সম্পাদকীয়

এমন বিভৎস চামড়া সিন্ডিকেটকে কি বলবেন প্রশাসন?

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

 সারাদেশে একচেটিয়া গরীব মানুষের পেটে লাথি মারলো চামড়া নিয়ে তৈরি সিন্ডিকেট।  কতটা খাদক হলে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়েও সিন্ডিকেট করতে পারে মানুষ। ঢাকার কিছু কিছু অংশে ১ লক্ষ থেকে ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকার গরুর চামড়া গড়ে বিক্রি হয়েছে ৪ শত থেকে ৫ শত টাকায়।  কিন্তু সারাদেশে গড়ে সকল কোরবানির গরুর চামড়া ১শত হতে ৩শত টাকায় বিক্রি হয়েছে। ছাগলের চামড়া গড়ে ২০ টাকা হতে ১ শত টাকা।  

প্রশাসন কি নিজে হাতে ধরে একশ্রেণির উচ্চ পর্যায়ের মুচিদের স্বার্থ রক্ষা করে সাধারণ মানুষ/এতিমদের পেটে লাথি মেরে আগামীতে চামড়া শিল্পের বিলুপ্তি চাইছেন?  প্রশাসন কেন বুঝতে পারছেন না, কোরবানি পশুর চামড়ার মালিক কিন্তু প্রশাসন নয়। পশু যার মালিক সে। অতএব চামড়ার মালিকও সে। তাহলে কেন তাদের বাধ্য করা হচ্ছে চামড়া মাটিতে পুতে দিতে?  

এই দেশেই ১ হাজার/১২শত টাকার নিচে কোরবানি পশুর চামড়া বিক্রি হয়নি কয়েক বছর আগেও।  

তাহলে কি প্রশাসন এখন ব্যাখ্যা দেবেন যে, মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে বলে চামড়ার দাম কমে গেছে?  এমন হাস্যকর কথা শুনলেও আমরা অবাক হবনা।  

এই বাংলাদেশের শিশুদের মুখ থেকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে অর্থাৎ বইয়ের পাতায় আজ আর দেখা যায় না, পাটকে সোনালী আঁশ বলা হয় লাইনটি। 

এখন চামড়া শিল্পকেও কি ধ্বংসের চক্রান্ত চলছে?  

প্রশাসনকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, চামড়া ফ্যাক্টরি কিন্তু চামড়া জন্ম দেয় না। চামড়া জন্ম দেয় দেশের সাধারণ মানুষ।  সেই সাধারণকে লাথি মেরে চামড়া শিল্প বাঁচিয়ে রাখা যায় না।  

এই সূত্র অনুধাবন করেই যদি কেউ বা কারা সেই চামড়ার জনকদের মনোবল ভেঙে দেয়া হয়, তাদেরকে বাধ্য করা হয় চামড়া ফ্যাক্টরি পর্যন্ত না পৌছিয়ে মাটিতে পুতে দিতে তাহলে চামড়া শিল্পের অবসান হবে।  

এই সাধারণ কথা যদি অতি সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমরা বুঝতে পারি তাহলে প্রশাসন বুঝবে না বা তারা বোঝে না সেটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।  

তাহলে প্রশাসনের কোন অংশ, দলের কোন অংশ এমন নিকৃষ্ট ও ধ্বংসাত্মক কাজের সাথে জড়িত সেটা খুঁজে বের করা জরুরি। যদি এই বিষয়ে প্রশাসন শিথিলতা দেখায় তাহলে বুঝতে হবে বাংলাদেশ হেরে যেতে বসেছে। 

কোরবানি একটি দিনের হিসাব। একদিনেই চামড়া শিল্পের উপর, সাধারণ/এতিমদের উপর এমন ন্যাক্কারজনক ভাবে আঘাত করতে পারে যারা তারা নর্দমার কিটের চেয়েও ঘৃণিত।  গন্ধ ছড়ায় ওরা সমাজের বুকে। অথচ এই চামড়ার টাকায় তাদের দেশ বিদেশে গড়ে ওঠে সম্পদের পাহাড়।  

একটা সময় মুচি বলে মানুষকে গালি দেয়া হতো। অর্থাৎ মুচিদের নিচু জাত মনে করা হতো। এখন আর সেটা মনে করা হয় না।  

তাহলে চামড়ার সাথে এমন নিচু কাজের জন্য আজ মুচি কে নয় সেটাই প্রশ্ন।  

আজ মনে হচ্ছে ক্যাবিনেটে বসলেই মানুষ হয় না, বড় বড় চেয়ারে বসলেই মানুষ হয় না। কখনও কখনও নর্দমার কিটও হয়। মুচিও হয়।