েছে অধিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে। 

যাইহোক তবুওতো আছে তাইনা?   

সেই সাথে আছে আমাদের শক্তিশালী স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। সেখানেও আছে স্বাস্থ্য মন্ত্রী যিনি বাংলাদেশকে ডেঙ্গুর মধ্যে রেখে ফ্যামিলি টুরে বিদেশে গমন করে থাকেন। আছে শক্তিশালী সচিব মহোদয়, আছে তাদের শক্তিশালী ব্যাকাপ। 

চলুন একটু রাজধানীর কমলাপুর হতে ঘুরে আসি। হলিউডের জুরাসিক পার্ক যদি কেউ না দেখে থাকেন সেটা দেখা হয়ে যাবে সরজমিনে।  ডাইনোসর ও অদ্ভুত সব জন্তু জানোয়ারের আক্রমনে জুরাসিক পার্কের অনেক স্থানই বিরানভূমি বা ভৌতিক ভূমিতে রূপ নিয়েছে, আমাদের রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে হাসপাতাল অনেকটা সেরকমই।   

৫ একর জমির উপর দাঁড়িয়ে থাকা রেলওয়ে হাসপাতাল জন্মনিয়েছিলো ১৯৮৬ সালে। ৭৫ সজ্জার এই হাসপাতালে কোন রুগি দেখা যায়না। সেখানে দেখা যায় ডাক্তার নার্স সহ ১৩৩ জন মানুষকে। যারা বলা চলে সেই শুরু থেকে কোন রকম সেবা না দিয়ে বেতন ভাতা ঠিক বুঝে নিচ্ছেন। সরকারি টাকা বলে কথা তাইনা?  

সম্পূর্ণ হাসপাতালের প্রতিটি কক্ষ তালাবদ্ধ কবে থেকে সেটার হিসাব খুঁজতে গিয়ে উত্তর বেরিয়ে আসে "প্রায় শুরু থেকে"। বেশ মজার না? 

আপনারা যদি কেউ যান সেখানে দেখতে পাবেন প্রতিটা দরজা তালাবদ্ধ এবং জং ধরে প্রাগৈতিহাসিক সময়কে ঘোষণা দিয়ে চলেছে।  

৫ একর জমির উপর দাঁড়িয়ে থাকা হাসপাতালে ভুলেও একা একা ওঠার চেষ্টা করবেন না, তাহলে হয়তো ভয় পেয়ে চলে যেতে পারেন পরপারে। ঠিক যেন সেই জুরাসিক পার্কের ভয়াল জঙ্গল।  যেখানে প্রতি পদে পদে রয়েছে মৃত্যুর হাতছানি।  

দিনের আলোতেই হাসপাতালের এই চিত্র রাতের চিত্র কিভাবে দেখাবে সেটা বর্তমান বাংলাদেশের চিত্র অনুসারে অনুমান করলেই বোঝা যায়। কোন কোন কালো অধ্যায় সেখানে জন্ম নেয় সেটা আল্লাই জানে। 

ডেঙ্গু সহ বিভিন্ন রোগে যখন ঢাকার অন্যন্য হাসপাতালে রুগী শুয়ে থাকে মেঝেতে, সেখানে ঢাকার মধ্যেই কমলাপুরের এতো সুন্দর আধুনিক হাসপাতাল নিশ্চই দৃষ্টি শক্তিকে বৃদ্ধি করে দেয়, আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের উপরে ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের উপরে।  

বলার কিছুই নেই, সন্দেহ হয় এই ভেবে যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো এই হাসপাতালের ইতিহাস জানেই না, তাকে জানানোই হয়নি কোনদিন।  

কে না জানে, তার চোখে যতক্ষণ কালো কাপড় বেঁধে রাখা যাবে ততোক্ষণই নিজেদের তহবিল হবে উর্বর।  

জানিনা, কি হবে, আর কি হতে চলেছে। এটাই কি বাংলাদেশ, যার শীর্ষে বসে আছে এমন কিছু ব্যক্তি যাদের চোখ থাকতেও অন্ধ, অথবা ইচ্ছাকৃত স্বার্থের খেলায় তারা ব্যবহার করে বাংলাদেশকেই।  এর চেয়ে লজ্জার আর কি হতে পারে?