সম্পাদকীয়

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে - রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে বাঁধায় কঠোর ব্যবস্থা, কিন্তু কার বিরুদ্ধে?

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

সাম্প্রতিক সময়ে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, "রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার পথে কেউ যদি বাঁধা প্রদান করে তাহলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে"।  

বিষয়টি মন্দ নয়। নিসন্দেহে প্রসংসার কথা। কিন্তু আসলেই কি এই ঘোষণা দেবার দরকার ছিলো? নাকি শুরু থেকেই এমনটাই আইন থাকার কথা ছিলো?  

মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো ভুলেই গেছে এটা বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশে জমিজমা বিরোধের জের ধরে প্রকাশ্যে একজন মানুষের উপর চলন্ত ট্রাক উঠিয়ে দেয়া হয়। এটা সেই বাংলাদেশ যে বাংলাদেশে যে কোন টেন্ডারে, যে কোন অবকাঠামো নির্মানে আত্মসাৎ এর অংকের পরিমাণ কতো সেটা আগে অংক কষা হয়। সেইপথে যে কোন বাঁধা উপড়ে ফেলা হয় অস্ত্রের আঘাতে, প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহার করে।  

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এর অনেক কিছুই আপনার কান পর্যন্ত পৌছায় না। পৌছানোর আগেই যা কারবার করার সব শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সকল দায় গিয়ে পড়ে আপনার কাঁধে। 

যাইহোক, আন্তর্জাতিক বিষয় বাদ দিয়ে যদি শুধু নিজের দেশের অবস্থা দেখি তাহলে চোখ কপালে উঠে যায়।  

২০১৮ সালের এপ্রিল মাসের দিকে রোহিঙ্গা নিয়ে সরকারের পাশাপাশি ১১৬টি এনজিও কাজ করছে বলে বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশিত। যাদের অনুমোদিত প্রকল্প সংখ্যা ৩শ’টি। এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো কর্তৃক অনুমোদিত অর্থের পরিমাণ ৭৫৯ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন সংস্থা।  

তারপর থেকে এই পর্যন্ত আরো কতো অর্থ অনুমোদন হয়েছে তার হিসাব নেই। 

সবকিছু বাদ দিয়ে যদি শুধু এনজিওর হিসাব ধরি তাহলে সেখানে ১১৬ টি এনজিওকে জড়িত দেখতে পাই।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ১১৬ টি এনজিও সদর দরজায় দাড়িয়ে কাজ করছে বাংলাদেশে? হাতেগোনা কয়েকটি এনজিও ছাড়া বাংলাদেশে আর যে সকল এনজিও আছে সে সকল এনজিও কারা? কারা তাদের কর্ণধার? এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোতে কাগজে কলমে ছাড়া আর কোথায় তারা কাজ করছে, কি কাজ করছে এসব ডাটাবেইজ আসলেই কি বাংলাদেশের নিকট দৃশ্যমান?  

বাংলাদেশে এতো এনজিও আছে সত্যি বলতে বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ জানেই না। সরকারের খাতায় তাদের অন্তর্ভক্তি কখন কিভাবে এসেছে, কি কাজের জন্য এসেছে, তাদের গঠনতন্ত্র কি, কেউ কিছুই জানে না।  

বাংলাদেশ স্বাধীনতা প্রাপ্তির পরে এতোগুলা এনজিওর পরিচয় আর কোন দিন পাওয়া যায় নি।  অথচ মোটা অংকের বাজেটের পিছনে দাড়িয়ে রয়েছে এই সকল এনজিও। 

এটাই যদি হয় অবস্থা, তাহলে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন?  

যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো চৌকস দল দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছে, সেখানে গুটিকয়েক রোহিঙ্গাকে দেখভাল ও পরিচালনায় নিয়োজিত ১১৬ টি এনজিও, যাদের অস্তিত্ব নিয়েও সন্দেহ দেশের মানুষের মধ্যে।

শুরু থেকে ৪ বিদেশি এনজিও কেন এতো তৎপর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে? কারা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক না করাতে উৎসাহ দিয়ে আসছিলো? কারা রোহিঙ্গাদের ভাষানচরে যাবার জন্য নিরুৎসাহিত করেছে, সরকার রোহিঙ্গাদের ভাষানচরে নিয়ে যেতে চাইলে অনশনে বসার জন্য কারা প্ররোচিত করেছিলো?  

