সম্পাদকীয়

ধারাবাহিক

বঙ্গবন্ধু চলে গেছে সেটা লিখব না, "লিখবো বাঙালি তাকে হত্যা করেছে"

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

না, আমি ইতিহাস লিখবো না। কারণ আমি ইতিহাসবিদ নই। আমি এটাও লিখবো না বঙ্গবন্ধু চলে গেছে, "আমি লিখবো বাঙালি তাকে হত্যা করেছে"। 

কোথাও একটা কথা পড়েছিলাম, ঠিক মনে করতে পারছিনা। লেখা ছিলো, "এমন একটি মাথা কেটে ফেলতে এক মূহুর্ত যথেষ্ট, কিন্তু এমন একটি মাথা হাজার বছরেও জন্ম নেয় না"। 

কথাটা সেদিন অনুধাবন করতে না পারলেও আজ বুঝতে পারি বঙ্গবন্ধুকে সত্যি খুব দরকার ছিলো সেদিন যেদিন পূর্ব পাকিস্তান ছিলো বৈষম্যের শিকার।  এমন একটি নেতৃত্ব সেদিন যদি জন্ম না নিতো তাহলে কি হতো সেটা বলা খুব মুশকিল।  

চোখটা ভালো করে মেলে দেখুন একবার, আজন্মের দিক হারা রোহিঙ্গাদের দিকে, জন্মের ইতিহাসের পর থেকে আজ অবধি উদবাস্তু রয়েই গেলো। মাথা উঁচু করতে পারেনি শুধু তাদের একজন বঙ্গবন্ধু ছিল না বলে। প্রায় শত বছর ধরে শুধু মরেই চলেছে। 

তাকান আজকের কাশ্মীরের দিকে, তারাও হয়তো পারবে না। স্বার্থের অন্ধকার গলিতে আলোর মশাল হাতে তারাও খুঁজে পায়নি একজন বঙ্গবন্ধুকে। তারাও শুধু মরেই চলেছে। মাথা উঁচু করতে পারেনি। 

তাকান ফিলিস্তিনের দিকে, তারাও একজন বঙ্গবন্ধু খুঁজে পায়নি, আর পায়নি বলেই চারপাশের নির্মম চাঁপে দিশেহারা হয়ে জীবন দিয়েই চলেছে। 

হ্যা, ইয়াসির আরাফাতকে তারা পেয়েছিলো, কিন্তু বেচারা শেষ অবধি কুলিয়ে উঠতে সক্ষম হয়নি। বয়সের চাপে তাকে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। 

কিন্তু পূর্ব পাকিস্তান পেয়েছিলো একজন বঙ্গবন্ধু।  পেয়েছিলো বলতে অনেকটা সহজ রাস্তায়, অনেকটা আরাম আয়েশে দুলকি চালেই তাকে পেয়েছিলো পূর্ব পাকিস্তান। আর তাইতো বাংলাদেশ হয়েছিলো।  

কিন্তু বিজ্ঞানের থিওরি বলে, যে বস্তু অতি সহজে গরম হয়, সেই বস্তু ঠান্ডাও হয় অতি দ্রুত। জেনারেল থিওরি বলে, যে বস্তু সহজে পাওয়া যায় তার কোন দাম থাকে না।  তাছাড়া বাঙালিদের প্রবাদতো আছেই, বাঙালি দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বোঝে না।  

রোহিঙ্গা, কাশ্মীর, ফিলিস্তিন এই তিনটি উদাহরণের দিকে একটু ভালো করে চোখ রাখুন তখন দেখতে পাবেন সেখানে একজন বঙ্গবন্ধু খুঁজে পাওয়া যায়নি বা জন্ম নেয়নি যুগের পর যুগে, এমনকি শতাব্দীতেও।  কিন্তু ভালো করে লক্ষ করুন দেখবেন সেখানে বঙ্গবন্ধুর মতো একজন হতে পারেনি তার প্রধান কারণ, যখনি চারপাশের স্বার্থের দুনিয়া কাউকে দেখেছে বঙ্গবন্ধুর মতো মাথা উঁচু করতে, সাথে সাথে সেই মাথাটি ছেটে দেয়া হয়েছে। ভূলন্ঠিত করা হয়েছে তার মস্তক।  কিন্তু যদি লক্ষ করেন ভালো করে, সেই মস্তক ভূলন্ঠিত করেনি রোহিঙ্গার কেউ বা কাশ্মীরের কেউ বা ফিলিস্তিনের কেউ। সেই মাথা ছেটে ফেলেছে তার চারপাশের স্বার্থের দুনিয়া।  

অথচ আমরা বাঙালি, আমরা বাংলাদেশি, আমরাই আমাদের বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছি। সেটাও আবার স্বপরিবারে। কতোবড় বেঈমানের জাত আমরা। আমরা নিজেদের হাত রক্তাক্ত করেছি আমাদেরই বঙ্গবন্ধুর রক্তে। তার প্রধান কারণ আমরা অতি সহজে তাকে পেয়েছিলাম, না চাইতেই তিনি সামনে এসে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে। আর তাইতো আমরা পেরেছি নিজেদের বেঈমান পরিচয়ে পরিচিত করতে। 

আমরা বিক্রি হয়ে গিয়েছিলাম কারণ আমরা নিজেকে বিক্রি করতে খুব ভালোবাসি। 


চলবে ------

আরও পড়ুনঃ  


নয়ন সমুখে তুমি নাই

একজন নেতা , একটি কবর এবং একটি গ্রাম