সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গা এখন "বিষাক্ত বৃক্ষ "

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০১৯

মোঃ তৈমুর মল্লিক ভূঁইয়া, উপ-সম্পাদক ■ বাংলাদেশ প্রেস

আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই শংকা প্রকাশ করছেন রোহিঙ্গা নিয়ে। তিনি বলছেন রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশের নিরাপত্তা প্রশ্নে ঝুকিপূর্ণ।  


দুনিয়ার সবচেয়ে বড় শরনার্থী শিবির নিয়ে বাংলাদেশ এখন ডেঞ্জার জোনে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে।  

রোহিঙ্গা নামক একটি গোষ্ঠির উপর মিয়ানমার হামলা করলো, তাদের বাধ্যতামূলক ভাবে দেশ ত্যাগে বাধ্য করলো। মানবিক পরিচয় দয়ে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বের বাহবা কুড়িয়ে নিলো।  

জাতিসংঘ থেকে শুরু করে মাথা ধরা সকল দেশ বড় বড় বুলিতে যখন সকল মিডিয়া কাঁপিয়ে তুললো, তখনই লিখেছিলাম বাংলাদেশ একটি পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ফেললো শুধু মানবতাকে সুরক্ষিত করতে গিয়ে। মায়ের চেয়ে মাসীর দরদের মতো উৎলে উঠলো বাংলাদেশের ধর্ম ব্যবসায়ী কিছু মানুষের হৃদয়। তারা রোহিঙ্গাদের জন্য চলো যুদ্ধে যাই বলেও স্লোগান দিতে শুরু করলো।  


বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চেষ্টার শেষটা দিয়ে জাতিসংঘ থেকে শুরু করে সকল আন্তর্জাতিক মহলে দৌড়ে বেড়ালো তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেবার জন্য।  কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের সকল কিছুই প্রমাণ করে দিয়েছে যে, রোহিঙ্গা নামক একটি শরনার্থী দল বাংলাদেশে থাকুক এবং বেশ শক্ত ভাবেই থাকুক। আর তাই কালশাপ অং সাং সুচী ও জেনারেল মিং অন লাইং এর মানুষ হত্যার দায়ে বিচার দূরে থাক তারা হয়তো পুরুষ্কৃত হবেন চীন, আমেরিকা, রাশিয়া, ভারত, তুরষ্ক, সৌদী আরব, ইত্যাদি রাষ্ট্র কর্তৃক।  


যাইহোক এসব নিয়ে কম লেখালেখি হয়নি।  কম বলাবলি হয়নি।  আমি নিজেও পাতার পর পাতা লিখেছি মিডয়াতে। রোহিঙ্গা আক্রমনের ২ মাসের মধ্যে একটি বই লিখে ফেললাম।  সেখানে লিখেছিলাম হয়তো আমরা পেয়ে গেলাম বিহারিদের মতো একটি সম্প্রদায়।  যাদের আজীবন লালন করতে হবে।  তবে বিহারিদের অনেকটা শান্তভাবে থাকতে দেখলেও এই রোহিঙ্গা ব্যবহৃত হবে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের চেয়ে বিপদজনক ভাবে।  যাকে তুলনা করা যায় HE 36 Hand Grande এর সাথে।  নিজে বিস্ফোরিত হয়ে সে অন্যদের ধ্বংস করবে।  একেবারে আত্মঘাতি হামলা কারির মতো।  এর মুল কারণ বাইরের দেশের কেউ নয়, বাংলাদেশের মানুষই তাকে বা তাদের ব্যবহার করবে নিজেদের স্বার্থে। 


সময় বেশিদিন পার হয়নি, কয়েকমাস যেতে না যেতেই তার প্রমাণ পাওয়া শুরু হয়ে গেলো।  

রোহিঙ্গাদের দেয়া বা তাদের জন্য আগত ত্রানের সবচেয়ে বড় ডিলার হলো বাঙালি , সবচেয়ে বড় চোর হল বাঙালি, সবেচেয়ে বড় ডাকাত হলো বাঙালি। খোলা মার্কেটে রোহিঙ্গাদের ত্রান দেখে মনো হলো, ভিখারি রোহিঙ্গা নয়, ভিখারি হলো বাঙালি।  

অথচ দেখেন তার কোন প্রতিকার দৃশ্যমান হয়নি, কাউকে বিচার করে জনগণকে বলা হয়নি আমরা এই জাতিয় অপরাধকে পশ্রয় দেই না।  


কিছুদিনের মধ্যে রোহিঙ্গা মেয়েদের দিয়ে দেহ ব্যবসা শুরু হয়েগেলো, তাদের ডিলার সেইতো বাঙালি,  রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরি হলো, তারা বিদেশে যাবার জন্য বিমানবন্দরে।  হয়তো চলেও গেছে অনেকে।  

কি বলতে চান আপনারা?  এমন একটি রাষ্ট্রীয় দলিল তৈরি হয়েগেলো, অথচ পুলিশ, গোয়েন্দা, প্রশাসন কেউ জানে না?  বড্ড বিনোদনের বিষয় এই সকল অধ্যায়। 

