সম্পাদকীয়

৩০ এ ৩.৫ তবুও ভিকারুন্নেছার অধ্যক্ষ বানিজ্যে এগিয়ে জনাব বাছিরের স্ত্রী!!

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০১৯ |

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

এ কোন দেশ? কোথায় আছি আমরা? এখানেও কি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এসে বসে থাকতে হবে? 

কিসের দুদুক কিসের কি, এতো দেখছি সব এক গোয়ালের গরু।  

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি কাকে কোথায় বসাবেন? সারাদেশে নিউজ ছড়িয়ে গেছে দুদুক কর্মকর্তা জনাব বাছির সাহেব ৩০ লক্ষ টাকা ঘূষ নিয়েছে, তাও আবার পুলিশের ডি আই জি সাহেবের নিকট হতে। ঘুষ কেনই বা দুদুক কর্মকর্তা নেবেন, আর কেনই বা একজন ডি আই জি ঘুষ দেবেন।  এই দুইয়ের মাঝখানে যা ঘটেছে সেটাই বা কতটা দুর্নীতি দ্বারা আবৃত? আসলে সত্য কি আর মিথ্যা কি সব কেমন যেন গুলিয়ে যাচ্ছে। 

অন্যদিকে ভিকারুন্নেছা গভর্নিং বডি জানেই না, রুমানা শাহীন শেফা তিনি দুদুক কর্মকর্তা বাছির সাহেবের স্ত্রী। সবাই  জানলো তখন যখন বাছির সাহেব মাইনকা চিপায় পড়েছে। 

বিষয়টি কেমন হয়ে গেলো না? আবেদন পত্রে এমন একজন মানুষের স্ত্রী তার স্বামীর স্থানে জ্বল জ্বলে কালি দিয়ে লিখেছিলো জনাব বাছিরের নাম, তাছাড়া তিনি আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে থেকে শিক্ষকতা রেখে এসেছিলেন ভিকারুন্নেছাতে অধ্যক্ষ পোষ্টে নিয়োগ পেতে।

অথচ কেউ গভর্নিং বডি সহ কেউ জানতেন না তিনি জনাব বাছির সাহেবের স্ত্রী।  

হাস্যকর বললেও ভূল হবে। সবাই বলাবলি করছে, ঠিক কত টাকার বিনিময়ে গভর্নিং বডি সহ অনেকেই না জানার ভান করে ছিলেন? এবং নির্বাচনী পরিক্ষায় ৩০ নম্বরের মধ্যে ৩.৫ পেয়েও অধ্যক্ষ নির্বাচিত হলেন?  

আমরা আদার ব্যাপারি, জাহাজের খবর রেখে কি বা করতে পারি।  তবে এটুকু বলতে পারি কে রাম আর কে হনুমান সব মিলে মিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। দুর্নীতির শিকড় রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। 

কেন দুদুক প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনার পরেও নড়াচড়া দেয় না সেটাই দেশের মানুষ দেখছে আর মুচকি মুচকি হাসছে আর বলছে - আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চোরের খনি নিয়ে বসে নেই শুধু, তার চারদিকে ছ্যাচড়া, নির্লজ্জ, ভয়ংকর ডাকাতের খনি নিয়ে বসে আছে। 

এরাই আবার সমাজ সংস্কারের কথা বলে, এরাই আবার দেশের চালিকা শক্তি।  

ধুর ধুর ঘেন্না ধরে গেছে এসব দেখে শুনে।  এরচেয়ে মঙ্গল গ্রহে চলে যাওয়াই ভালো।  

তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনার পর এবং প্রযুক্তি নির্ভরতা আসার ফলে এসব চোর ডাকাত খুনিদের সব খবর টয়লেটের গন্ধের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে সহজে। 

মানুষ এটুকু বুঝতে পারছে, এরা সবাই অনেক দিনের পাপি। আগে মানুষ জানতে পারেনি। এখন জানতে পারছে। 

মানিনীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি সফল হবেনই। যা কিছু হচ্ছে এটা আপনার সফলতার জন্যই হচ্ছে, আপাততঃ এর প্রভাব নেতিবাচক হলেও মনে হচ্ছে এসব আবাদ অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে। পীপিলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে। কথাটা মিথ্যা নয়। 

ততোদিন আমাদের সব দেখে যেতে হবে এই যা।