সম্পাদকীয়

পদ্মা সেতু ও মানুষের রক্ত নিয়ে ভয়াভয় গুজবের থাবায় বাংলাদেশ!

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

অসম্ভব রকম ভয়াবহ এক গুজবের মরণ থাবায় এখন বাংলাদেশ।  

"নবনির্মিত পদ্মাসেতুতে মানুষের রক্ত দিতে হবে" এমন কথা চারদিকে প্রচার করে রিতীমত জেঁকে বসেছে মানুষ পাচারকারী ও মানুষের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পাচারকারী মহল।  অনেকটা নিভৃতে কাজ করে যাওয়া এই মহলটি বৃহৎ কোন স্থাপনা বা সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট তৈরিকালে এমন বিষয়কে পুজি করে চেষ্টা করে নির্ধারিত এলাকা বা এলাকার বাইরে থেকে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের গুম করতে।  

কোন স্থাপনায় মানুষের রক্ত দিতে হয় এমন ফেক, বানোয়াড, ধর্মিয় বিধিবিধান বহির্ভূত, আইন বহির্ভূত বিষয়ের উত্থান অনেকটাই চীনাদের বিশ্বাস থেকে।  চীনারা বিশ্বাস করে যে, কোন নির্মান কাজ পশুর রক্ত দিয়ে শুরু করলে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি মেলে এবং বিপদমুক্ত অবস্থায় কাজটি শেষ করা যায়।  যার প্রমাণ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এসেছে যখন পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হয় তখন।  

সংবাদে এসেছে পদ্মা সেতুর কাজের শুরুতে গরু, ছাগল জবাই করে তার রক্ত পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে, কয়েকটি মুরগীও ছেড়ে দেয়া হয়েছে, সেই সাথে গরুর পা পানিতে নিক্ষেপ করা হয়েছে।  অবশ্য গরু ছাগলের মাংস চীনারা রান্না করেই খেয়েছে।  

শুধু চীন কেন, বাংলাদেশেও বেশ আগে এমন কুসংস্কারে বিশ্বাসী ছিলো। যার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন ভাবে। পুকুর, কুয়া ইত্যাদি খনন কালে সেখানে পশুর রক্ত ব্যবহার করতো।  কিন্তু কোন অবস্থাতেই মানুষের মাথা বা রক্ত নয়।  

এমন কুসংস্কার যে বিশ্বাস করবে সে প্রচন্ড ভাবে গুনাহের ভাগিদার হবে। চীনারা যে বিশ্বাসে বিশ্বাসী সেখানে তারা পশুর রক্তে বিশ্বাসী। এই যুগে এসেও তাদের এই বিশ্বাস একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।  

কিন্তু সেই ঘটনা ঘটে কাজের শুরুতে।  মাঝপথে বা শেষে নয়।  

তাহলে আজ সারাদেশে মানুষের রক্ত, মানুষের মাথা চায় পদ্মা সেতু এই প্রচার কোথা থেকে এলো?  

বিভিন্ন মাধ্যমে, সোস্যাল মিডিয়াতে ছোট ছোট বাচ্চা ধরে নিয়ে যাওয়া বা চেষ্টার কথা ভাসছে। 

কারা এই প্রচার চালিয়ে বাংলাদেশ এবং সরকারকে বিভ্রান্ত করছে? এলাকার মানুষদের ভিতির মধ্যে ফেলছে?  

এমন বিভৎস গুজবের জন্ম স্থান সনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরী।  নিসন্দেহে বলা যায়, অনেকটা লুকায়িত অবস্থায় মানুষের শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যবসা করা দল জেগে উঠেছে।  নিজেদের কাজ নির্বিগ্নে করতে একটি কুসংস্কারকে পুঁজি করে নিজেদের নিরাপদ করতে চাইছে।  

বলতেই হয় কোথায় সরকারের আইটি ইনভেস্টিগেশন? কি করছে তারা? এতো এতো ডিজিটাল যন্ত্রপাতির কথা বললেও গুজব সৃষ্টিকারী দল কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়াতে কাজ করছে?  

প্রশ্নগুলি অতি বিবেচনায় নিতে অনুরোধ করছি।  বাংলাদেশকে অশান্ত করতে চারদিক থেকে এটাক আসছে। যদিও স্থায়িত্ব পাচ্ছে না।  কিন্তু স্থায়িত্ব পাবে না এটা ভেবে নেয়া বোকামি নয়কি?  শত্রুকে দুর্বল ভাবার মতো কাজ সরকার করবে না সেই আশায় অতি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করছি।।