সম্পাদকীয়

সারাদেশে ঈদ উপলক্ষে কালোবাজারি ছেয়ে গেছে

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

কুরবানী ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশে কালোবাজারি ছেয়ে গেছে। কোথায় নেই কালোবাজারি? 

১। গরুর ট্রাক বল প্রয়োগে গরুর বাজারে প্রবেশ করাতে সেচ্চাসেবির নামে মাত্র ১৬ থেকে ২০ বছরের ছেলেরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। 

অবাক ব্যাপার হলো এদের এই কাজে নির্ভুল ফরমেশন প্রয়োগ হয়েছে। কে ট্রাক ধরবে, কে ট্রাককে বাধ্য করবে, গন্ডগোল হলে কারা তাদের সাপোর্টে আসবে, কারা তাদের রেসকিউ করবে ইত্যাদি সব কিছুই নিখুত ভাবে পরিকল্পিত। 

প্রশাসনের নিকট যদি জিজ্ঞাসা করি, আদেও কি প্রশাসনের সাহায্য ছাড়া এটা সম্ভব?  আদেও কি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামিলীগ বা আওয়ামিলীগ সমর্থিত সিন্ডিকেট ছাড়া এসব সম্ভব?  

২। যানবাহনের টিকিটের মূল্য কি নতুন করে কিছু বলার আছে? লোকাল বাস হতে শুরু করে আন্তজেলা বাস সার্ভিস, এছাড়া ঢাকা টু আন্ত নদী সার্ভিস, এরপর ট্রেন।  কোথায় নেই কালোবাজারি?  

চোখের সামনে প্রকাশ্যে ১০০ টাকার ভাড়া ৩০০ টাকা বলে চিৎকার করছে হেলপার। একটু দুরেই প্রশাসনের লোক দাঁড়িয়ে আছে অথচ বলার কেউ নেউ দেখার কেউ নেই।  আন্তজেলা সার্ভিসেতো অতিরিক্ত টাকা ছাড়া সিটই নেই। ট্রেনের কথা বলে কি হবে?  একটি নিরব কালোবাজারি স্থান। 

যদি প্রশ্নকরি আদেও কি সম্ভব প্রশাসনের চোখের বাইরে বসে এসব করা? আওয়ামিলীগ এর ছত্রছায়া ছাড়া আদেও কি সম্ভব বর্তমানে?  

৩। নৌযানের কথা কি আর বলবো,  দল বেঁধে গ্রুপ হয়ে হয়ে  লঞ্চের এক একটি স্থান ভাগ করে নেয় কালোবাজারি সিন্ডিকেট।  

যদি প্রশ্নকরি আদেও কি সম্ভব প্রশাসনের চোখের বাইরে এসব করা?  

কাঁচা,বাজার থেকে কাপড়ের মল কোথায় নেই কালোবাজারি? কোরবানি ঈদে এদের সম্পর্কে নাইবা বললাম।  

প্রশ্নহলো - একটি মুসলিম দেশে কোরবানির মতো বিষয়কে, তার মহাত্মকে, তার শিক্ষাকে যারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়, আর তারা যদি হয় প্রশাসনের কর্তাবাবুরা তাহলে আর চোর,  বদমাস, ছেচড়া এসব চরিত্রের মানুষগুলোকে দোষ দিয়ে কি হবে?  

মাঝে মাঝে মনে হয়, এদের অর্থাৎ এই প্রশাসন এবং দলিয় মানুষগুলোর কি পরিবার নেই?  তারাকি এদের কিছুই বলে না, কিছুই জিজ্ঞাসা,করে না?  একজন গৃহকর্তা কোথায় চাকরি করে তার আয় কতো এটাতো প্রত্যেক পরিবারেই মোটামুটি জানা। এর বাইরে যখন টাকা ঘরে প্রবেশ করে তখনতো পরিবারের মানুষগুলো বুঝতে পারে সার্বিক আচরনে। তখন কি কেউ জিজ্ঞাসা করে না?  

তাহলেকি বলতে হবে সুদ, ঘুষ, চিটিংবাজি, ফাকিবাজি, দুর্নীতি ইত্যাদির টাকায় কোরবানি যেমন তেমন পরিবারের সদস্যরাও বেঁচে আছে?  বা বেড়ে উঠছে?  

হারাম টাকায়, মানুষকে ঠকিয়ে কালোবাজারি টাকায় বেড়ে ওঠা সন্তানগুলো যে খুনি হবে, পঙ্গু হবে, ধ্বংসকারী হবে, মা বাবাকে নির্যাতন কারী হবে, অসামাজিক হবে, মানুষের ক্ষতির জন্যই বেঁচে থাকবে, নেশাখোর হবে, ধর্ষিতা হবে, ধর্ষনকারী হবে সেটাকি একবারের জন্য মনে হয় না? 

মাত্র ১৫/১৬/২০ বছরের ছেলে মেয়েদের এমন সব অন্যায় কাজে ব্যবহার করে প্রশাসন কোন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে? কেন আজ এতটুকু ছেলেমেয়ে ধর্ষন, গুম, খুন, মাথাকাটা, গলাকাটা ইত্যাদি অপরাধের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে সেটার উৎকৃষ্ট উদাহরন হলো - প্রশাসন ২ টাকা মানুষের কাছ থেকে অনৈতিক ভাবে নেবার জন্য ব্যবহার করে এই সব কিশোর তালিকার ছেলে মেয়েদের। পরবর্তীতে কি হয় সেটাতো বাংলাদেশ দেখছে।  

প্রশাসনকে বলছি - সাধারণ মানুষ প্রয়োজনের সময় হয়তো বেশিটাকা খরচ করছে, হয়তো তার মায়ের জন্য বরাদ্দকৃত টাকাটাই সে আপনাদের কারণে দিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, বা তার সন্তানের জামার দামটা আপনাদের ভিক্ষা দিয়ে গেছে একবুক কষ্ট নিয়ে।  বিশ্বাস করুন আপনার সন্তান, আপনার মা, আপনার বাবা, আপনার স্ত্রী ভালো থাকতে পারে না।  আপনি হয়তো নিজেও জানেননা যে আপনার অগোচরেই অনেক কিছুই হারিয়ে যাচ্ছে আপনার সংসার থেকে।  জানেন বোঝেন দেখেন সব কিছুই, কিন্তু বলতে পারেন না কাউকে। 

হ্যা এটাই হলো আপনার কালোবাজারি করে আয় করা টাকার খেসারত এই দুনিয়াতে। পরকালতো আছেই।  ভাববেন না - ফিরিয়ে দিতে হবে সব।  

ইচ্ছা করলেই এসব বন্ধ করা সম্ভব। কিন্তু সেই ইচ্ছাটাই আসলে কেউ করেনা।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একা ইচ্ছা প্রকাশ করেতো কোন লাভ নেই তাইনা?