সম্পাদকীয়

অনলাইন সাহিত্য চর্চার কালোদিক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

শুনেছি বুড়া হলে আর একবার যৌবন আসে। সংসার হতে প্রায় অবসর নেয়া ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী পুরুষ এখন ডিজিটাল যুগে কবি, সাহিত্যিকদের প্রমোট করার নামে ফান্ডের জমানো টাকা খরচ করে যাচ্ছেন। সংসারে এখন আর মন বসে না। নতুন কিছু সন্ধানে তাদের এই অর্থ ব্যয় আস্তে আস্তে জন্মদিচ্ছে নোংরা একটা পরিবেশ। 

সেটাকে লুফে নিতে, বাজপাখির মতে ছো মেরে ধরতে, গঙ্গা ফড়িং এর মতো কিছু উচ্চাভিলাষী নারী ঝাঁপিয়ে পড়ছে। সমাজ সেবার নামে এই বিষয়টি সাহিত্য জগতকে কুলষিত করে চলেছে প্রতিনিয়ত। যাদের ফেসবুক সুবিধা এনে দিয়েছে সমাবেশের একটি উৎকৃষ্ট মাধ্যম। 

ব্যাক্তি স্বাধীনতার নামে অর্থ আছে এমন একজন পুরুষকে নিয়ে একের অধিক নারীতে নারীতে কাড়াকাড়ি, ঝগড়া, মনমালিন্য ইত্যাদি এখন প্রকাশ্যে চলে আসছে।  

কি চাই আমরা?  সাহিত্যের পবিত্রতা নাকি অর্থ? কি চাই আমরা সমাজ সেবা নাকি সমাজ সেবার নামে কুলষিত সফর?  

এতো কোন কবুতর কিম্বা লাভ বার্ড বা বার্জিগর পাখীর সমাজ নয় যে, নিজেদের জোড়া বাঁধতে যে কোন মুহুর্তে সংসারের জোড়া ভেঙে অন্যের সাথে জোড়া বেঁধে যাবে। ডিম পাড়বে ও বংশ বিস্তার করবে? নষ্ট করবে সমাজ ব্যবস্থা।  

হ্যা সকলের চেষ্টায় একটি কঠিন কাজ সহজ হয়ে যায়।  যার অর্থ আছে সে অর্থ দেয়, যার অর্থ নেই সে শ্রম দেয়।  ফলাফলে একটি সুন্দর বিষয়ের অবতারণা হয়।  

কিন্তু এমন বিষয় প্রতিষ্ঠিত করতে যে নিয়ম নীতি অনুসরন করা দরকার বা মেন্ডটরি সেগুলো যদি অনুপস্থিত হয় তাহলে সেই কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ রয়েই যায়। সেখানে গড়ে ওঠে একটি সিন্ডিকেট এবং সমাজের জন্য অস্বস্তিকর একটি পরিবেশ। যা আইনকে সমস্যায় ফেলে, প্রশাসনকে সমস্যায় ফেলে।  

যে সকল বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা সাহায্যকারী সংস্থা কোন সাহায্য প্রদান করে তারা সেই সাহায্য নিজের ঘরের চাউল কিনে খাবার জন্য দেয় না বা নিজের প্রসাধনী বা ঘরভাড়া দিতে দেয়না। তাদের অর্থ সাহায্যের বিপরীতে কোন না কোন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চায় যে উন্নয়ন বা প্রডাক্টিভ কর্মকান্ডে নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে। এবং সেই স্বয়ংসম্পূর্ণতা দিয়ে গৃহীত অর্থ পরিশোধ করতে হয়।  তবে অনুদান হিসাবে যদি কোন অর্থ প্রাপ্তিঘটে তার পিছনেও যথেষ্ট উপযুক্ত কারণ প্রদর্শন করতে হয়। বাস্তবায়নের পরে তার ডাটাবেজ যারা অনুদান দিয়েছে তাদের নিকট দাখিল করতে হয়। শতভাগ নিশ্চিত হয়েই বলছি প্রত্যেক অনুদানের বিনিময়ে বুঝে দিতে হয় কোন না কোন স্বার্থ।  স্বার্থ ছাড়া কেউ কাউকে অনুদান দেবে না। সেটা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যেমন, ব্যক্তিগত ভাবেও তেমন।  

সাহিত্য জগতে এমন অনুদান আসছে যে সকল ধনাঢ্য ব্যক্তির নিকট থেকে তারা সেই অনুদান বিনা স্বার্থে প্রদান করেন না, করার কথাও না। যারা নিচ্ছেন তাদের নেই সেধরনের এজেন্ডা বা সরকারকে জবাবদিহিমূলক প্রস্তুতি। এর ফলে অনলাইন/অফ লাইন সাহিত্যজগতে গড়ে উঠছে একধরনের সিন্ডিকেট। গড়ে উঠেছে অসামাজিক কার্যক্রম। সংসারের পর সংসার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে গড়ে উঠছে দুরত্ব। 

যেখানে সাহিত্য হওয়ার কথা ছিলো সমাজের কুলষিত চিত্র বদলের হাতিয়ার সেখানে সেই সাহিত্য এখন অনলাইন ভিত্তিক হয়ে সমাজের চিত্র বদল করছে নগ্নতায়, উচ্চাভিলাষীতায়।  

সাহিত্য এখন যতটা না শক্তিশালী তার চেয়ে শক্তিশালী সাহিত্যিকের মডেল চরিত্র। যা এখন প্রবেশ করেছে বেডরুমেও। স্বাধীনতার নামে সমাজের দেয়াল ভাঙার কাজে বেশি নিয়োজিত একশ্রেণির কবি সাহিত্যিক। যারা সব সময় মুখিয়ে থাকে তাদেরকে জাল বদ্ধ করতে যাদের নিকট অর্থ আছে।  চোগলখোরি, গীবত, ধান্দাবাজি তাদের প্রধান হাতিয়ার। 

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, বিষয়টি আমলে নেবার। সমাজের একটি উঠতি বয়সের প্রজন্ম এই ধরনের নারী ও পুরুষ দ্বারা প্রতিনিয়ত বেড়ে উঠছে নগ্ন মানুষিকতা নিয়ে। ওরা সব দেখে বোঝে কিন্তু কিছুই বলতে পারেনা কারন ওদের মধ্যে একধরনের আবেগ কাজ করে।  সরকারের প্রতি অনুরোধ অনলাইন সাহিত্য চর্চার নামে গ্রুপ/পেজ গুলিকে নজরদারির মধ্যে রাখা তাহলে হয়তো প্রমান পেয়ে যাবেন সকলে।