সম্পাদকীয়

ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীঃ কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি প্রদানের জন্য

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে। এক চরম হতাশা থেকে আজকেই লিখেছিলাম পশু চামড়া নিয়ে সৃষ্ট ভয়ংকর সিন্ডিকেট নিয়ে। যারা বাংলাদেশের দরিদ্র/অনাথের পেটে লাথি মেরে নিজেদের সম্রাজ্য কায়েম করতে চায়। 

কিন্তু তার ৩ ঘন্টা প্রায় সময় পার হবার সাথে সাথে বানিজ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক ঘোষণা জেনে বুঝতে পারলাম যে, আমাদের হতাশা দূর করার জন্য আপনি দাঁড়িয়ে আছেন সর্বদা। আপনি অতি দ্রুতগতিতে আদেশ দিয়েছেন কাঁচা চামড়া রপ্তানির জন্য। শুধু তাই নয়, জেলায় জেলায় অর্থাৎ সারা দেশে কাঁচা চামড়া সঠিক পক্রিয়ায় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে বলেছেন। আমরা বিশ্বাস করি আপনার নির্দেশ তারা অমান্য করতে পারবে না। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা চাই আমাদের দেশ সামনে এগিয়ে যাক আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে। কিন্তু সারাদেশে একটি সিন্ডিকেট কোরবানি দেয়া পশু চামড়ার ক্রয়মূল্য এমন দুর্বল অবস্থায় নিয়ে এসে চামড়ার বাজার নষ্ট করার গোপন ষড়যন্ত্র তৈরি করেছিলো বলেই মনে করছেন সারাদেশের মানুষ। শুধু চামড়া নয় প্রায় প্রতিটি স্থানে সক্রিয় এই ধরনের হাজার হাজার সিন্ডিকেট। যারা আপনাকে সামনে রাখবে ঢাল হিসাবে, অন্যদিকে বাংলাদেশকে করে তুলবে অস্থিতিশীল। 

আজ বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের ঘোষণার সাথে সাথে আরো একটি সংবাদ দৃশ্যমান হয়েছে। আপনার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মোঃ শাহীন আহমেদ বলেছেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমুতির সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তা হবে হঠকারি সিদ্ধান্ত, এতে করে চামড়া শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

হয়তো বলার অপেক্ষা রাখেনা সিন্ডিকেটের জন্ম কোথা থেকে এবং কারা এর নিয়ন্ত্রক। জনাব শাহীন আহমেদ কোন চামড়া শিল্প বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে? কাদের শিল্প বাঁচানোর জন্য আপনার এরকম জনস্বার্থে ঘোষিত বিষয়কে নেতিবাচক হিসাবে দেখছেন?  

সাধারণ/এতিমদের গায়ের চামড়া কি তার নিকট পশুর চামড়া হতে কম দামি? তিনি কি চেয়েছিলেন? বাংলাদেশের মানুষ চামড়ার দাম সঠিক ভাবে না পেয়ে ছুটে যাক কালোবাজারি পথে? তিনি কি চেয়েছিলেনযে, বেশি দামের আশায় বাংলাদেশের সকল পশুর চামড়া বর্ডার পার হয়ে চলে যাক অবৈধ ভাবে?  

বিনিময়ে তিনি সহ তার সাহায্যকারী নেটওয়ার্ক কি পেতেন সেই হিসাবের বিষয়টা তিনি পরিষ্কার করলে আরো সুবিধা হতো। 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলতে বাধ্য হচ্ছি একমাত্র আপনি দাঁড়িয়ে আছেন বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে। আপনার আসেপাশে সব দাঁড়িয়ে আছে আপনাকে ব্যবহার করে ফায়দা লোটার জন্য।  

যাইহোক, চামড়া শিল্প বেঁচে থাকুক নিজের গৌরবে। দেশের মানুষ নিজের ইচ্ছায় চামড়া নিয়ে দৌড়ে যাক আমাদের শিল্প কারখানায় সেই পরিবেশ তৈরিহোক। সাধারণ মানুষ নিজে ঠকে কখনও শিল্প বাঁচাতে যাবে না। নিজের পেট বাঁচাতে তারা হবে বিপদগামী অথবা ধ্বংসকারী।  

নিশ্চই আপনি এখন পরিষ্কার যে, সারাদেশে চামড়া শিল্প ধ্বংসে কে বা কারা কাজ করছে।  

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আল্লাহ সুস্থ রাখুন এই দেশের মানুষের জন্য। মানুষের দোয়াই আপনাকে সকল সময় ভালো রাখবে এটা বিশ্বাস করি। 

ঈদ মোবারক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।।


আরও পড়ুনঃ 

এমন বিভৎস চামড়া সিন্ডিকেটকে কি বলবেন প্রশাসন?

চামড়ার বাজারে ব্যাপক ধস

কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত সরকারের