রোহিঙ্গাদের মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার মোবাইল সেট, তৈরি হয়েছে ইন্টারনাল নেটওয়ার্ক। আপনারা কি বলতে চান, এসবই হয়েছে বাঙালিদের দৃষ্টির বাইরে?  মজার বিনোদন তাইনা।  

রোহিঙ্গাদের হাতে উঠেছে অস্ত্র, তৈরি হয়েছে নেতৃত্ব, গ্রুপ গ্রুপ দলের আত্নপরিচয়ের খবরও আসছে।  আপনারা কি বলতে চান এসবই হয়েছে প্রশাসনের দৃষ্টির বাইরে?  

যদি তাই হয় তাহলে সামান্য ৮/১০ লক্ষ মানুষকে যদি মনিটারিং করার ক্ষমতা না রাখি তাহলে কিসের বড়াই করি আমরা?  

আমরা যদি দেখতে পাই সারা দেশের সহিংসতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রায় নাই করে দিয়েছেন, সেখানে সেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন সংশয়ের কথা তখন বলতেই হয় কারা সেই ২য় পক্ষ বা ৩য় পক্ষ বাঙালি যারা নিজেদের স্বার্থে আমাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল?  কারা এই গোষ্ঠিকে সমগ্র পার্বত্য এলাকায় ছড়িয়ে দিচ্ছে, পূনর্বাসন করছে?  


বলতে দ্বিধা নেই, যারা মিয়ানমার থেকে, ইন্ডিয়া থেকে, বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক এনে নিজের দেশকে করতে পারে মাদকাসক্ত, সেই ব্যক্তিগণ মাদক ব্যবসা হারিয়ে মিয়ানমারের নিকট বিক্রি হয়নি সেটা কে বলেছে? যারা বিদেশ থেকে মল-মুত্র আমদানি করে, চুরি করে এনে দেশের মানুষকে মল-মুত্র খাওয়ানোর ব্যবসা করতে পারে, তাদের বৃহৎ কোন অংশ মিয়ানমার, চীন, ভারত, আমেরিকার নিকট বিক্রি হয়নি সে কথা কে বলেছে?  

আরো সহজ ভাবেই বলা যায় তাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়, তারা কেউ রাস্তার রিক্সাওয়ালা নয়, দিনমজুর নয়। এরা প্রত্যেকেই বসে আছে এই দেশের হয় প্রশাসনের মধ্যে, অথবা তার আশে পাশেই। একটু ভাল করে খুজলেই হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মনের মধ্যে যে শঙ্কা জেগে উঠেছে সেটা আর থাকবে না।  

১০/২০ লক্ষ লোক মোটেও বেশি নয়, যাদের কেউ ব্যবহার করবে আর আমরা সেটা বুঝতে পারবো না, ধরতে পারবো না।  


আজ রোহিংগা যে স্থানে এসে দাঁড়িয়েছে তাকে দিল্লির সেই প্রচলিত বাক্যিয় লাড্ডুর সাথে তুলনা করা যায়।  যা খেলেও বিপদ, না খেলেও বিপদ।  

আপনি পারবেন না তাকে মারতে, আপনি পারবেন না তাদের নির্যাতন করতে, নির্দিষ্ট অপরাধ ব্যাতিত কোন বেড়াজালে আটকালেই বিদেশিদের কিছু করতে হবে না, এই দেশের সেই বিক্রি হয়ে যাওয়া দালাল সম্প্রদায় তাদের পিতার নিকট খবর পাঠিয়ে দেবে।  

আবার আপনি তাদের মুক্ত স্বাধীনও করতে পারবেন না, তাহলেও সেই দালাল সম্প্রদায় এক হাত এগিয়ে এসে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করবে।  

তাছাড়া বিদেশি চাপতো আছেই। আন্তর্জাতিক বিশ্ব ডাইনি সুচিকে কিছু না বললেও, বাংলাদেশকে ছেড়ে কথা বলবে না। 

রোহিঙ্গাদের হত্যা এটা কোন বিদ্রোহ দমন নয়, এটি পরিকল্পিত একটি বিশ্বনীতি। দক্ষিন এশিয়ায় বাংলাদেশ একটি বিশাল ফ্যাক্টর সেটা আর কেউ না বুঝলেও আমেরিকা, চিন, পাকিস্তান, ভারত বুঝেছে। আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বলুন, আর বাজার তৈরিতে বলুন উভয় দিক দিয়েই বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট।  

সেই স্থানে বাংলাদেশকে উভয় দিক থেকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কখনও ১৫ই আগষ্ট, কখনও সিরিজ বোমা হামলা, কখনও হলি আর্টিজান ট্রাজেডি, কখনও শেখ হাসিনাকে টার্গেট,  কখনও রোহিঙ্গা ট্রাজেডি ইত্যাদি বেছে নেয়া হয়েছে।  

একটু ভাল করে লক্ষ করুন, এর প্রতিটি ধাপেই রয়েছে বাংলাদেশের আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা,বিদেশি কিছু পা চাটা গোলাম, বিদেশিদের নিকট বিক্রি হয়ে যাওয়া কিছু বাঙালি মিরজাফর, বাঙালি বেঈমান।  


কার সাধ্য আছে নিজেদের ঘরে বহিরাগত প্রবেশ করে ক্ষতি করে যাবে যদি কিনা সেই ঘরের বেঈমান কিছু পরশ্রিকাতর সম্প্রদায় সহযোগিতা না করে? 