১। কোডেক, 

২। এমডিএস 

৩। মোয়াসসহ ৪টি এনজিও’র বিদেশি কর্মকর্তারা ঘন ঘন বাংলাদেশে আসা-যাওয়া কেন করেছিলেন বা করছেন। এসব বিষয়তো অনেক আগেই সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে। এসব এনজিওতে কর্মরত অধিকাংশ কর্মকর্তা অন অ্যারাইভাল ভিসা অথবা ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসছেন। কিন্তু কেন?  এই সকল এনজিওর সাথে বাংলাদেশের ১১৬ টি এনজিওর কোন সম্পর্ক আছে কি না।  বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কে বা কারা তাদের অনুমোদন দিচ্ছেন?  

আসলে এই সকল বিষয়গুলো সাধারণ মানুষ জানে না।  

সাধারণ মানুষ জানে না - বাংলাদেশের নাগরিক শহিদুল্লাহ ওরফে শহিদ মোয়াস নামক এনজিওর কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

এই শহিদ মাদক ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ও কারাভোগ করেছেন বলে সংবাদপত্রে এসেছে। 

বিদেশি এনজিওর কর্মকর্তারা এসে গোপনে বাড়িভাড়া করে বসবাসের চেষ্টা করেন, কারা তাদের বাসাভাড়া দেয়? কারা রোহিঙ্গাদের হাতে পাসপোর্ট তুলে দেয়?  

এছাড়া বিভিন্ন দেশি বিদেশি মৌলবাদী দলতো আছেই, যারা রিতীমত আদাজল খেয়ে লেগেই আছে। 

চট্টগ্রামের মাদক সিন্ডিকেটতো হাতে স্বর্গ পেয়েছে রোহিঙ্গাদের পেয়ে। তাহলে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন?  

এতোসব সুযোগে কেনই বা রোহিঙ্গা ফেরত যেতে চাইবে?  

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখনও সময় আছে, সকল এনজিও, সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অপসারণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করুন রোহিঙ্গাদের। সেনাবাহিনী জানে কিভাবে রোহিঙ্গাদের ভাল রাখা যায়। কম্বোডিয়া, হাইতি, পূর্ব তিমুরের মতো দেশ যদি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গঠন করে দিয়ে আসতে পারে, গুটিকয়েক রোহিঙ্গা সোজাপথে রাখতে তারাই একমাত্র মাধ্যম।  

আপনি এমন সিদ্ধান্ত যদি নিতে চান, তখনই দেখবেন এই দেশের মধ্যেই তার বিরোধীগ্রুপ দাড়িয়ে গেছে। নিসন্দেহে বলা যায় সেই গ্রুপটাই চায়না রোহিঙ্গা ফিরে যাক। ১১৬ টি এনজিও এতো বড়ো টাকা উৎপাদনের মেশিন কেন যেতে দিতে চাইবে? কেন বিদেশি এনজিও চাইবে তাদের ফেরৎ পাঠাতে যেখানে আপনাকেই তারা বিরোধিতা করে?  কেন মাদক সিন্ডিকেট চাইবে রোহিঙ্গা ফিরে যাক, এতো বড়ো কর্মি বহর কোথায় পাবে তারা? কেন মৌলবাদী দল রোহিঙ্গা ফেরৎ যেতে দেবে?  কারণ মৌলবাদীর সকল ঘাটি আপনি নিজেই ধ্বংস করেছেন। 

অন্যদিকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান চীন থেকে আশ্বাস নিয়ে এসেছে যে, রোহিঙ্গাদের উপর যেন চাপ সৃষ্টি না হয়।  

এতো সবের মধ্যে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন? আদেও পারবেন কি? 

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান হয়ে যাবে মুহুর্তে যদি সকল বেসরকারি মাধ্যম সরিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি একমাত্র ব্যক্তি যার নিকটে ক্লু তুলে ধরা যায়। আপনি নিশ্চই আপনার মতো করে বিশ্লেষণ করে সঠিক পদক্ষেপ নেবেন।