সম্পাদকীয়

সড়ক মহাসড়কের লেনগুলির ইজারা আসলে কে দেয়? ইজারা দেয়া অবৈধ হলে কেন সেটা সমূলে ধ্বংস নয়?

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

সড়ক ও জনপদ, সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ, রাজনৈতিক দল এই ৩ বিভাগের সমন্বিত অক্লান্ত পরিশ্রমে, অথবা একক ভাবে গড়ে উঠেছে এই বিশাল সড়ক ইজারা ব্যবসা। 

ইন ও আউট ৪ লেনের রাস্তা ইজারার ধাক্কায় বহুকষ্টে ২ লেন হয়ে আছে। গাড়ি পার্কিং, চলন্ত গাড়ি, বাস ট্রাকের স্ট্যান্ড, মানুষ, মুদি দোকান থেকে শুরু করে সকল প্রকার ছিনতাইকারী, গ্যারেজ, পুরনো লোহা, টিন, কাঠের দোকান, স্থানীয় লিডারদের ইজিবাইক থেকে শুরু করে রিক্সা,ভ্যান, কিছু কিছু পুলিশ কর্মকর্তাদের সুফিয়া পরিবহন ইত্যাদিতে সেকি এক অপরূপ ও বিশ্ময়কর সৌন্দর্য যুক্ত মানবিক সুবিধা বাংলাদেশে।  

এমন সুবিধায় ৪ লেন হয়েছে ২ লেন, ৬ লেন হয়েছে ২.৫ লেন,  ১ লেন হয়েছে পায়ে চলার মেঠোপথ।  

উন্নয়নের রোলমডেলে আমরা অর্থাৎ বাংলাদেশিগণ হয়েছি এক অনন্য উদাহরণ। কেউ কিছু বলবে না আমাদের, কেউ কিছু বলার ক্ষমতাও রাখে না। কারণ আমরা কেউ পুলিশ, আমরা কেউ আওয়ামিলীগ করি।  বললেই সেই চলে যাবে অমৃত ধোলাই কবলে, যদি বেঁচে থাকে তাহলে চৌদ্দ শিকের প্রকষ্টে।  

দুর্দান্ত ও অনেকটা বিশ্বখ্যাত প্রশাসনিক ব্যবসায় বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থা বিশ্বরেকর্ড গড়ার পথে। সম্পূর্ণ সরকারী টাকায় নির্মিত সড়ক ব্যবস্থায় প্রশাসনিক সহায়তায় এমন সিটি সেন্টার, সিটি মল, সড়ক ও জনপদের এজেন্ট ব্যবসা, সিটি কর্পোরেশন এর নিভৃত পল্লি, পুলিশের মুদি দোকান, রাজনৈতিক দলের পুরনো মালের আড়ত ও দলীয় ক্যাডারদের ক্লাব, খাদ্য মন্ত্রনালয়ের ইটেল হোটেল, হোটেল আল সালাদিয়া পৃথিবীর আর কোন দেশ দেখাতে পারবে বলে মনে হয় না।  

আমরা বিশ্বকে দেখাতে সমর্থ হয়েছি, আমরা সবাই কাজ করি। এক অভূতপূর্ব কাজ মুখি জাতি হিসাবে আমাদের সুনাম কুড়াতে সড়ক ব্যবস্থাই আমাদের একমাত্র মাধ্যম।  

এটাই কি হবার কথা ছিলো? নাকি লোভি, দুর্নীতিগ্রস্থ, ঘুষখোর, সুদখোর, হিংস্র, অবৈধ আয়ে পটু এমন জাতিকে ডাণ্ডার আগায় রেখে মানুষ করা উচিত ছিলো? 

কিন্তু কে মারবে সেই ডান্ডা? অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সাথে সাথে কে ঘটাবে মানবিক উন্নতি? কে ঘটাবে মানুষিক উন্নতি,  কে বাঁধবে বিড়ালের গলায় ঘন্টা? 

বিড়াল যে নিজেই দুধের দিকে তাকিয়ে আছে রক্তপিপাসু হায়েনার মতো।