আজকে রোহিঙ্গাকে নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সংশয় প্রকাশ করেছে সেটি আজকের সংশয় নয়। এই সংশয় অনেক আগেই জন্ম নিয়েছে তার মনে এটা আমার ধারণা। তবে হয়তো তিনি এই ভাবে প্রকাশ করেন নি, কারণ তার একটি বিশ্বাস ছিলো কুটনৈতিক পক্রিয়ায় হয়তো একটা সমাধান হয়ে যাবে।  

সাম্প্রতিক সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি বিদেস সফর এবং তার পর এমন পতিক্রিয়া বলে দেয়, যা তিনি অনেক আগেই ভেবেছিলেন সেখানে আশানুরূপ কোন ইতিবাচক দিক পরিলক্ষিত হবার কোন লক্ষ্মণ নেই।  


লক্ষন থাকার কথাও নয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে কেউ কারো আপন নয় স্বার্থ ছাড়া। এটা,প্রমানিত সত্য।  আর তাই যা করার আমাদেরকেই করতে হবে। 

আমাদের বেঈমান গুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। সেই যেইহোক তার ক্ষেত্রে কোন প্রকার সৌজন্যবোধ থাকার প্রশ্নই ওঠে না,। 


বাংলাদেশের ভূখন্ডে বসে, বাংলাদেশের সম্পদ ভোগ করে যে গিরগিটির দল রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের জন্য তৎপর, যারা,তাদের হাতে অস্ত্র উঠিয়ে দিতে তৎপর, যারা তাদের হাতে পাসপোর্ট তুলে দিতে তৎপর তাদের কোন ক্ষমা নেই।  যে সকল বিদেশি সাংবাদিক বা মানবাধিকার কর্মি রোহিঙ্গা কেন্দ্রিক দায়িত্বপালন করছে তাদের হাতে কোন প্রকার HF ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সীর রেডিও সেট ব্যবহার হচ্ছে কি না, কিম্বা রোহিঙ্গাদের হাতে হফ ব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সীর রেডিও সেট আছে কি না বিষয়টি খোজ নেয়া অতি জরুরি।  

ইন্টারনাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোন প্রকার HF ব্যান্ড রেডিও সেট প্রয়োজন হয়না।  

আমার ধারণা হয়তো HF ব্যান্ডের রেডিও সেট ইতিমধ্যে ব্যবহার হয়েছে বা হচ্ছে। 

ইন্টারনাল যোগাযোগের জন্য VHF ব্যান্ডের রেডিও সেট যথেষ্ট, কারন লাইন অফ সাইড পরিস্কার থাকলে এই রেডিও সেট দ্বারাই ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার যোগাযোগ সম্ভব। প্রয়োজনে রিপিটার ব্যবহার করুক তবে কোন ক্রমেই সেই রিপিটার বর্ডার এলাকার নিকটবর্তী না হয়।  

একটি HF ব্যান্ড রেডিও সেট আন্তমহাদেশিয় যোগাযোগের জন্য প্রযোজ্য।  

অবজ্ঞা করে আমার ধারণা উড়িয়ে দেবেন না।  যে কোন কর্মকান্ডের জন্য যোগাযোগ অতি জরুরি। 

সেই ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের তাৎক্ষণিক যে কোন সংবাদ বাইরে চলে গেলে তাদের প্রতি যে কোন তৎপর সম্প্রদায়ের আদেশ নির্দেশ মুহুর্তেই পাঠাতে সক্ষম হবে। 

রোহিঙ্গাদের মধ্যে ব্যবহৃত মোবাইল সেট এবং সীমকার্ড অবশ্যই নজর দারিতে রাখার জন্য অনুরোধ করছি।  

একটি দেশের প্রধান চালক যখন সংশয় প্রকাশ করে তখন আর সুযোগ সুবিধার প্রশ্নই আসে না।  


আমার দেশ হোক নিরাপদ।  বঙ্গবন্ধু জানেন এই দেশ আনতে কতটা নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে, আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি জানেন আজকের বাংলাদেশকে এই স্থানে আনতে কতটা তেল খড় আপনাকে পোড়াতে হয়েছে। 

আপনি আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার হয়ে নিশ্চই কাউকে সেই সুযোগ দেবেন না, যারা এই দেশকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যাবে ৫০ বছর পিছনে।