সম্পাদকীয়

বঙ্গবন্ধু হতে শেখ হাসিনা এরপর কাণ্ডারি পুতুল?

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০১৯ |

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

আমি আমার লেখায় প্রায়ই লিখে থাকি, বঙ্গবন্ধু যদি থাকতেন তাহলে শেখ হাসিনার রাজনীতির দিকে তাকিয়ে শুধু অবাক হতেন না, নিজে পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে মূলত বাবা হিসাবে জয়টা তার নিজের দিকেই রাখতেন। 

মনে প্রাণে চাই শেখ হাসিনা সুস্থ থাকুন এবং যতদিন সম্ভব হয় বাংলাদেশের জন্য রাজনীতিতে মূল কাণ্ডারী হয়েই থাকুন।  কিন্তু পৃথিবী তার নিয়মের বাইরে চলবে না। একটা সময় গিয়ে কাউকে থামিয়ে দিয়ে ঝান্ডা তুলে দেবেন অন্য কারো হাতে।  

সেই দিক বিবেচনায় রেখেই কিছু জিজ্ঞাসাতো এসেই যায়। কে হতে যাচ্ছে আওয়ামিলীগের কান্ডারি? বঙ্গবন্ধু এরপর শেখ হাসিনা তারপর কে?  

সজিব ওয়াজেদ জয়কে যদি সামনে এনে দেখি তাহলে দেখতে পাই সে যতটা না টেকনিক্যাল বিষয়ে আগ্রহী তার চেয়ে কম আগ্রহী রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে। 

শেখ হাসিনাকেও দেখিনি তিনি ছেলেকে আগ্রহী করে তোলার চেষ্টায় আছেন। তাহলে কে হতে যাচ্ছে কাণ্ডারি?

অতি সংক্ষেপে যদি দেখি তাহলে দেখতে পাই ইদানিংকালে প্রধানমন্ত্রী কন্যা সায়মা ওয়াজেদ কয়েক ধাপ এগিয়ে রয়েছেন। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অনেকটা তেমন ইঙ্গিত দেয়।  

পুতুলকেই দেখা যায় সার্বক্ষণিক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। রাজনীতির পাঠ নিতে নিজের মায়েরচেয়ে বড় শিক্ষক আর কেই বা আছে। ভালো একজন বক্তার পাশাপাশি সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত।

তার ঝুলিতে রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের একজন সদস্যের খেতাব এবং তিনি একজন সনদপ্রাপ্ত মনোবিজ্ঞানী।

সায়মা ওয়াজেদ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি, ২০০২ সালে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি  লাভ করেন, ২০০৪ সালে স্কুল সাইকোলজির ওপর বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি লাভ করেন। ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় তিনি বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নের ওপর গবেষণা করেন। এ বিষয়ে তার গবেষণাকর্ম ফ্লোরিডার একাডেমি অব সায়েন্স কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সায়েন্টিফিক উপস্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত হয়।

সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম এবং স্নায়বিক জটিলতাসংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর কাজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পেয়েছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পুতুলকে হু অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করে। মনস্তত্ববিদ সায়মা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অটিজম স্পিকস-এর পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেন। তিনি ২০১৩ সালের জুন থেকে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বিশেষজ্ঞ পরামর্শক প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হন ।

তারমানে মানুষ নিয়ে কাজ করা, বা মানুষের মধ্যে কাজ করার এবং নির্দেশক হতে গেলে যে অঙুর দরকার তার অনেকটাই তারমধ্যে বর্তমান। বঙ্গবন্ধুর রক্তের স্রোতধারা পুতুলের মধ্যে বেশ সক্রিয় বলেই অনেকেই মনে করেন। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যেই পুতুলকে নিয়ে রয়েছে আশাব্যঞ্জক ধ্যান ধারণা।  

এখন দেখার বিষয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি ভাবছেন।  

আমরা যারা দূর থেকে অবলোকন করি তিনি সেটা কাছ থেকে দেখেন। তাছাড়া দেখার বা জানার চোখ আমাদের চেয়ে যে তার বেশি সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।  

তবে একটা আক্ষেপ আমাদের মধ্যে কাজ করে সব সময় সেটা হলো আর একজন শেখ হাসিনা আসলেই আমরা কেউ দেখতে পাচ্ছিনা। অপ্রিয় হলেও এটাই সত্য যে, পুতুলকে বাইরে রেখে যদি অন্যদের দিকে দেখি তাহলে শেখ হাসিনার ধারে কাছেও আসার মতো কাউকেই দেখতে পাইনা।  

বাংলাদেশে বর্তমান নেতাদের মধ্যে যদি খুজি তাহলে মনে হবে বিকল্প শেখ হাসিনাকে নয়, বিরল প্রজাতির অন্যকিছু খুজে চলেছি।  

আর তাই এই মুহুর্তে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের দিকেই ভবিষ্যতের কান্ডারি হিসাবে নির্দেশ করছে বলেই অনেকের ধারনা।  

তবে ধারণা যাইহোক, যোগ্য তেমন কাউকেই চাই, যে হবে আগামীর বাংলাদেশের কারিগর। আর সেই জন্য অবশ্যই তাকে হতে হবে চ্যালেঞ্জিং, দৃঢ়চেতা,নির্ভীক, আপোষহীন এবং মানবিক। 

তেমনটাই আশাকরি আমরা। বাংলাদেশ সেটাই আশাকরে। 

তবে একথা সত্য শেখ হাসিনার বিকল্প বলে কিছু হবে কিনা এই বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।