সম্পাদকীয়

প্রিয়া সাহা ধর্মান্ধতার কোথায় আঘাত করলো?

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯     আপডেট: ১৯ জুলাই ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দেশের বিরুদ্ধে  বিচার দিয়েছে; বাংলাদেশে ৩৭ মিলিয়ন সংখ্যালঘু গুম হয়েছে, এখনও ১৮ মিলিয়ন সংখ্যালঘু আছে৷ তার বাড়িঘর ও নাকি মুসলিম মৌলবাদীরা দখল করে নিয়েছে এবং আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। 

সে ট্রাম্পের নিকট প্রায় কাঁদো কাঁদো ভাবে জানিয়েছে সরকারের সহায়তায় নাকি এসব হচ্ছে!

ভারতের মুসলমানদের উপর হিন্দু সম্প্রদায়ের নির্যাতনকে বৈধতা দিতে প্রায় ৯৫ শতাংশ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে আসলে কোথায় আঘাত করতে হবে, সেটা বুঝে শুনেই প্রিয়া সাহা হয়তো মাঠে নেমেছে।

একদিকে "ইসকন" স্কুলে স্কুলে খাবার বিতরণ করে, ছোট ছোট প্রায় শতভাগ মুসলিম বাচ্চাদের হিন্দু মন্ত্র পাঠ করাচ্ছে, অন্যদিকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের নিকট গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে ষঢ়যন্ত্র করছে, কারণটা কি?  

কারণকি এটাই যে, কোন ভাবে প্রায় শতভাগ মুসলমানের ইগোতে আঘাত করে তাদের জাগিয়ে তুলতে পারলে তারা হামলে পড়বে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর? 

প্রিয়া সাহা যদি সাথে ভারতে মুসলমানদের উপর বল প্রয়োগে "জয় শ্রিরাম" পাঠ করানো হচ্ছে এবং যদি সে না পাঠ করতে চায় তাহলে তাকে হত্যা করা হচ্ছে, বা রক্তাক্ত করা হচ্ছে বলতো, তাহলে বুঝা যেতো তার সততার কথা। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে যে ঘটনার জন্ম হয়নি, সাম্প্রতিক সময়ে সেই ঘটনার মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে কি বুঝাতে চাইলেন? কাদের উস্কে দিতে চাইলেন? 

তিনি সরাসরি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার কথা উল্লেখ করে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েন। নিঃসন্দেহে এটি একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মুলক অপরাধ।  রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে তাকে অবশ্যই রাষ্ট্রদ্রোহি হিসাবে গন্য করা উচিত।  

বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে শতাংশ হিসাবে হিন্দুদেরই অগ্রাধিকার কাজ করছে বলে দৃশ্যমান। সরকারি বেসরকারী মিলে দেশের চাকুরিতে শতাংশ হিসাবে হিন্দু বা অন্য ধর্মের মানুষ এগিয়ে আছে। 

ভারতে বিদেশি রেমিটেন্স এর প্রায় বৃহৎ অংশ যায় বাংলাদেশ থেকে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের জন্য ভারতে প্রবেশাধিকার অনেক সীমিত। 

প্রিয়া সাহা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশে বসে ভারতের উগ্রবাদী এজেন্ডার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে অনেকের ধারণা। 

বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চারদিক থেকে চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। বাংলাদেশের মুসলমান কতটা ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছে শুধুমাত্র নিজের দেশের স্বার্থে সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা।  সরকারও তার চৌকশ দক্ষতায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা মামলা বন্ধ করতে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। কিছু কিছু অতি উৎসাহী বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া, বাংলাদেশে উল্লেখ করার মতো সাম্প্রতিক সময়ে তেমন কোন ঘটনার জন্মই হয়নি।  অথচ; প্রিয়া সাহা চলেগেলেন ট্রাম্পের নিকট। 

লাখ টাকার প্রশ্নঃ বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা কিভাবে ট্রাম্প সাহেবের সামনে উপস্থিত হলেন? মার্কিন প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত পৌছাতে প্রিয়া সাহা কোন শক্তি ধারণ করেন?  এতো গেন্দু চাচার পানের দোকান নয় যে দৌড়ে গিয়ে মিষ্টি পান কিনে আনা যায়। 

বিষয়টি জানার বিষয় নয় কি?  

কি লাভ ট্রাম্পের নিকট বিচার চেয়ে? কি ক্ষমতা আছে ট্রাম্পের একটি স্বাধীন দেশে হস্তক্ষেপ করার?  যদি তেমন কিছু হয়েই থাকে, বাংলাদেশের আইন আদালত কি উঠে গেছে? নাকি বন্ধ হয়ে রয়েছে?  

ওহ ভুলেই গিয়েছিলাম প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি যে এখন আমেরিকায়।  

প্রশাসন নিশ্চই তার প্রতি দৃষ্টি রাখবেন, এবং বাংলাদেশে সংখ্যা লঘু বা গুরু কোন স্থান যেন অস্থিতিশীল না হয়ে ওঠে, সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।