সম্পাদকীয়

'প্রিয়া সাহা' জামায়াতেরই ভিন্ন এক ভার্সন!

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ২০ জুলাই ২০১৯

সাব্বীর খান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের নাগরিক প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে বক্তব্য দিয়েছেন তা শুধু মিথ্যাচারই নয়; একই সাথে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু, বিশেষ করে সাধারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর এবং বিপদজনক। প্রিয়া সাহা আপামর সাধারণ হিন্দুদের অনুমতি না নিয়ে সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে যে মিথ্যাচারটি করেছেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশে মৌলবাদের আগুনে ঘি ঢালারই নামান্তর। অথচ সাধারণ হিন্দু বা অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এব্যাপারে কোন সম্পৃক্ততা নেই।

আল-কায়েদা যখন আমেরিকায় হামলা করে টুইন-টাওয়ার ধ্বংস করেছিলো, তখন মুসলমান বাংলাদেশী প্রবাসীরা কত ভাবে যে পশ্চিমাদের রোষানলে পড়েছিলো, তা ভাষায় বর্ননাতীত। বিশ্বের যে কোন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশীরা সে দেশের নাগরিকত্ব নিয়েও সংখ্যালঘিষ্ঠের মত জীবনযাপন করে থাকে, তা-সে যে হোক মুসলমান, হিন্দু অথবা অন্যকোন ধর্মাবলম্বী। এটা আমি গত ত্রিশ বছর ধরে নিজ চোখে দেখে আসছি এবং প্রতিনিয়ত হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। একজন বিন লাদেন অথবা ক্ষুদ্র জঙ্গীগোষ্ঠীর পৈশাচিক কর্মকান্ডের জন্য অন্যদের কথা বাদ দিলেও, প্রবাসী বাংলাদেশী মুসলমানদের যে অবিচারের সম্মুখিন হতে হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে, তা তুলনাহীণ এবং নিঃসন্দেহে দুঃখজনক।

প্রিয়া সাহা যা করেছেন, তার পেছনের ব্যক্তিগুলো আমার অচেনা নয়। সংখ্যায় তাঁরা কম হলেও এ ধরণের দেশবিরোধী কাজে তাঁরা লিপ্ত আছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাঁদের কেউ কেউ বাংলাদেশের ভিতরে থাকেন, আর বাকিরা থাকেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। তাঁরা বিভিন্ন নামধারী সংগঠনের আওতায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকান্ড দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে থাকেন। এদের অর্থ এবং লবিংয়ের জোর অত্যন্ত শক্ত এবং তাঁদের যোগাযোগ ভারতের কিছু উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠনের সাথে, যাদের বিশ্বের যে কোন জঙ্গী-মৌলবাদী সংগঠনের সাথে নির্দ্বিধায় তুলনা করা যেতে পারে।

এসব সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের প্রত্যক্ষ্য উস্কানী ও সহযোগীতায়ই প্রিয়া সাহা অত্যন্ত নোংরা কাজটি করেছেন নিজের দেশের বিরুদ্ধে। তাঁর এই নোংরামীর দায় বাংলাদেশের সাধারণ কোন হিন্দু বা অন্য কোন সংখ্যালঘিষ্ট সম্প্রদায় বহন করেন না। দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার বিদেশের মাটিতে শুধু জামায়াত-বিএনপিই করে না, এ ধরণের "প্রিয়া সাহারা" অনবরত করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘিষ্ঠের মানুষেরা এদের নোংরা কর্মকান্ডের দায়ভার নেয় না। এসব রাষ্ট্রদ্রোহীদের প্রতিহতের জন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষকে এক ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না 'বাংলাদেশ কোন একক জনগোষ্ঠীর নয়; বাংলাদেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার'।